শোককে বুকে চেপে মিতারা কিছু বলছেন , ওঁদের কথা কি অামাদের শোনা উচিত নয়?

0
1

একে একে কফিনবন্দি হয়ে বাড়ি ফিরছে ওঁরা। দেশ পাহাড়ার গুরু দায়িত্ব থেকে ওঁরা এখন মুক্ত।ওঁদের এখন অনন্ত বিশ্রাম,বিরামহীন ঘুমের সময়।গোটা দেশ ওঁদের মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন। কেউ কেউ বলছেন তোমরা ঘুমোও,আমরা জেগে আছি,কেউ আবার প্রত্যাঘাতের তীব্র জেহাদ তুলতে আগ্রহী।পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতিতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ শুরু হয়েছে। দেশের সৈনিক মারা গেলে ক্ষোভ যন্ত্রনা হওয়া অস্বাভাবিক নয়,প্রত্যাঘাতের সুতীব্র আখাঙ্কাও কারোর মধ্যে জন্ম নিতে পারে,তবু এখন সতর্ক থাকার সময়,আবেগকে সংযত করার সময়,সমস্যাকে বোঝার সময়,পর্যবেক্ষণ করার সময়। আর এগুলো না করলে আমরা কারোর শোককে ছুঁতে পারবো না,কান্নাকে উপলব্ধি করতে কান্নার কাছে যেতে হয়,তাঁকে স্পর্শ করতে হয়,তাই মৃত জাওয়ানদের পরিবারের হাহাকারকে বুঝতে,তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে,তাদের দাবিকে গ্রাহ্যের মধ্যে আনতে হবে। তাই শোকের প্রাবল্যে হাওড়ার বাবলু সাঁতরার স্ত্রীর আহ্বানকে তলিয়ে দেওয়া অনুচিত। বাবলু সাঁতরার স্ত্রী মিতা যদি বলেন,যুদ্ধ কোন সমাধান নয় তাহলে তাঁর সেই কথাকে মনযোগ দিয়ে শোনার ধৈর্য আমাদের অবশ্যই থাকা উচিত। মনে রাখতে হবে আমরা যারা যুদ্ধ চাই,তাঁরা কেউ যুদ্ধে যাই না,বাবলু সাঁতরার স্ত্রীর অবস্থান একেবারেই সেরকম নয়,রণক্ষেত্র থেকে কফিনবন্দি হয়ে ফিরে আসা স্বামীর মৃতদেহের সামনে দাঁড়িয়ে যে মানুষটি বলতে পারেন,সরকার চাইলে আমিও সেনাবাহিনিতে নাম লেখাতে পারি,দেশের নিরাপত্তার জন্য পাহাড়াদারের দরকার আছে তখন মনে রাখতে হবে যুদ্ধে প্রাণ যাওয়ার ব্যক্তিগত আশঙ্কা থেকে তিনি যুদ্ধকে সমাধান না বলার সিদ্ধান্তে আসেননি।যুদ্ধ যে আসলে ধারাবাহিক ধ্বংস আর ক্ষতির পরম্পরা তৈরি করে সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকেই হয়তো তিনি মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন।যুদ্ধ সমাধান নয়, তাতো বলছেন কার্গিল যুদ্ধে প্রয়াত এক ভারতীয় সৈনিকের কন্যাও। এমন নিদারুণ হত্যাকান্ড যারা ঘটায়,যারা তার নীলনকশা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে,তাদের বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাক। কিন্তু তা যেন আমাদের দৈনন্দিন বেঁচে থাকার নানা সমস্যাকে আড়াল করার ঢাল না হয়ে উঠতে পারে,তা নিশ্চিত করতে হবে আমাদেরকেই। জওয়ানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যাঁরা বলছেন,তোমরা ঘুমোও আমরা জেগে আছি। তাঁরা যেন মনে রাখেন,এই জেগে থাকা মানে চেতনাকে জাগিয়ে রাখা, চেতনা জেগে না থাকলে দেশ বা দেশপ্রেম জেগে থাকতে পারে না।