দেখ রে, বাবুলের কী বাহার!

0
11

এদেশের গণতন্ত্রে যে ডান্ডাই ভরসা সে কথা আবার মনে করিয়ে দিলেন খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়।মঙ্গলবার আসালসোলের এক জায়গায় তাঁকে দেখা গেল ডাল্ডা হাতে পথে নেমে,’চৌকিদার চোর হ্যায়’ লেখা পোস্টার একের পর এক ছিঁড়ছেন ও তারপর তাতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন।আমাদের প্রশ্ন ভোটের প্রচারে তো বিভিন্ন দল নানা রকম অভিযোগ তোলে,তার প্রচার করে মানুষ তা গ্রহণ করছেন কীনা তা তো মানুষের ভোটেই নির্ধারিত হওয়ার কথা।কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী স্লোগান তুলেছেন চৌকিদার চোর হ্যায়,প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করেই তাঁর এই স্লোগান।এই স্লোগান বিজেপির মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র পছন্দ না হওয়ারই কথা,এরকম স্লোগান দেওয়া পোস্টারে সাধারণ মানুষ যেন বিভ্রান্ত না হন বাবুল সে প্রচার করতেই পারতেন,প্রধানমন্ত্রীর উপর মিথ্যে আরোপ লাগানো হচ্ছে বলে পাল্টা পোস্টার ছাপিয়ে দেওয়ালে-দেওয়ালে বা রস্তার মোড়ে মোড়ে লাগিয়েও দিতে পারতেন বিজেপি কর্মি-সমর্থকরা,বাবুল তাতে সক্রিয় অংশও নিতে পারতেন তাতে কারোর কিছু বলার থাকতো না।কিন্তু যে ভঙ্গিতে তিনি রাস্তায় নেমে জনা কয়েক বিজেপি কর্মী সমর্থকদের নিয়ে পোস্টার ছিঁড়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দিলেন,তাতে তাঁকে সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার করা কোন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নয়,স্রেফ রাস্তার রকবাজ এক গুন্ডা বলে মনে হচ্ছিল।যে উগ্রতা ও রোষে তিনি পোস্টার নামিয়ে আগুন দিচ্ছিলেন,তাতে মনে হচ্ছিল যেন রাহুল গান্ধীকে সামনে পেলে তিনি তাঁকেও লাঠি পেটা করতেন।

আমাদের প্রশ্ন এ কোন গণতন্ত্রের সংস্কৃতি আমদানি করছে রাজনৈতিক দলগুলো?রাজ্যের শাসক দলের দায়িত্ববান নেতারা কথোন বলছেন বিরোধী দলের কেউ মনোনয়োন জমা দিতে পারবেন না কারণ নাকি,রাস্তার রাস্তার মোড়ে ‘উন্নয়ন’ দাঁড়িয়ে থাকবে,সেই’ উন্নয়নের’ হাতে অস্ত্র থাকে,আমরা দেখেছিলাম পঞ্চায়েত ভোটের সময়।আমরা দেখেছিলাম সেই’ উন্নয়ন’ কীভাবে প্রকাশ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলের মহিলাদের চুলের মুঠি ধরে হিড় হিড় করে টানতে টানতে রাস্তা দিয়ে নিয়ে গেছে।আমরা দেখেছিলাম ‘উন্নয়ন’ কী ভাবে বিজেপি কর্মীদের গলায় তাড় দিয়ে ল্যাম্পপোস্টে ঝুলিয়ে দিয়েছিল।দিন কয়েক আগেই আমরা ভাঙড়ের এক পঞ্চায়েত সদস্যের মুখ থেকে শুনলাম এ রাজ্যে শাসক দলকে ভোট না দিলে সরকারি সাহায্যের তালিকা থেকে নাম নাকি কাটা যাবে,তারা নাকি সব হিসেব রাখছেন।তিনি আরও বললেন এটা শুধু লোকসভা ভোট তাই নাকি বিরোধীরা প্রর্থী দিতে পেরেছেন,পঞ্চায়েত বা বিধানসভা হলে তারা নাকি বিরোধীদের ভোটে দাঁড়াতেই দিতেন না।যেহেতু তারা রাজ্যে ‘উন্নয়ন’করছেন তাই নাকি এরাজ্যে কোন বিরোধী না থাকাটাই গণতন্ত্র!! গণতন্ত্রের এমন অসাধারণ ব্যাখ্যা শুনে কেউ আর বোধহয় অবাক হন না কারণ এদেশের মানুষ তাদের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতায় বুঝে যাচ্ছেন সব রঙের রাজনৈতিক দলই আসলে গণতন্ত্রের নামে জুলুমবাজির প্রয়োগ করতেই অভ্যস্ত।বাবুল সুপ্রিয় প্রমাণ করলেন এ রাজ্যে ক্ষমতায় এলে তারাও ডান্ডা হাতেই সবকিছু ঠান্ডা করবেন।আর নিজেদের অহিংসার পুজারি বলে সাজানো মঞ্চে বানানো বুলি কপচাবেন।