কলকাতার কমিশনার সহ একাধিক এসপিকে সরিয়ে দেওয়া হল,তবু যে প্রশ্ন গুলো সরছে না!

নির্বাচন কমিশন এ রাজ্যে নির্বাচনের ঠিক মুখেই কলকাতা পুলিশ কমিশনার,বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার ও বীরভূমের এসপি ও ডায়মন্ডহারবারের এসপিকে সরিয়ে দিয়ে নতুনদের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে । কলকাতার নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন রাজেশ কুমার,বিধাননগর কমিশনারেটের নতুন কমিশনার হচ্ছেন এন রমেশবাবু।এছাড়াও ডায়মন্ডহারবারের নতুন এসপি করা হচ্ছে শ্রীহরিকে ও বীরভূমের নতুন এসপির দায়িত্ব পাচ্ছেন আমুল্যা রবীন্দ্রনাথ।কমিশনের সূত্রে বলা হয়েছে এ রাজ্যের নির্বাচন পর্ব সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ রাখতে এই সিদ্ধান্ত।নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বলা হয়েছে অপসারিত পুলিশকর্তারা এ রাজ্যের নির্বাচন চলাকালীন কোন প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকতে পারবেন না।নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক কাজিয়া শুরু হয়ে গেছে।বিজেপি সহ বিরোধীরা বলতে শুরু করেছে এ রাজ্যের পুলিশ যে শাসক দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করে তা এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রমাণ হয়ে গেল।বিপরীতে তৃণমূল এটাকে বিজেপির চক্রান্ত ও কমিশনের বিরোধীদের প্রচারে প্রভাবিত হওয়া বলে মনে করছে।শাসক ও বিরোধীদের এই চাপানউতোর এড়িয়ে আমরা এ প্রসঙ্গে কিছু প্রশ্ন তুলতে চাইবো।প্রথমত,কমিশন যদি এ বিষয়ে নিশ্তিত হয় যে অপসারিত পুলিশকর্তারা শাসক দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করতেন,তাহলে তো এটাও মানতে হবে যে তারা সবসময় প্রশাসনিক কাজেও তা করে এসেছেন,সরকারি দায়িত্বে থেকে কেউ যদি কোন দলের প্রতি অনুগত্য দেখায় সেটা এদেশের সংবিধান অনুসারে অপরাধ,তাহলে সাময়িক অপসরণ কেন,এদের তো শাস্তি হওয়ার কথা।তা হবে না কেন?দ্বিতীয়ত,কমিশনের এই সিদ্ধান্ত কার্যকরি থাকবে নির্বাচন চলা থেকে নির্বাচন পর্ব মিটে যাওয়া পর্যন্ত।তারপর রাজ্য সরকার আবার অপসারিত সব পুলিশ কর্তাদের নিজের নিজের জায়গায় ফিরিয়ে আনবেন।আজ যারা নতুন পদে যোগ দিচ্ছেন তারা যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ করেন এবং তাতে যদি শাসক দলের স্বার্থ কোনভাবে ক্ষুন্ন হয়,তাহলে এঁদের সকলকে নির্বাচন পর্ব মিটে গেলে রাজ্য সরকার শাস্তি মূলক পোস্টিং হিসেবে একেবারে কম গুরুত্বের জায়গায় বদলি করে দেবে।যেমনটা করা হয়েছিল এর আগে এ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সময় তখনকার কমিশনের নির্দেশ অনুসারে কলকাতার পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্রের সঙ্গে।আমাদের প্রশ্ন,যদি কেউ জানতে পারেন যে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করলে তাঁর বিপদ হতে পারে নির্বাচন পর্ব মিটলে তাহলে সে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সাহস পাবে কোথা থেকে?কেন কমিশন এ বিষয়ে কোন রক্ষা কবচ রাখবে না,আর তা না রেখে কোন যুক্তিতে কমিশন কোন পুলিশ আধিকারিককে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে নির্দেশ দেয়?এভাবে আদৌ কোন নিরপেক্ষ ভোট ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না তা নিয়েও আমাদের প্রশ্ন থাকছে।সব মিলিয়ে নিয়ম কাননের মধ্যে বাস্তবতা ও যুক্তির অভাব আছে বলেই আমাদের পর্যবেক।নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করলে যদি শাস্তি পেতে হয় তাহলে কেন কেউ সে কাজ করবে,সাধারণ বুদ্ধিতে যে প্রশ্নটা আসে কমিশনের এত বুদ্ধির মাথায় সে প্রশ্ন কেন আসে না তা ভেবে সত্যিই অবাক হতে হয়।