অর্পণদের মুক্তি চাই

পুলওয়ামায় ৪০জন ভারতীয় অাধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানদের হত্যার পর দেশজুড়ে ক্রোধের পাশাপাশি না প্রশ্ন উঁকি মারছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। কংগ্রেসের তরফেও নান প্রশ্ন করা হয়েছে। অথচ এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার জন্য অাক্রান্ত হতে হচ্ছে এদেশের নাগরিকদেরই। দেশভক্তরা চড়াও হচ্ছেন কারো কারো বাড়িতেও। হামলা চালান হয়েছে এপিডিঅারের যুদ্ধ বিরোধী মিছিলে। এরকমই হামলার শিকার হাবড়ার একটি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র অর্পণ। তাঁকে গ্রেফতার করে জেলে পোরা হয়েছে। তার মুক্তির দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়া সরব হয়েছেন তাঁর প্রিয়জনেরা। এরকমই একটি অাবেদন অামরা সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশ করলাম।

১৬-১৭ বয়স, যখন সেই সময় দেশের আর পাঁচটা এই বয়সের ছেলে মোবাইলে COC বা PUB G নিয়ে ব্যস্ত, তখন এই ছেলেটি নিজের জীবনের পরোয়া না করে দেশের সম্পদ কালোবাজারিদের হাতে যাতে না যায় সেই চেষ্টায় মগ্ন। দেশকে কতটা ভালোবাসলে এটা করা যায় বুঝে নিন।

অর্পণকে যত চিনেছি, তত মুগ্ধ হয়েছি। অর্পণ কলেজে উঠে প্রতিদিন ক্লাসে যেত, আমি প্রশ্ন করেছিলাম প্রতিদিন ‘পাস’-এর ক্লাস কেন করিস? ও বলেছিল “স্যারেরা যা ভালো পড়ান, অনেক কিছু জানা যায়”। আজকালকার দিনে এই বয়সের একটা ছেলে নাম্বারের জন্য না, ইউনিয়ন রুমে দাদাগিরী করতে না, শুধুমাত্র জানার জন্যে কলেজ যায়। অর্পণ এরকমই।

ও সব সময় গিটার নিয়ে ঘুরতো। টিউশন পড়িয়ে, তিলতিল করে টাকা জমিয়ে কিনেছিল গিটার টা। হাবড়ার বস্তীতে গিয়ে কতবার বাচ্চাদের গান শুনিয়েছে তা বলে শেষ করা যাবেনা।

দেশের মানুষের মধ্যে যাতে হিংসা হানাহানি না থাকে তাই সকাল সকাল লিফলেট নিয়ে বেড়িয়ে পরতো। সকলকে বুঝাতো, দেশের মানুষের জাতী ধর্ম ভুলে একসাথে থাকতে হবে। তবেই দেশ সুন্দর হবে।

সত্যি ওর মতন করে যদি দেশকে সবাই যদি ভালোবাসতো, দেশটা অনেক সুন্দর হয়ে যেত।

যেদিন পুলওামার ঘটনা ঘটে, ও সবার আগে ভারত রাষ্ট্রের সেনা দের নির্মম ভাবে হত্যার বিরোধীতা করে, তার সাথে এটাও লেখে যাতে নিরীহ কাশ্মীরি দের উপর হাত না ওঠে। যারা দোষী তারাই যেন শাস্তি পায়। দেশের মন্ত্রীরা Zed+ সুরক্ষা পায়, এদিকে আর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া হয়না কেন, এই প্রশ্ন অর্পণ তুলেছিল।

এটা দেশকে ভালোবাসা না? দেশের নিরীহ সাধারণ মানুষের সুরক্ষার দাবী করা কি ভুল কাজ? দোষী দের শাস্তি চাওয়া ভুল?

অর্পণ দিন রাত দেশের শোষিত মানুষের ভালোর কথাই ভেবেছিল, সেই বছর ১৭-র প্রকৃত দেশপ্রেমিককে যুদ্ধ উন্মাদ রা জেলে পুড়েছে। গণতন্ত্র কোথায়? বাড়ি বাড়ি গিয়ে মুক্তমনাদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশে যেমন ধর্মান্ধরা দাপায়, ভারতকেও তেমন বানাতে চায় এই উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। দেশের প্রকৃতিকে ধ্বংস করে, দেশের মানুষকে আক্রমণ করে যারা দেশপ্রেম এর বুলি আওড়ায় তাদের আয়না দেখানোর সময় এসেছে।

অর্পণের মুক্তি চাই।
ওর মতন কিশোররাই দেশকে অনেক সুন্দর বানাতে পাড়বে। নাহলে আমরা হয়তো আবার বর্বর অসভ্য জাতীতে পরিণত হব।

অনির্বাণ