রোগী বা ডাক্তার কারো কান্নাই কি শুনতে পাচ্ছেন না মুখ্যমন্ত্রী!

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী আপনি এ রাজ্যের প্রধান প্রশাসক।আপনার হাতেই পুলিশ,আপনার হাতেই স্বাস্থ্য বিভাগ,অথচ গত কয়েকদিন ধরে আমরা দেখছি এক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে কেন্দ্র করে। গত চার-পাঁচদিন ধরে জুনিয়ার ডাক্তাররা তাঁদের নিরাপত্তার দাবিতে যে কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন,তার পরিপ্রেক্ষিতে আপনার অবস্থান গণতান্ত্রীক রীতি সম্মত বলে আমরা মানতে পারছি না।ডাক্তার নিগ্রহকে কেন্দ্র করে যে ঘটনার সূত্রপাত,তার নিরসনে অপনি প্রথমেই তো জানিয়ে দিতে পারতেন যে কোন ভাবেই ডাক্তার নিগ্রহকে আপনার সরকার অনুমোদন করবে না,আপনি তো প্রতিশ্রুতি দিতে পারতেন ডাক্তারদের নিরাপত্তার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আহত-রক্তাক্ত ডাক্তারদের পাশে দাঁড়িয়ে আপনারই কী প্রথমে বলা উচিত ছিল না,যে সরকার ডাক্তারদের উপর হামলাকারীদের খুঁজে বার করার দায়িত্ব নেবে,বিনিময়ে ডাক্তারদেরও প্রতিশ্রুতি দিতে হবে তাঁরা একযোগে কর্মবিরতিতে যাবেন না।ডাক্তারদের উপর হামলাকারিদের চিহ্নিত করার সময়ও আপনি বেঁধে দিতে পারতেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী,এবং তা বেঁধে দিয়ে ডাক্তারদের উদ্দেশ্য করে আবেদন রাখতে পারতেন,তাদের উপর নির্ভর করে থাকে এ রাজ্যের হাজার হাজার মানুষের জীবন-মরণ তাই তাঁরা একযোগে কাজ বন্ধ করে দিলে রাজ্য জুড়ে স্বাস্থ্য পরিষেবায় নেমে আসবে ভয়াবহ দুর্যোগ,তাই তারা যেন এমন সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকেন।আপনি তো এমনটা করলেন না মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী,আপনি তো হুমকি দিলেন,ধমকে চমকে সব কাজ আদায় করা যায় না এটা আপনার মত ক্ষমতার চেয়ারে বসা ব্যক্তিরা কবে মানতে শিখবেন কে জানে!আর এটা করতে গিয়ে গোটা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে এক ভয়াবহ সংকটের মুখে ফেললেন আপনি,ভেবে দেখেছেন?ডাক্তারদের আন্দোলনকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে দিতে বৃহস্পতিবার এসএসকেএমে গিয়ে আপনি সময় বেঁধে দিলেন বললেন,কাজে যোগ না দিলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।আর তার পর থেকে রাজ্য জুড়ে একের পর হাসপাতালে গণইস্তফার হিরিক শুরু হয়েছে।উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্র সবাই পদ ছেড়ে দিচ্ছেন।গোটা দেশ এই ডাক্তারদের আন্দোলনের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে।মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার আপনি আন্দোলনরত ডাক্তারদের ভয় দেখাতে বলেছেন তাঁদের যদি কমিউনিটি থাকে,তবে মনে রাখবেন সাধারণ মানুষেরও কমিউনিটি আছে,তারা একসঙ্গে প্রতিরোধ করতে নামলে কী হবে ডাক্তাররা যেন মনে রাখেন।এ আপনি কী বললেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী!এ কথা কোন গণতান্ত্রীক ব্যবস্থাপনার প্রতিনিধির মুখে মানায়?আপনি কী জানেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী,এ রাজ্যে সাধারণ মানুষ ও ডাক্তারদের মধ্যে এক ভয়াবহ অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে,সেখান থেকেই এই ডাক্তার রোগীর দ্বন্দ্ব,সেখান থকেই হিংসা,সেখান থেকেই ডাক্তারদের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা।এমনকী স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর অভাবজনিত কারণের দায়ও ডাক্তারদের বহন করতে হয়।মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী আপনি বা আপনার মন্ত্রীসভার সদস্যদের অধিকাংশ সদস্য অসুস্থ হলে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন না,আপরা জানি, আপনাদের জন্য বিলাসবহুল বেসরকারি নার্সিং হোম আছে তাই হয়তো সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামোর অভাব সম্পর্কে আপনারা সম্যক অবহিত নন,তাই জানেন না কেন ডাক্তারদের প্রতি মানুষের ক্ষোভ ও রাগ তৈরি হয়।যখন দরকার সাধারণ মানুষ ও ডাক্তারদের মধ্যে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতা দুর করতে সরকার ও প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার তখন মুখ্যমন্ত্রী আপনি সেই দ্বন্দ্বকে আর উসকে দিতে চাইলেন,সেই অবিশ্বাসকে ডাক্তারদের শায়েস্তা করার কাজে ব্যবহার করার হুঁশিয়ারি দিলেন,একজন যথার্থ প্রশাসকের কী এমন আচরণ মানায় মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী?

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী আপনি অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ রাজনীতি করছে ডাক্তার আন্দোলনকে সামনে রেখে,হাঁ ঠিকই বলেছেন হয়তো কিন্তু আপনি সেই সুযোগ কেন করে দিচ্ছেন সেটাও তো ভাববেন।অসংখ্য মানুষ সমস্যায় পড়েছেন,তাই কারোর বিরুদ্ধে কাউকে উসকে দিয়ে নয় এখনই দরকার ডাক্তারদের কাজে ফেরার আবেদন করার।মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত ইগো ত্যাগ করে ডাক্তারদের বলুন না,পাশে থাকবো,ওরাও যেন মানুষের পাশে থাকেন।হুমকি নয়,ক্ষমতার হুঙ্কারে নয়,মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী এই ভয়াবহ সময়ে নমনীয় হয়ে,ভালবাসা ও সহমর্মিতা দিয়ে ডাক্তারদের ক্ষোভ ও রাগকে প্রশমিত করতে প্রয়াস করুন।রাজনৈতিক লাভ লোকসানের হিসেব পড়ে কষবেন আপাতাত মানুষের এই বিপদে ডাক্তার কাছে ননমীয় হয়ে দাঁড়ান মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী,কারণ মানুষ বড় কাঁদছে।