সুদীপ চোংদারের ‘রোদ্দুরের’ অাঁচ কুণাল ঘোষকে ছুঁয়ে গিয়েছিল

কুণাল ঘোষ মাওবাদী রাজনীতির সমর্থক নন,তিনি তৃণমূলের একজন প্রাক্তন সাংসদ , সাংবাদিকতা তাঁর পেশা।মাওবাদী রাজনীতি ও সেই রাজনীতির মানুষজনদের সম্পর্কে তাঁর বরং অনীহা থাকারই কথা,অথচ সেই কুণাল ঘোষই মাওবাদী নেতা সুদীপ চোঙদার ওরফে কাঞ্চনের মৃত্যুর পর তাঁর ফেসবুক পোষ্টে লিখলেন তিনি যখন সারদা চিটফান্ড মামলায় জেলবন্দী ছিলেন,যখন তিনি একেবারে অসহায় বোধ করছেন তখন এই সুদীপ চোঙদারই তাঁর সবচেয়ে বড় বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন।একেবারে ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা লিখেছেন কুণাল,কিন্তু সেই ব্যক্তিগত অনুভূতির ছত্রে ছত্রে ধরা রয়েছে একেবারে ভিন্নধর্মী এক রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষের প্রতি সম্মানবোধ,তাঁর রাজনীতির প্রতি একধরণের শ্রদ্ধাও।কুণাল জানিয়েছেন তিনি কমিউনিষ্ট নন,তবু সুদীপ চোঙদারের মৃত্যুর পর তাঁর বলতে ইচ্ছে হচ্ছে ‘সুদীপ চোঙদার অমর রহে।’যারা বলেন মাওবাদী মানে একদল সশস্ত্র গ্রামীণ লুটেরা,যারা বলেন মাওবাদ শুধুই হিংসার অবিরাম প্রদর্শন,তাঁরা কুণালের এই অনুভূতির আলোয় নিজেদের ভুল শুধরে নিতে পারেন,বোঝার চেষ্টা করতে পারেন সুদীপ চোঙদার আসলে ‘ রোদ্দুর’ হতে চেয়েছিল,যে রোদ্দুর এদেশের অসংখ্য দারিদ্র-পীড়িত,ব়ঞ্চিত-লাঞ্চিত মানুষকে বেঁচে থাকার উত্তাপ দিতে পারে,লড়াইয়ের প্রেরণা যোগাতে পারে। সুদীপদের লড়াইয়ের পথ নিয়ে আমাদের অনেক প্রশ্ন থাকতে পারে,আমরা সহমত নাও হতে পারি তবু আজকের এই আত্মসর্বস্ব যুগে দাঁড়িয়ে ওঁদের আত্মত্যাগ,ওঁদের সব ছেড়ে বেড়িয়ে এসে এক সাম্য সমাজে উত্তরণের স্বপ্নকে সম্মান না করে থাকতে পারছেন না কুনালের মত ব্যক্তিরাও। সুদীপ চোংদারের মৃত্যুর পর কুণাল ঘোষের এই পোস্ট শাসকদলকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলবে। এখন দেখার এর জন্য নতুন কোন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন কিনা কুণাল।

এদিকে এপিডিঅারের তরফে রঞ্জিত শূর অভিযোগ করছেন জেলে বন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে সুদীপ চোংদারের মৃত্যু অাসলে রাষ্ট্রীয় হত্যা। মূলধারার রাজনৈতিক নেতারা অসুস্থ হলে বেসরকারি ব্যয়বহল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়,আর রাজবন্দী সুদীপ চোঙদাররা জেলে বন্দী থেকে একপ্রকার বিনা চিকিত্সায় মারা যান।রাজ্যের মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর অভিযোগ জানিয়েছে দিনের পর দিন প্রেসারের অষুধ না দিয়ে,চিকিত্সা না করিয়ে মেরে ফেলা হল সুদীপ চোঙদারকে।এপিডিআর কর্মী আলতাফের সঙ্গে কথা হয়েছে আমাদের তাঁর অভিযোগ, বার বার চিকিত্সার দাবি করা সত্ত্বেও কান দেয় নি প্রশাসন।দিন কয়েক আগে যখন সুদীপকে বাঙ্গুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়,তখনই সেখানকার সুপার জানিয়েছিলেন সুদীপকে ভাল কোন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দরকার,কিন্তু কোন ব্যবস্থা করা হয় নি।যখন চিকিত্সা শুরু হয় তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে,তাই মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ রাষ্ট্রের অবহেলা আর অবজ্ঞাই ‘রোদ্দুর’হতে চাওয়া সুদীপ চোঙদারের জীবন-সূর্যকে অস্তমিত করে দিল।মানবাধিকার কর্মী আলতাফ অভিযোগ করেছেন শনিবার দুপুর গড়িয়ে যাবার পরেও যাদবপুর থানা সুদীপ চোঙদারের দেহের ময়না তদন্ত শেষ করে দেহ তার পরিজনদের হাতে তুলে দিতে পারেন নি,নানা কথায় সময় নষ্ট করছে পুলিশ প্রশাসন।দেহের জন্য অপেক্ষা করছে সুদীপের সাথীরা কারণ সুদীপ তাঁর দেহ দান করে যাওয়ার অঙ্গীকার করে গেছেন,সুদীপের সাথীরা তাঁদের সহযোদ্ধার সেই অঙ্গীকার পালন করতে বদ্ধপরিকর।

ছবি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নেওয়া