প্রশ্ন করা মানা!প্রশ্ন তোলায় বরখাস্ত শিক্ষক

এ সময় দেশপ্রেম-জাতীয়তাবাদ নিয়ে কোন প্রশ্ন চলবে না,এমনকী জাওয়ানদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য কোন গাফিলতি ছিল কী না তা নিয়েও কোন প্রশ্ন তোলা যাবে না,তা হলেই সে দেশদ্রোহী,দেশবিরোধী।তাহলেই যে কোন মূহুর্তে তার বা তাদের বাড়িতে চড়াও হতে পারেন ‘দেশভক্ত’র দল ভাঙচূড় হতে পারে বাড়ি,মার খেতে পারেন পরাবারের লোকজন।চাকরী খোয়াতে পারেন যে কেউই।এভাই চাকরি খুঁইয়েছেন অসমের একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক পাপড়ি জি ব্যানার্জি। তিনি গৌহাটির একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইংরেজির শিক্ষক। পুলওয়ামায় ভয়াবহ ঘটনার পর তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে লেখেন,গত কয়েক বছর যাবত কাশ্মিরী সাধারণ মানুষের উপর ভয়াবহ অত্যাচর চলছিল,মানুষ অতীষ্ট হয়ে উঠেছিল সন্ত্রাস ও জুলুমে।এই জুলুম-সন্ত্রাস জঙ্গি ও সেনাবাহিনি দুতরফেই ছিল।হিন্দু ধর্ম তো কর্মফলের কথা বলে, কী জানি ভারতীয় সেনারা সেই কর্মফলের মাসুল দিল কী না।এই পোষ্ট ভাইরাল হতেই,অভিযোগ পাপড়ি দেববীকে হুমকির মুখে পড়তে হয়।তাঁকে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হতে থাকে।শেষ পর্যন্ত তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।তবে তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাঁকে সাসপেন্ড করেছে এই অভিযোগে যে তিনি ভারতীয় সেনাদের সম্পর্কে অপমানজনক প্রশ্ন তুলেছেন। একই ঘটনা ঘটছে এ রাজ্যেও,ডানলবের কাছে এক বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন চিত্রদীপ সোম।তিনি তাঁর মত প্রকাশ করে বলেছিলেন,মৃত সেনাদের শহিদ বালা যায় কিনা তা নিয়ে তাঁর সন্দেহ আছে। কারণ চাকরির দায় থেকে যারা যদ্ধ করে তাদের শহিদ শিরোপা নিয়ে এখনও আইনি পরিভাষা যথেষ্ট পরিষ্কার নয়। চিত্রদীপ বাবুকেও এই মতের জন্য হুমকির সামনে পড়তে হয়।তার স্কুলও তাঁকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে চিত্রদীববাবু নিজেই কাজে ইস্তফা দিয়েছেন। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার এখন কোন প্রশ্ন করা মানা,সবাই মনে করছেন প্রশ্ন সর্বনাশা।

,