‘সুবিচার’১৪ বছর জেল খেটে বেকসুর ‘মাওবাদী’

0
5

এর নাম সুবিচার,এরই নাম ন্যায়,১৪ বছর জেল খাটার পর অবশেষে আদালত জানিয়ে দিল তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার যে অভিযোগ আনা হয়েছিল তার কোন ভিত্তি নেই,তাই ওঁদের বেকসুর খালাস করে দেওয়া হল।ওঁরা মানে মাওবাদী সন্দেহে ধৃত পতিতপাবন হালদার,সন্তোষ দেবনাথ ও সুশীল রায়।প্রায় ১৪ বছর আগে এঁদের হুগলির হিন্দমটর ও কলকাতার বড় বাজার এলাকা থেকে মাওবাদী সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।বিশেষ অস্ত্র আইনে এঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলা হয় এঁরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।এদের প্রত্যেককেই সিআই মাওয়িস্ট তকমা দিয়ে আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়।১৪ বছর আগেই ঝাড়গ্রাম দায়রা আদালত এঁদের যাবজ্জীবনের সাজা শুনিয়ে দেয়।এর পর এঁদের পক্ষে আবার উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়।সেই আবেদনের শুনানি চলতে চলতে কেটে গেছে ১৪ বছর,অবশেষে এই ২০১৯ এ আদালত জানালো এঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার কোন প্রমাণ নেই,তাই এঁরা নির্দোষ,এঁদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।এঁদের রাখা হয়েছিল দমদম সেন্ট্রাল জেল ও প্রেসিডেন্সি জেলে।প্রেসিডেন্সি জেলেই বিচার চলাকালীন ২০১৪ সালে মারা যান সুশীল রায়।অর্থাত্ মৃত্যুর ৫ বছর পর আদালত তাঁকে নির্দোষ বলে ঘোষণা করলো।ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার মহানুভবতার পরিচয় তুলে ধরতে বলা হয় এখানে নিশ্চিত করা হয় যেন কোন নিরাপরাধ ব্যক্তি সাজা না পায়,তার জন্য ১০০ অপরাধিকে ছাড় দিতেও পিছপা হয় না ভারতীয় বিচার ব্যবস্থা।অথচ এই ঘটনা প্রমাণ করছে নিরাপরাধ ব্যক্তির সাজা রোধ করতে কোন সুরক্ষা বলয় নেই ভারতীয় বিচার বিভাগের।কেন একটা অভিযোগের সত্যতা বিচার করতে কেটে যাবে ১৪ বছর?কেন কোন নিরপরাধ ব্যক্তির জীবন থেকে ১৪টা বছর ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য আদালত কোন জবাব দিহি করবে না?যে মানুষটা বিচার পর্ব চলার মধ্যেই জেলে মারা গেল,তাঁর প্রতি কত বড় অন্যায় করা হল তার বিচার করবে কে?এ দেশে চোর চিটিংবাজরা ছাড় পায় আর সমাজ নিয়ে দেশ নিয়ে কেউ অন্যরকম কিছু ভাবলেই তাঁকে দেশবিরোধী বলে দেগে দিয়ে জেলে পুরে দেওয়া হয়,এ কেমন বিচার সে প্রশ্ন উঠবেই।এ রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারে আসার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সব রাজবন্দীদের মুক্তি দেওয়া হবে ,সে প্রতিশ্রুতি কেন রাখা হল না সে প্রশ্ন তাই এই পরিপ্রেক্ষিতে স্বাভাবিক ভাবেই তুলছেন মানবাধীকার আন্দোলনের কর্মীরা।এ রাজ্যে বন্দীমুক্তি কমিটির ভূমিকা নিয়েও অনেকে েই ঘটনার পর প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।