বামেদের ব্রিগেডে সাঁওতালি ভাষায় ভাষণে নজর কাড়লেন দেবলীনা হেমব্রম

সভায় বক্তব্য রাখার মত আকর্ষণীয় কোন মুখ নেই,বামেদের ব্রিগেড সভা ঘিরে এই আলোচনা কয়েকদিন দিন ধরেই চলছিল।শেষ বেলায় অধুনা বলিয়ে-কইয়ে হিসেবে খ্যাত জেনইউ এর প্রাক্তন ছাত্র কানাইয়াকুমারকে বক্তা হিসেবে বাছা হয়েছিল।কিন্তু কয়েক দিন ধরেই গলায় মামস্ হওয়ায় কথা বলতে পারছেন না তিনি তাই শেষ মুহুর্তে প্লেনের টিকিট বাতিল করে দেন কানাইয়াকুমার,এমনটাই রবিবারের ব্রিগেড সভায় জানান বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু।গতানুগতিক বক্তব্যে ব্রিগেডের সভা যখন নেহাতই গড়িয়ে চলেছে,তখনই বক্তব্য রাখতে এসে রীতিমত আলোড়ন তুলে দেন সিপিএমের প্রাক্তন মন্ত্রী দেবলীনা হেমব্রম।সাঁওতালি ভাষা ও বাংলার মিশেলে তাঁর বক্তব্য উদ্বেল করে দেয় বাম সমর্থকদের।কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে মাটি থেকে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়ে দেবলীনা বলেন লাল পতাকাকে ছেড়ে দিলে সভ্যতাই পিছন দিকে হাঁটতে শুরু করবে।তাঁর সহজ সরল ভাযা ও শরীরি আবেগ ব্রিগেডের সভায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করে।এদিনের ব্রিগেডে লোকসমাগম ভালই হয়েছিল।বামফ্রন্টের বাইরে সিপিআইএমএল লিবারেশনের পক্ষ থেকে দীপঙ্কর ভট্টাচার্য এই সভায় বৃহত্তর বাম ঐক্য গড়ে তুলতে ডাক দেন।সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সিতারাম ইয়েচুরি রাজ্য ও কেন্দ্র দুই জায়গাতেই যে গণতন্ত্র বিপন্ন তা উল্লেখ করেন।বক্তারা প্রায় সকলেই বিজেপি ও তৃণমূলকে এক আসনে বসিয়েই আক্রমণ শানান।এ রাজ্য থেকে সিপিএমের সাংসদ মহম্মদ সেলিম,শেষ বক্তা হিসেবে বলতে উঠে বামেদের সভার সেরা বক্তা হিসেবে দেবলীনাকে স্বীকৃতি দিয়ে বলেন,বামেদের মঞ্চে লোক টানতে টালিগঞ্জ পাড়া থেকে মেকআপ করা হিরোইন ধরে আনতে হয় না,বামেদের মঞ্চের হিরোইন দেবলীনারা উঠে আসেন মানুষের মধ্য থেকে,মাটির গন্ধ মেখে,মানুষ তাই তাদের কথা শুনতে চায়,তাঁদের লড়াইয়ের সঙ্গী হতে চায়।এদিনের সভা থেকে লোকসভা ভোটে মোদিকে ও রাজ্য থেকে মমতাকে হটানোর ডাক দেওয়া হয়।