চক্রান্তের কথা বলে প্রধান বিচারপতি এই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যেতে পারেন কি?

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছেন এক প্রাক্তন জুনিয়র কোর্ট অ্যাসিস্টেন্ট। ওই মহিলা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ২২জন বিচারপতির কাছে হলফনামা অাকারে অার্জি জানিয়েছেন। এর পর থেকে গগৈর তরফে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব ফেরি করা শুরু হয়েছে। কারণ গগৈ রাফাল সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে রয়েছেন।এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের এক অাইনজীবী উত্সব বাইন্স বিস্ফোরক দাবি করেছেন প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা করার জন্য তাঁকে দেড় কোটি টাকার টোপ দেওয়া হয়েছিল। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বিয়ন্স সেই ঘটনা সঙ্গে সঙ্গে সু্প্রিম কোর্টের গোচরে অানলেন না কেন? একথা সত্যি হয়তো শাসকেরা চায়না প্রধানবিচারপতির পদে থাকুন রঞ্জন গগৈ কিন্তু তাই বলে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মহিলার অানা যৌন হেনস্তার অভিযোগ কি উড়িয়ে দেওয়া যায়? এই প্রেক্ষিতে বৃন্দা গ্রোভার ,দুশন্ত দাভে সহ সুপ্রিম কোর্টের একাধিক অাইনজীবী কতগুলি প্রশ্ন তুলেছেন যা প্রধান বিচারপতির অস্বস্তি অারো বাড়িয়েছে। প্রশ্নগুলি জরুরি।

১ মহিলা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছিলেন কোন মামলা নয়, অথচ হঠাত্ করে কেন বিশেষে অাদালত বসালেন প্রধানবিচারপতি, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই প্রধান বিচারপতি নিজেই সেই বেঞ্চের সদস্য হলেন কী করে

২ অভিযোগকারিণীর তরফে বক্তব্য পেশের সুযোগ না দিয়ে কী করে পর্যেবক্ষণ দিল অাদালত?

৩ কেন অাদালতে প্রধান বিচারপতি তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ দিতে গেলেন, এটা তো কোন ব্যক্তিগত সাংবাদিক সম্মেলন ছিল না?

৪ মহিলার চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলা হল কেন?

৫ কেন অভিযোগ করা ঘটনার পর থেকে ৩ বার বদলি করা হল মহিলাকে?

৬ কেন সুপ্রিম কোর্টের গোপন রিপোর্টে অভিযোগ কারিনী মহিলার কাজের যে পারফরমেন্স লিপিবদ্ধ করা রয়েছে তাতে GOOD ,VERY GOOD লেখা সত্ত্বেও কেন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হল?

৭ একদিন অনুমতি ছাড়া কাজে না অাসা, বা কয়েক মাসের মধ্যে ৩ বার চেয়ার বদলি করায় অসন্তোষ প্রকাশ করা কি চাকরি থেকে বরখাস্তের কারণ হতে পারে

৮ কেন একই সময় খুব সামান্য অভিযোগে মহিলার পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতার ও পুলিসের চাকরি থেকে সাসপেন্ড করা হল।

এটা ভুললে চলবে না বিচারপতি ভাল বলেই তিনি কোন খারাপ কাজ করতে পারেন না এরকম ধারনা পোষণ করা বোধ হয় সঠিক নয়। বিশেষ করে মহিলাদের যৌন হেনস্তার অভিযোগ এর অাগেও অারেক বিচারপতির বিরুদ্ধেও অাঙ্গুল উঠে ছিল। প্রশ্ন হচ্ছে তিনি ওই কুকর্মটি করেছন কি না? তার জন্য হওয়া প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত।