বহরমপুরে নয়, অধীর সময় কাটান বৈদিক ভিলেজে- কংগ্রেস নেতার উদ্দেশে মমতার কুৎসিত ইঙ্গিত

ভোট প্রচারে যে ভাবে কুকথার স্রোত বইছে,তাতে রীতিমত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ যোগী ও মায়াবতীকে দুদিন নির্বাচনী প্রচার থেকে কয়েকদিনের জন্য সরিয়ে শাস্তিও দিয়েছে কমিশন।কিন্তু তবুও ভোট প্রচারে কুকথা ও ব্যক্তিগত কুত্সা কমার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও ব্যক্তিগত কুত্সা করে তাঁর শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিকে ঘায়েল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। গত কয়েক দিন ধরে তিনি যে ভাবে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীকে আক্রমণ করে চলেছেন,তাতে বুঝতে অসুবিধা হয় না অধীর চৌধুরীর প্রতি তাঁর বিদ্বেষ কতটা গভীর।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অধীরবাবুকে রাজনৈতিক আক্রমণ করতেই পারেন,কিন্তু তা কেন ব্যক্তিগত কুত্সার পর্যায় চলে যাবে? কেন বুধবার কান্দির জনসভা থেকে অধীরবাবুর উদ্দেশে বিশ্রি ইঙ্গিত করবেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিম ? এদিন জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন কেন অধীর চৌধুরী তাঁর হলফনামায় প্রথম স্ত্রী সম্পর্কে উল্লেখ করেননি। এখানেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী । মমতা বলেন অধীর কদিন অার বহরমপুরে থাকেন। উনি তো থাকেন বৈদিক ভিলেজে। এর মাধ্যমে অধীরের উদ্দেশে কুৎসিত ইঙ্গিত করেন মুখ্যমন্ত্রী? এ কোন রাজনীতির চর্চা? মুখ্যমন্ত্রী কী ভুলে গেছেন তিনি এ রাজ্যের প্রধান প্রশাসক,তিনিই যদি এই ভাষাতে কথা বলেন তবে রাজ্য ও সমাজের অধঃপতন তরাণ্বিত হয়। দুদিন আগে অধীর চৌধুরির বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর এস এসের সঙ্গে যোগসাজসের অভিযোগ তুললেন,কোন প্রমাণের ভিত্তিতে এমন অভিযোগ রাজ্যবাসী জানেন না।দেশে ধর্ম নিরপেক্ষ সরকার গড়তে কংগ্রেসের ভূমিকা দরকার বলে মেনে নিয়েও কোন যুক্তিতে কংগ্রেসেরই একজন প্রবীণ নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী? তা হলে কী এটাই মেনে নিতে হবে,যেহেতু অধীর চৌধুরিকে কোনভাবেই ভোটে হারানো যাচ্ছে না তাই যে কোন ভাবেই তাতে হেনস্তা করে,কুত্সা করে ভোটে ফায়দা তুলতে হবে। এদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বোধ হয় এটাই নিয়ম, ব্যতিক্রম নয়।