খাস কলকাতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের বুথে না যাওয়ার হুঁশিয়ারি!কাঠগড়ায় তৃণমূল

নির্বাচন কমিশন সকলকে নির্ভয়ে গণতান্ত্রীক অধিকার প্রয়োগের জন্য উত্সাহ দিচ্ছে,অথচ ভয়ে কুঁকড়ে রয়েছেন খাস কলকাতার বেলেঘাটার বিস্তীর্ণ এলাকার ভোটার। অভিযোগ বেলেঘাটা এলাকার একটা অংশে গত এক সপ্তাহ আগে থেকেই শাসক তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে ভোটারদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন ভোটের দিন যেন তাঁদের বুথ মুখো হতে না দেখা যায়।বেলেঘাটার এই সব এলাকা যা কলকাতা পুরসভার ৫০,৫১,৫২,৩৩,নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে পড়ে। এইসব এলাকার একাধিক মানুষ অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন,যারা সাধারণত রাজনীতির সংসর্গ এড়িয়ে চলেন,এবং যারা আগে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী বা সমর্থক ছিলেন তাদের পরিবারকে চিহ্নিত করে ভোট দিতে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে।তৃণমূলের স্থানীয় পুরকর্তারা রীতিমত একটা টিম তৈরি করে গত কয়েক মাস যাবত এই হুমকি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন।কথা না শুনলে নির্বাচন প্রক্রিয়া মিটে গেলে বুঝে নেওয়ার কথাও বলে রাখা হয়েছে।নাম ঠিকানা প্রকাশ করতে না চাইলেও বেলেঘাটার এইসব মানুষজন জানাচ্ছেন বেলেঘাটার এখন এটাই চরিত্র,ভোটের অনেকদিন আগে থেকেই বাড়ি বাড়ি পৌছে যায় চাপা সন্ত্রাস।এলাকার পুরকর্তারা তাদের দলবল নিয়ে নেমে পড়েন ‘ সন্দেহজনক’ ভোটার চিহ্নিত করতে,তারপর শুরু হয় তাদের বাগে আনার চেষ্টা।একজন জানালেন তাঁকে বলা হয়েছে ‘আপনি ভোট দেওয়ার সময় আমাদের ছেলেরা সঙ্গে থাকবে ও আপনি কোন বোতাম টিপছেন দেখতে দিতে হবে সেটা মানলেই আপনি ভোট দিতে যেতে পারবেন’এই শর্ত না মানায় বেলেঘাটা চাউলপট্টি রোডের প্রৌঢ় ভদ্রোলেক গত লোকসভা ও বিধানসভায় ভোট দিতে যেতে পারেন নি,এবারও ভোটের দিন তাঁকে ঘরবন্দি থাকার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।একই হুঁশিয়ারি পেয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন চাউলপট্টি রোডের সন্দিপ নট্ট।তাঁকে শুধু হুমকি নয় তাঁর বাড়িতে আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ।সন্দীপ সিপিএম কর্মী,তার পরিবারকে গত কয়েক বছর যাবত বুথে যেতেই দেওয়া হচ্ছে না,বার বার আক্রান্ত হয়েছেন তিনি,তাঁর অভিযোগ থানায় বলে কোন সুরাহা মেলে না,থানায় তাঁকে বসিয়ে থানার বড়বাবু তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেন।সন্দীপ এই ভোটের সময় তাঁর নিজের এলাকা ছেড়ে অন্যত্র থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।সিপিএমের সংগঠনের হাল যে একেবারে বেহাল তা সন্দীপের পরিণতি থেকেই বেশ বোঝা যায়।তবে সন্দীপ গোটা বিষয়টাকে তৃণমূলের ভয়াবহ সন্ত্রাস বলেই চালাতে চাইলেন।সন্ত্রাস যে আছে তা মানলেন বেলেঘাটা রাসমণিবাজারের বাসিন্দা সরকারি চাকুরে এক মাঝ বয়সী ভদ্রলোকও। ছেলে-মেয়ে স্ত্রী নিয়ে তাঁর সংসার,কোন রাজনীতি করেন না তাঁর অভিযোগ তাঁকেও বলা হয়েছে ভোট দিতে না যেতে।কারণ জানতে চাইলে তাঁকে শুনতে হয়েছে,’রাজনীতি যখন করেনই না তখন ভোটের রাজনীতিতেই বা কেন থাকবেন’।অবাক গণতন্ত্রের এই পাঠ শেখানো হয়েছে বেলেঘাটা তৃকোণ পার্কের এক অবসর প্রাপ্ত স্কুল শিক্ষককেও,তাঁকেও বলা হয়েছে ‘স্থনীয় কোন সমাজ সেবা মূলক কাজেই তো আপনাদের দেখা যায় না তাই ভোটের দিনও যদি আপনাদের দেখা না যায় তাহলে ভাল হয়’।হাঁ-বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও স্থানীয়রা জানাচ্ছেন সন্ত্রাসের ভাষাও এতটা মার্জিত ও শালীন হয়ে উঠেছে।প্রশ্ন হল কী করছে সেনা বাহিনী যাদের এলাকায় মার্চ করার কথা,যারা নাকি গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে উদ্যম দেখাবে,মার্চ করেছে সেনা তবে মোবাইল নিয়ে কেউ গেম খেলতে খেলতে,কেউ নাকি আবার কানে ইয়ার ফোন গুঁজে গান শুনতে শুনতে,এমনটাই জানাচ্ছেন বেলেঘাটার স্থানীয় মানুষজন।তৃণকোণ পার্কের সেই মাষ্টার মশাই তাই ব্যঙ্গ করে বললেন’,ভাড়াটে সৈন্য দিয়ে কী আর গণতন্ত্র রক্ষা করা যায়’!আমরা বেলেঘাটার একটা বড় অংশের মানুষের এই অভিযোগ নিয়ে কথা বলেছিলাম মির্বাচন কমিশনের সঙ্গে,তাদের বক্তব্য তারা সব জায়গাতেই নজর রাখছেন,অভিযোগ থাকলে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এই প্রতিবেদকের কাছ থেকে বিষয়টা শুনে তাঁরা বিষয়টা নোটও করে রাখছেন বলে জানান।কিন্তু সত্যিই কী কোন ব্যবস্থা হবে,ভোটের সময় অবাক গণতন্ত্রের অভিজ্ঞতা থেকে বের হতে পারবেন বেলেঘাটার ভোটাররা তার কোন উত্তর আমাদের জানা নেই।তবে আমরা এরকম অভিযোগ বেলেঘাটায় শাসক দলের যাঁদের বিরুদ্ধে তাদের অন্যতম পবিত্র বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলেছিলাম,তিনি জানিয়েছেন,’কোথাও কোন সন্ত্রাস হচ্ছে না,মানুষ মা মাটি মানুষের উন্নয়নের সঙ্গে আছে,সেই উন্নয়নকে যারা আটকাবে মানুষই তাদের বুথে যাওয়া বন্ধ করে দেবে’বটেই তো যারা মা-মাটি মানুষের উন্নয়নের সঙ্গে নেই তাঁরা ভোট দেবে কেন?এ দেশের গণতন্ত্রের এই সহজ কথাটা বুঝতে আমাদের যে কেন এত সময় লাগে কে জানে!!