বিনা অপরাধে ১৪ বছর জেল খাটার পরেও সহবন্দিদের সঙ্গে অনশনে মাওবাদী নেতা

শুক্রবারই আদালত তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করে জানিয়ে দিয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ ভিত্তিহীন,তিনি নিরপরাধ,তাই তাঁকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।বিনা অপরাধেই এ দেশের বিচার বিভাগ তাঁর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে তাঁর জীবনের ১৪টা বছর,তবু এসব নিয়ে আক্ষেপ না করে মাওবাদী সন্দেহে ধৃত পতিতপাবন হালদার জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পরের দিনই বাড়ি না ফিরে সহ বন্দীদের সঙ্গে অনশন আন্দোলনে বসে পড়লেন দমদম সেন্ট্রাল জেলে। ১৪ বছর জেলে থেকে তিনি বুঝেছেন বন্দিদের উপর অনেক সময়ই অন্যায় করা হয়,মুখে যাই বলা হোক এদেশের জেলখানাগুলো যথার্থ সংশোধনাগার হয়ে ওঠেনি।তাই দুর-দুরান্তে বিচারের জন্য যাওয়া বন্দিদের একদিনের খাবার যে খরচ বরাদ্দ করেছে কাড়া বিভাগ তা একেবারেরই সঠিক নয়।৫০টাকায় একদিনের খাওয়া-দাওয়া হয় না,ওটা ১০০ টাকা করতে হবে,এই দাবিতে দমদম সেন্ট্রালজেলের বন্দিরা অনেকদিন ধরেই আন্দোলন করছেন।গত ১৪ বছর এই জেলেই বন্দি ছিলেন পতিতপাবনবাবু,একদিন আগে তাঁকে নির্দোষ বলে মুক্তি দেয় আদালত।তবে মুক্তি পাবার পরেও সহবন্দিদের থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে রাজি নন পতিতপাবন হালদার।ওদের দাবির সঙ্গে সহমত হয়ে ওদের পাশে বসেই শনিবার থেকে অনশন আন্দোলন শুরু করলেন বিনা অপরাধে ১৪ বছর জেলখাটা এই ‘মাওবাদী’বৃদ্ধ।বয়স সত্যি-সত্যিই তাঁর মুখে তৃকোণমৃতির আজব আঁচড় কেটেছে,হাঁটুর গাঁটে সত্যিই বড় ব্যথা কিন্তু সেসব কোনকিছুই মানুষের পাশে থাকার ইচ্ছেকে দমিয়ে দিতে পারে নি,পতিতপাবনবাুরা প্রমাণ করছেন বয়স হওয়া মানেই নিজের সঙ্গে কথা বলা নয়,বয়স হলেও মানুষের পাশে,মানুষের আন্দোলনে থাকা যায়।পতিতপাবনবাবুরা বার বার ধরিয়ে দিতে চান ব্যবস্থাপনার নানা অসঙ্গতি-অবিচার,তাই হয়তো ব্যবস্থাপনার কর্তা ব্যক্তিদের কাছে তাঁর মত মানুষজনরা দেশবিরোধী বলে চিহ্নিত হতে থাকেন।তবে একটু ভেবে দেখলে হয়তো অনেকেই বুঝবেন এঁরাই দেশের মানুষের প্রকৃত বন্ধু।দেশের মানুষকে না ভালবেসে কি দেশপ্রেম হয়!!