প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক তরজায় সাধারণ মানুষের প্রাপ্তি কতটুকু?

ঘোষণা মতোই বুধবার রাজ্যের দু’জায়াগায় সভা করে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজ্য সরকার ও বিরোধীদের আক্রমণও করলেন। এদিন একটু চড়া সুরেই মমতা ও তাঁর দলকে আক্রমণ করলেন নরেন্দ্র মোদী। শিলিগুড়ির সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যের উন্নয়নের স্পিডব্রেকার বলে কটাক্ষ করেন মোদি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি এ রাজ্যে বদল এনেই উন্নয়নের সারিতে জায়গা করবেন সাধারণ মানুষ। দেশের নিরাপত্তা যে তাঁর সরকার অটুট রাখতে পেরেছে সেই দাবি করে মমতা ও বিরোধীদের তীব্র কটাক্ষ করে বললেন,পাকিস্তান আঘাত হানলে দিদি ও বিরোধীনেতাদের কেন কান্না পায় তার বিচার সাধারণ ভারতবাসী করবেন।নিজের চৌকিদারিত্ব নিয়ে গর্ব করে দাবি করলেন তাঁর চৌকিদারিত্বে দেশ নিরাপদ আছে ও থাকবে।ব্রিগেডে এসে মনে করিয়ে দিলেন বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্যের কথা,বিবেকান্দ,বঙ্কিমচন্দ্র,রবিঠাকুরের পাশাপাশি নজরুল ইসলামের নামও উল্লেখ করলেন।নাটকীয় ভঙ্গিতে এ রাজ্যে পিসি ভাইপোর লুটের রাজনীতি নিয়ে কটাক্ষও করলেন।গোটা দেশের রাজনীতিতে পরিবার তন্ত্রের যে প্রভাব তার বিরুদ্ধেও কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না।ভারতমাতার জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে বিজেপিকেই যে মানুষ আবার ক্ষমতায় আনতে চলেছে সেই বিশ্বাসও ব্যক্ত করে গেলেন প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রীর দুই সভাতেই জনসমাগম ছিল যথেষ্ট,মিডিয়া প্রচারেরও কোন খামতি ছিল না।প্রধানমন্ত্রীর এ রাজ্যে প্রথম নির্বাচনি সভা যে যথেষ্ট সফল তা নিয়ে দ্বিমতের কোন অবকাশ নেই।প্রধানমন্ত্রী কড়া ভাষায় রাজ্যের শাসক দলকে আক্রমণ করায় মুখ্যমন্ত্রীও যে জবাব দেবেন তাও জানা ছিল।দিনহাটায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাই বলেছেন নরেন্দ্র হলেন এখন এক্সপায়ারি প্রধানমন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রী যে মিথ্যে কথা বলছেন তাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।কিছুদিনের মধ্যেই যে দেশ থেকে বিজেপি চলে যাবে সে কথা বলে মমতা জানিয়েছেন বাংলাকে তাঁরা যে ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তা কেউ পারবে না।মমতা এদিন সিপিএম কংগ্রেসকে বিজেপির দোসর বলেও কটাক্ষ করেন।সবমিলিয়ে বৃহস্পতিবারটা দুই হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের টক্করে রাজ্য সরগরম ছিল।কিন্তু তার পরেও প্রশ্ন থাকে এতে সাধারণ মানুষের প্রাপ্তি কতটুকু,এই রাজনৈতিক তরজা থেকে মানুষ কী পায়।আসলে মানুষ কিছু পায় না,কিছু পাওয়ার প্রত্যাশাও নেই তাদের।প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী জনসভাতে যেসব দাবি করেন সে সব দাবির সত্যতা প্রমাণের কোন দায় তাঁরা নেন না।তাই প্রধানমন্ত্রী দেশের নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও গত পাঁচ বছরে কৃষক আত্মহত্যা,বেকারি,নীরব মোদীদের ব্যঙ্ক লুট করে পালিয়ে যাওয়া নিয়ে কোন দুঃখ প্রকাশ করেন না,ব্যর্থতার দায় স্বীকারের রীতি এদেশের রাজনীতিতে নেই।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিনহাটার জনসভা করে যখন বলেন বিজেপি নিশিথ প্রামানিকের মত একজন ক্রিমিনালকে দলে নিয়েছে এবং প্রমাণ হিসেবে সিবিআইয়ের চিঠি তুলে দেখান তখন তাঁর মনে থাকে না যে সিবিআই যখন রাজ্যকে ঐ চিঠি দিয়েছিল তখন নিশিথ প্রামানিক তৃণমূল করতো,তখন কিন্তু মমতা তার বিরুদ্ধে কিছু বলেন নি।এখন নিশিথ প্রামাণিক বিজেপিতে তাই সিবিআই এর চিঠিকে অস্ত্র করে মুখ্যমন্ত্রী প্রমাণ করতে চাইছেন বিজেপি দুষ্কৃতীদের আশ্রয় দেয়।এই যে খানে রাজনৈতিক মূল্যবোধ সেখানে মানুষের আর কী বা প্রপ্তি ঘটবে!!