সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজে শিশু মৃত্যু নিয়ে বিষ্ফোরক তথ্য দিলেন কুণাল ঘোষ

0
4

সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজে শিশু মৃত্যু নিয়ে যে ভাবে জুনিয়র ডাক্তারদের কর্মবিরতিকে কাঠগড়ায় তোলার চেষ্টা হচ্ছে তাতে সহমত নন তৃণমূল দলের প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ।বরং এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য তিনি তৃণমূলেরই এক অংশের নোংরা রাজনীতিকে দায়ী করতে চান।এ বিষয়ে কুণাল ঘোষ এক বিষ্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন।তাঁর দাবি হাসপাতালে উপযুক্ত পরিকাঠামো না থাকার জন্যই শিশুটিকে বেঘোরে মরতে হয়েছে।তাঁর মতে শিশুটি যখন সাগর দত্ত হাসপাতালে ভর্তি হয় তখন তার পেডিয়াটিক ভেনটিলেশনের প্রয়োজন হয়,কিন্তু সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজে পেডিয়াটিক ভেনটিলেশনের ব্যবস্থা না থাকায় ঐ শিশুটিকে অন্যত্র রেফার করা হয় এবং তখনই সে হাসপাতালের অচলানস্থার শিকার হয়ে মারা যায়।কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন কেন সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মত একটা জায়গায় পেডিয়াটিক ভেনটিলেশনের ব্যবস্থা থাকে না।এর পরেই বিষ্ফোরক তথ্য দিয়ে কুণালবাবু জানান,তিনি যখন সাংসদ ছিলেন তখন তাঁর সাংসদ তহবিল থেকে তিনি ৫০ লক্ষ টাকা সাগর দত্ত হাসপাতালকে দেন।কিন্তু সে সময় সাগর দত্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর দেওয়া সাংসদ তহবিলের অনুদান নিতে অস্বীকার করে।কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন যেহেতু তিনি সে সময় রাজ্যের শাসক দলের সুনজরে ছিলেন না তাই তাঁর দেওয়া টাকায় হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন করতে রাজি হয় নি সাগর দত্ত মেজিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।প্রায় পাঁচ বছর ৫০ লক্ষ টাকা ফেলে রেখে তারপর তা ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তৃণমূলের এই প্রাক্তন সাংসদের।কুণাল ঘোষ জানাচ্ছেন তাঁর দেওয়া কেন্দ্রীয় অনুদান ফিরিয়ে দিয়ে,সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয় তাদের যাবতীয় পরিকাঠামো আছে তাই পরিকাঠামো বাড়াতে তাদের কোন অর্থের প্রয়োজন নেই।কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন,যদি পরিকাঠামোই থাকে তাহলে কেন পেডিয়াটিক ভেনটিলেশনের জন্য একটি শিশুকে মরাণাপন্ন অবস্থায় অন্যত্র পাঠাতে হয়?কেন তাঁর তহবিল থেকে দেওয়া ৫০ লক্ষ টাকায় পেডিয়াটিক ভেনটিলেশনের ব্যবস্থা করা হল না?কুণাল ঘোষ অভিযোগ করছেন নোংরা সংকীর্ণ রাজনীতির জন্যই এই শিশুটিকে এভাবে বেঘোরে মরতে হল।তিনি এই শিশুর মৃত্যুর জন্য সাগর দত্ত হাসপালের তত্কালীন প্রন্সিপাল ও কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন। এ রাজ্যে সরকারি হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো ও রোগী ভর্তির যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রন করেন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা ও মন্ত্রীরা,কুণাল ঘোষ সারদা কান্ঠ নিয়ে সেসময় সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযোগ করেছিলেন তাই তার তহবিলের টাকা নিয়ে হাসপাতালের পরিকাঠামোর উন্নয়নে কাজে লাগালে মুখ্যমন্ত্রী বিরূপ হতে পারে তাই হয়তো তাঁর টাকা ফেলে রেখে ফেরত দিয়ে নেত্রীকে খুশি করেছেন সাগর দত্ত হাসপালের সঙ্গে যুক্ত কিছু চিকিত্সক ও শাসক ঘনিষ্ট লোকজন।এদের কাছে সন্তান হারা এক দম্পতির হাহাকারের চেয়েও মুখ্যমন্ত্রীর কৃপা ধন্য হওয়া অনেক জরুরি হয়তো,কিন্তু এতে মানবিকতা-মনুষ্যত্ব যে রসাতলে যায় তা এদের কে বোঝাবে!প্রচন্ড ক্ষোভ ও হতাশা থেকে কুণাল ঘোষ এদের জন্য বরাদ্দ করেছেন কয়েকটি শব্দ সেটাই হয়তো ষথার্থ,দু পায়ে হেঁটে চলা জন্তু-জানোয়ার।তবেএকটা কথা মানতেই হবে রাজ্য জুড়ে হাসপাতালে যে অচলাবস্থা চলছে,ডাক্তাররা যেভাবে প্রতিদিন পরিকাঠামো উন্নয়ন না করার অভিযোগ তুলছে সরকারের বিরুদ্ধে, সেই আবহে কুণাল ঘোষের এই তথ্য অবশ্যই তাত্পর্যপুর্ন ও বিষ্ফোরক।