হাসতে থাকা পাহাড় ও জঙ্গলমহলই কাদিঁয়ে দিল মুখ্যমন্ত্রীকে

‘পাহাড় ও জঙ্গলমহল হাসছে’এ রাজ্যের মানুষ মাত্রই জানেন এটা আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর খুব প্রিয় স্লোগান।তাঁর দাবি তৃণমূলের শাসনে তিনি পাহাড় আর জঙ্গলমহলে এতটা উন্নতি করেছেন যে প্রতিটি মানুষের জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি এসেছে।পাহাড়ে উন্নয়নের স্লোগান দিয়ে রাজ্যের শাসক দল বিমল গুরুং কে পাহাড় ছাড়তে বাধ্য করেছেন।বিমল গুরুং এর একদা ছায়াসঙ্গী বিনয় তামাংকে নিজের দিকে টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ে কার্যত তৃণমূলের শাসন শুরু করেন।উন্নয়নের স্লোগান দিয়ে পাহাড়ের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের দাবিকে পেছনে সরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিনয় তামাংকে দিয়ে পাহাড়কে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে আনার যাবতীয় প্রয়াস শুরু করেন।এবার লোকসভা ভোটে মোর্চার বিধায়ককে তৃণমূলে যোগ দিতে বাধ্য করে তাঁকে তৃণমূলের হয়ে ভোটে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়।অন্যদিকে বিধানসভার উপনির্বাচনে দাঁড় করান হয় মুখ্যমন্ত্রীর একান্ত অনুগত বিনয় তামাংকে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেখা গেল পাহাড়ের মানুষ বর্জন করেছেন শাসক দলের প্রতিনিধিদের।পুলিশ আর অনুগত খোচর দিয়ে পাহাড়ের মানুষদের কব্জা করার বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন পাহাড়বাসী।পাহাড়ের ভূমিপুত্র হরকাবাহাদুর ছেত্রী তাই এই প্রতিবেদকের কাছে জানিয়ে দিলেন,মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে খেলা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।দলীয় আগ্রাসনের বাইরে ভাবার মত উদারতা নেই মুখ্যমন্ত্রীর,পাহাড়ের মানুষের আত্মপরিচয়ের সমস্যাকে মর্যাদা দিয়ে ভাবতে পারার কোন যোগ্যতাই নেই তৃণমূল ও বিজেপির।এরা সকলেই আপন আপন রাজনৈতিক স্বার্থতেই রাজনীতি করে,এমনটাই মনে করেন পাহাড়ের এক সময়কার বিধায়ক হরকাবাহাদুর ছেত্রী।তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন বিজেপিকে ভালবেসে নয়,রাজ্যের শাসক দল ও বিনয় তামাংকে ঘৃণা করার প্রকাশ ঘটিয়েছেন পাহাড়ের মানুষ,তাদের বিরুদ্ধে মত দিয়ে।অন্যদিকে জঙ্গমহল জুড়ে পদ্মের দাপটে মুছে গেছে রাজ্যের শাসক দল।তৃণমূল এখন পাহাড়ে ও জঙ্গলমহলে বাতিল মুদ্রা।স্বাভাবিক ভাবেই তাই রাজ্য জুড়ে এই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে এত উন্নয়নের ঢাক পেটানো,পাহাড় ও জঙ্গলের হেসে ওঠা নিয়ে এত কথা তার পরেও এই ফল কেন!!বাস্তবটা তো এটাই বলছে হাসতে থাকা জঙ্গলমহল ও পাহাড় একেবারে কাঁদিয়ে ছেড়েছে রাজ্যের শাসক দলকে।