মমতার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও রাজনৈতিক হিংসায় মৃত পরিবারের মানুষজন উপস্থিত ছিলেন

শেষ মূহুর্তে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে না যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।বুধবার বিকেলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেন,শপথ গ্রহণের মত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার এক মহতি অনুষ্ঠানকে বিজেপি যেভাবে রাজনৈতিক রঙ দিতে চাইছে,তাতে তাঁর পক্ষে ঐ অনুষ্ঠানে থাকা সম্ভব নয়।মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ এ রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসায় মৃত বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের পরিবারের মানুষজনকে নিয়ে গিয়ে যেভাবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির করা হচ্ছে এবং প্রচার করা হচ্ছে ঐ পরিবারগুলো তৃণমূলের হিংসার শিকার,তা একেবারে সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দ্যেশ্য প্রণোদিত।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি এ রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসায় কারোর মৃত্যু হয় নি।বিজেপি ও তৃণমূলের এই চাপানউতর পুরনো একটা বিষয়কে আবার নতুন করে সামনে নিয়ে এল।তা হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান,২০১১র ২০মে সেই অনুষ্ঠানে হাজির করা হয়েছিল নন্দীগ্রামে মৃত পরিবারের মানুষজনকে,ছিলেন তাপসী মালিকের পরিবারের লোকেরাও।আজ যে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে গণতন্ত্রের মহতি উদযাপন বলে মনে করে মুখ্যমন্ত্রী সেখানে সংকীর্ণ রাজনীতি না টানার আহ্বান রাখছেন,তিনি নিজে কিন্তু সেদিন সেই রীতিকে মান্যতা দেন নি।আর যদি তিনি মনে করেন সেদিন তিনি ঐ পরিবারের মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা দেখিয়েছেন,তাহলে আজ প্রধানমন্ত্রীর দায়বদ্ধতাকে আক্রমণ করার কোন নৈতিক অধিকার তাঁর থাকে না।আমি করলে ঠিক অন্যেরা করলে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা এ যুক্তি মানুষ মানবে কেন,তা বোধহয় ভাবার সময় এসে গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।আর একটা তথ্য দিয়ে রাখা দরকার সিপিএমের হিংসায় বলি হওয়া পরিবারের লোকজনদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির করা হবে জেনেও সেদিন মমতার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য,বিমান বসু সহ অনেক বাম নেতাই।