অভাবের তাড়নায় আত্মঘাতী এক মিডিয়া কর্মী

“আমি যেন সেই বাতিওয়ালা/ যে সন্ধ্যের রাজ পথে পথে/ বাতি জ্বালিয়ে ফেরে/ অথচ নিজের ঘরেই নেই/ যার বাতি জ্বালাবার সামর্থ্য/ নিজের ঘরেই জমে থাকে দুঃসহ অন্ধকার”-সেই কত দিন আগে লিখেছিলেন কিশোর কবি সুকান্ত,তবে কথাগুলো এখনও ভারি জীবন্ত, অন্তত এ রাজ্যের অসংখ্য মিডিয়া কর্মীর জীবনে। মিডিয়ার ফটোগ্রাফার প্রসেনজিত রায়ের জীবনের পরিণতি সে কথাই মনে করিয়ে দিল আবার।প্রসেনজিত সংবাদ চ্যানেলের ক্যামেরাম্যান ছিলেন। অনেক চ্যানেলই তাঁর পাওনা ঠিক মত দেয়নি,জীবনযাপনের জন্য শেষ পর্যন্ত ব্যবসাও শুরু করেন তিনি।কিন্তু তাতেও কোন সুরাহা না মেলায় মানসিক যন্ত্রনায় শেষ পর্যন্ত আত্ম হত্যা করেন বছর ৪১ প্রসেনজিত। নিজের ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে মঙ্গলবার আত্মঘাতী হওয়ার পর অনেকেই বলছেন এর আগেও সে এই ,চেষ্টা করেছিল,মানসিক ভারসাম্যহীনতা থেকেই তার এই আত্মহননের প্রয়াস। সংবাদ সংগ্রহ করে যারা প্রতিদিন হাজার হাজার পরিবারে পৌঁছে দেন,তাদের অনেকের জীবনের খবর রাখেন না এখানকার সাধারণ মানুষ।এ রাজ্যের অনেকেই জানেন না এখানকার অনেক সাংবাদিক ও আলোকচিত্রির জীবন কী মর্মান্তিক বেদনার।কয়েকটি হাতে গোনা সংবাদ চ্যানেল ও সংবাদপত্র ছাড়া অধিকাংশ চ্যানেলই নিয়মিত কর্মীদের মাইনে দেয় না,যখন তখন বন্ধ করে দেয় কাগজ বা সংবাদ চ্যানেল।মালিকরা ক্ষমতাবান নেতা ও আমলাদের ধরে নানা সুযোগ সুবিধা বাগিয়ে নেন,দিনের পর দিন ঠকান কর্মীদের।কোথাও কোন প্রতিবাদ করে প্রতিবিধান পাওয়া যায় না। অার এই না পাওয়ার অসহ্য য়ন্ত্রণা সহ্য করে টিকে থাকতে পারলেন না প্রসেনজিত। অামাদের এখন অার রাগ হয় না, দু একদিন হা হুঁ করে ভুলে যাব প্রসেনজিতকে। তবে প্রসেনজিতের মৃত্যুকে অাত্মহত্যা না বলে হত্যা বলাই বোধ হয় ভাল। এই হত্যার জন্য দায়ী সমাজ, সরকার ও মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত অামরা সকলে।