আইন সভায় ধর্মীয় স্লোগান ধর্মনেরপেক্ষতার ঐতিহ্যে কালি নয় বুঝি?

0
4

গত কয়েকদিন ধরে সংসদে শপথ বাক্যপাঠ কারার সময় বিভিন্ন দলের সদস্যরা যে ভাবে ধর্মীয় স্লোগানে মুখরিত হয়েছেন তাতে মনে হওয়া স্বাভাবিক, যে সংসদ যেন এক নানা ধর্মের অনুশীলনসভা,যে যাঁর মত করে সেখানে ধর্ম চর্চায় মগ্ন হতে পারেন।অথচ আমাদের আইন সভা তথা সংসদকে কিন্তু এর ঠিক বিপরিত নিয়মে চালিত করার কথাই ভেবেছিলেন আমাদের সংবিধান নির্মাতাগণ।তাঁরা চেয়েছিলেন এ দেশের সংবিধান হবে ধর্মনিরপেক্ষ,তাই আইনসভায় ধর্মের চর্চা হবে না,যে যার ধর্মীয় আনুগত্যকে ব্যক্তিগত পরিসরে আবদ্ধরেখেই সাংসদ হিসেবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করবেন।আমাদের সংবিধান প্রণেতারা জানতেন বহু ধর্মের এই দেশে কোন একটি ধর্মকে বিশেষ গুরুত্ব দিলে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য কথাটির আর কোন গুরুত্ব থাকবে না।তাই এদেশের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষতাকে শাসনতন্ত্রের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।ধর্মনিরপেক্ষতার মানে শাসনতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত সকলে ধর্ম চর্চার সঙ্গে সরাসরি নিজেদের যুক্ত করবেন না।যে কোন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান থেকে নিজেদের দুরত্ব বজায় রাখবেন।যে কেউই ব্যক্তিগতভাবে যে কোন ধর্মের প্রতি আনুগত্য দেখাতে পারেন,তবে রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি হিসেবে কারোর কোন ধর্ম পরিচয় গুরুত্ব পাবে না।রাষ্ট্রীয় আচার অনুষ্ঠানে ধর্ম প্রচার কোন ভাবেই গ্রাহ্য হবে না।এমন একটি সংবিধানের শুদ্ধতা রক্ষার জন্য যাঁরা শপথ বাক্য পাঠ করছেন তাঁরা যখন জয় শ্রীরাম বা আল্লাহ হু আকবর স্লোগানে মুখরিত হন তখন বোঝা যায় এ দেশের সংবিধানের নির্যাসটাই এঁরা জানেন না,এঁরা বুঝতেই পারেন না সংবিধানের নীতি রক্ষার শপথের নামে এনারা সংবিধনের নীতিটাকেই ভাঙছেন।ভোটের স্বার্থে ধর্মকে খুঁচিয়ে তোলার প্রয়াস এদেশের সব রাজনৈতিক দলই করেছে,বর্তমান শাসক দলতো ধর্মীয় মেরুকরণকেই তাদের নির্বাচনী সাফল্যের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে। তাই তাদের নেতৃত্বে দেশের সংসদও যে ধর্ম চর্চার আঁখড়া হয়ে উঠবে তাতে আর আশ্চর্ষ কী!তবে একটা প্রশ্ন উঠবেই,যাঁরা আইন সভার সদস্য হয়েও সাংবিধানিন আইনকে মান্যতা দেন না,দেশের সাধারণ নাগরিককে তাঁরা আইন মেনে চলতে প্রভাবিত করতে পারবেন কি?আইন নিজের হাতে তুলে নিতে চাওয়া সাধারণ নাগরিককে কোন নৈতিক অধিকারে এইসব আইনসভার সদস্যরা বলতে পারবেন আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়া সাংবিধানিক নীতি বিরুদ্ধ?যাঁরা নিজেরাই সাংবিধানিক নৈতিকতা গ্রাহ্য করেন না,তারা অন্যদের সাংবিধানিক নৈতিকতা মেনে চলতে বলবেন কীভাবে?