সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর বিরুদ্ধ যৌন হেনস্তার অভিযোগে ২২জন বিচারপতির কাছে সুবিচারের অার্জি এক প্রাক্তন মহিলা কর্মীর

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ অানলেন সুপ্রিম কোর্টের এক প্রাক্তন মহিলা কর্মী। ১৯ এপ্রিল এক হলফনামা অাকারে দেওয়া চিঠিতে সর্বোচ্চ অাদালতের ২২জন বিচারকের কাছে ঘটনার তদন্ত ও বিচারের অার্জি জানিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সের সুপ্রিম কোর্টের ওই মহিলা প্রাক্তন জুনিয়র কোর্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট। যদিও সুপ্রিম কোর্টের সেক্রেটারি জেনারেল অবশ্য মহিলার এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে এর পিছনে কোন চক্রের হাত রয়েছে বলে দাবি করছেন।

মিডিয়ার একাংশে প্রকাশিত মহিলার হলফনামা থেকে স্পষ্ট মহিলা অত্যন্ত জুনিয়র কর্মী হওয়া সত্ত্বেও খুব দ্রুত রঞ্জন গগৈর সুনজরে পড়ে যান। তাঁকে প্রধানবিচারপতির বাসভবনে বদলি করা হয়। মহিলার অভিযোগ ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রাতে রঞ্জন গগৈই তাঁকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোর করে জাপটে ধরেন ও শরীরের নানা অংশে অাপত্তিকর ভাবে হাত দিতে থাকেন। এতে হতচকিত হয়ে পড়লেও রঞ্জন গগৈকে জোর করে সরিয়ে দেন ওই মহিলা । অার তাতেই গগৈর মাথা বুক সেল্ফে ঠোকাও লাগে বলে দাবি ওই মহিলার। হলফনামায় ওই মহিলা কর্মী জানিয়েছেন এর পরই তাঁকে এক পুরনো মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তাঁর স্বামী ও দেওরকে দিল্লি পুলিসের চাকরি থেকেও সাসপেন্ড করা হয়। তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের জীবন নরক করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওই মহিলার। এখানেও শেষ নয় প্রধানবিচারপতির পত্নী নিজেদের সরকারি বাসভবনে ডেকে ওই মহিলাকে মেঝেতে নাকখতও দেওয়ান বলে অভিযোগ ওই মহিলার। মহিলা তাঁর হলফনামা যে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন তা অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ শুধুমাত্র চক্রান্ত বলে চাপা দেওয়ার চেষ্টা হলে তা প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতার উপরই প্রশ্ন চিন্হ উঠবে বলে মনে করেন অনেকে। একথা সত্যি ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্টের তত্কালীন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের কাজকর্মের বিরুদ্ধে যে ৪জন বিচারপতি সরব হয়েছিলেন তার মধ্যে গগৈও ছিলেন। সেই কারণে এক মহিলার অানা এই গুরুতর অভিযোগকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অবিলম্বে পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া উচিত রঞ্জন গগৈইর। গঠন করা উচিত নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি। যদি মহিলার অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হয় তাহলে শাস্তি পাওয়া উচিত রঞ্জন গগৈর। অার মিথ্যে প্রমাণিত হয় তাহলে অভিযোগকারী ওই মহিলা সহ মূল চক্রান্তকারীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া উচিত।

সূত্র স্ক্রল.ইন ও দ্য ওয়ের