চিকিত্সক পেটানোর ব্যাধি স্বাস্থ্য পরিষেবার গভীর অসুখ

নানা অজুহাতে চিকিত্সক পেটানো বিশেষ করে জুনিয়র ডাক্তারদের মারধর এখন সরকারি হাসপাতালে নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ডাক্তার পেটান চললো এনঅারএসে। একজন পড়ুয়া গুরুতর জখম হয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। স্বাভাবিকভাবে ক্ষোভে ফুঁসছে এনঅারএসের চিকিত্সক ও পড়ুয়ারা। তার জেরে মঙ্গলবার এনঅারএস সহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে কর্মবিরতিতে সামিল হয়েছেন চিকিত্সকদের একাংশ ও পড়ুয়ারা। সরকারি হাসপাতালে চিকিত্সকদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সরকারি হাসপাতালে পরিকাঠামোর অভাবের জন্যও রোগীর প্রতি অবহেলা যে হয় তা মিথ্যে নয়। নীল সাদা রঙের বিল্ডিং বা রোগীর পরিবারের জন্য ছাউনি করে দিলেই স্বাস্থ্য পরিকাঠামো তৈরি শেষ হয় না, বরং শুরু হয়। রোগী অনুপাতে প্রয়োজন হয় চিকিত্সক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী। প্রয়োজন সুষ্ঠু হাসপাতাল ব্যবস্থাপকের। যিনি নজর দেবেন মানুষের স্বাস্থ্য পরিষোব ব্যবহার করে কুকুরের ডায়েলিসের যাতে না হয় তার দিকে । নজর থাকবে রোগীদের সঙ্গে ঠিকমত কথোপকথনের দিকটিতেও। তাছাড়া যতদিন জেলা বা ব্লকস্তরে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার পিছনে ব্যয় বাড়ান যাবে ততদিন শহরে সরকারি হাসপাতালে ভিড়ও কমবে না। অার ভিড় সামলা দিতে না পারার কারণেই অবহেলার অভিযোগ উঠছে বারবার। তবে চিকিত্সক ও পড়ুয়াদেরও ভেবে দেখতে হবে কর্মবিরতি তাদের পাথেয় কি না? কারণ সরকারি হাসপাতাল অচল হলে সবথেকে বিপাকে পড়েন গরীব অসহায় রোগী ও তাঁর পরিবার। লড়াইটা সরকার বা প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিরুদ্ধে, রোগীর বিরুদ্ধে নয়। সেটা ভুললে বোধ হয় গন্ডগোল মেটা তো দূরের কথা বেড়েই চলবে।