অনুপমদের ড্যামেজ কন্ট্রোল কি ‘সামাজিক ড্যামেজ’ কে কন্ট্রোল করতে পারছে?

0
8

সোমবার নিজের এলাকায় ভোট দিতে গিয়ে ‘কেষ্ট কাকা’র পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে আশির্বাদ নিয়ে এসেছিলেন যাদবপুরের বিজেপি প্রার্থী অনুপম হাজরা।বীরভূমের অধিপতি কেষ্ট কাকু অনুপমকে আশ্বাস দিয়ে প্রকাশ্যে বলেছেন,ভুল বোঝাবুঝির ফলে অনুপম অন্য দলে চলে গেছে, তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে বলে অনুপমকে আবার তৃণমূলে ফিরিয়ে নিয়ে,রাজ্য সভায় প্রার্থী করে জিতিয়ে দেবেন। অনুপমও তাঁর সঙ্গে সঙ্গত দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন কেউ কান ভাঙানি দিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিয়েছে, কেউ কেউ তো কান দিয়ে দেখেন তারাই সব গোলমাল পাকিয়ে দিয়েছেন।যদিও এর পাশাপাশি অনুপম এটাও জানিয়েছিলেন যে রাজনীতি ও ব্যক্তিগত সৌজন্য আলাদা বিষয়,তিনি অনুব্রত মন্ডল ওরফে কেষ্টকাকুর সঙ্গে সৌজন্য করতেই গিয়েছেন।তবু তাঁর ও অনুব্রত মন্ডলের শারীরের ভাষা ও ভঙ্গি বার বার বলে দিচ্ছিল যে বিষয়টা যতটা না সৌজন্যের তার চেয়ে অনেক বেশী একটা রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশের,যে অনুপম হাজরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে রাজ্যে দুর্নীতিবাজ সরকারের পতন দাবি করে ব্রিগেডে বক্তৃতা দেন,তিনিই যখন বলেন কেউ ভুল বুঝিয়ে তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের দুরত্ব তৈরি করে দিয়েছে তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না,রাজনীতির হিসেব নিকেশের বাইরে এঁরা বেশী কিছু ভাবছেন না।গতকালের ঘটনা নিয়ে আলোড়ন পড়ায় মঙ্গলবার বিজেপির কলকাতার অফিসে বসে অনুপম হাজড়া ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে ব্যস্ত হয়েছেন,সাফাই দিতে তাকে বলতে হয়েছে,মিডিয়া তাঁর সঙ্গে চক্রান্ত করেছে।একটা ব্যক্তিগত সৌজন্যের বিষয়কে নিয়ে রাজনৈতিক খেলা খেলেছে মিডিয়া,তিনি এখন বিজেপির একনিষ্ঠ কর্মী তিনি যাদবপুরে জিততে চলেছেন তাই নাকি মিডিয়ার একাংশ তাঁর সঙ্গে এরকম আচরণ করল।না,অনুপম মিডিয়া নয়,আপনিই একটা খারাপ খেলা খেলতে গিয়ে ধরা পড়ে গেছেন। এখন ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে অনুপম যাই বলুন না কেন,দুর্নীতিবাজ সরকারকে হটাতে বিজেপিকে জয়ী করার আহ্বান আর ভুল বোঝাবুঝিতে দল ছাড়তে হয়েছে এই দুই বক্তব্যের মাত্রাগত ফারাক যে কতটা তা তিনি নিজেও জানেন!অনুপমরা ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করতেই পারেন,অনুপমদের মত রাজনীতিরা তাঁদের ব্যক্তিগত ড্যামেজ কন্ট্রোল করেই নেন,আমরা জানি কিন্তু সেই সঙ্গে আমরা এটাও জানি এর ফলে যে সামাজিক ড্যামেজ হতে থাকে তাকে কন্ট্রোল করা মুশকিল হয়ে পড়ে।ভোটের দিন বেকার রুজি-রোজগারহিন ছেলেদের বিভিন্ন দলের নেতা নেত্রী পরস্পরের দিকে লেলিয়ে দেবেন,তারা লড়াই করে রক্তাক্ত হবে,মরবে আর সেই সর্বনাশের পথ ধরে ক্ষমতার অলিন্দে ঘোরাফেরা করবেন নেতা-নেত্রীরা।কেউ মন্ত্রী হবেন,কেউ লোকসভায় যাবেন,কেউ রাজ্য সভায়।নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর অনুগত কেষ্টকে বলছেন বাঘের মত ভোটের লড়াইতে ঝাঁপিয়ে পড়তে,যেন নির্বাচন আসলে মাংস খুবলে আনার একটা প্রতিযোগিতা।এই খোবলা-খুবলিতে মরে যাবে শুধু একেবারে নীচু তলায় থাকা বেকার সহায় সম্বলহীন কিছু মানুষ।আর নেতা নেত্রীরা নিজেদের হিসেব বুঝে নেবেন। অনুপম-মৌসমদের মত রাজনীতিকরা এদলে হিস্যা না মিললে অন্য দলে চলে যাবেন। এভাবেই চলছে আমাদের গণতন্ত্র,এই গণতন্ত্র দিয়ে সত্যিই কি সম্ভব সামাজিক ড্যামেজকে কন্ট্রোল করা ?সেটাই বোধহয় আসল প্রশ্ন।