আদালতেও প্রশ্নের মুখে শাসকদলের গাজোয়ারি!

0
4

মাত্র একদিন আগে আমরা সাতদিন ডট ইনের সম্পাদকীয় পাতায় বিষয়টি উত্থাপন করেছিলাম।বলেছিলাম যেভাবে এদেশের রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা প্রপ্তির তাড়নায় দলবদল ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে যাচ্ছে তাতে গণতন্ত্রের কাপড় সর্বসমক্ষে খুলে পড়ার তুমুল সম্ভাবনা উপস্থিত।একদিনের মধ্যেই যেন হুবাহু সেই কথারই প্রতিধ্বণি শোনা গেল কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয়া বিচারপতির গলায়।বনগাঁ ও হালিসহরের পুরসভা দখলে এ রাজ্যের শাসক দল যে কৌশল নিয়েছে তাকে তীব্র কটাক্ষ করে হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় প্রশ্ন তুললেন গায়ের জোরে বিরোধীদের ভোট দিতে না দিয়ে,প্রশাসনকে ব্যবহার করে ক্ষমতা ধরে রাখার প্রয়াসকে কোন বিচারে গণতন্ত্র বলে?কেন গণতন্ত্রের নামে মানুষের সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করা হয়?বিচারপতি বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যানকে লোভি বলে কটাক্ষ করে জানতে চান,কেন তিনি সংখ্যা গরিষ্টের সমর্থন হারিয়েও চেয়ার আঁকড়ে বসে আছেন?রাজ্যের এ্যাডভোকেট জেনারেল যখন বিচারপতিকে জানান সেদিন বনগাঁ পুরসভায় অনাস্থা ভোটের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট পড়ে নি,তখন বিচারপতি জানতে চান,যারা অনাস্থা প্রস্তাব আনলেন তাঁরাই কেন অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে এলেন না? কীভাবে এটা বিশ্বাস করা যায় যে যারা অনাস্থা প্রস্তাব আনলেন তাঁরাই ভোট দিতে না এসে অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়ার সুযোগ করে দিলেন?এরপরেও ক্ষমতা কেন্দ্রীক রাজনীতিকদের মুখ রক্ষা করতে যখন রাজ্যের এজি সেদিন বনগাঁ পুরসভার নির্বাচনে নির্বাচনী অফিসারের রিপোর্ট পেশ করে বোঝাতে চান যে ভোট প্রক্রিয়ায় কোন অনিয়ম হয় নি তখন আবারও বিচারপতি কটাক্ষ করে বলেন,’নির্বাচনী অফিসারের রিপোর্ট বিশুদ্ধ গিতা নাকি,কী করে বোঝা যাবে যে সেখানেও সব ভয় দেখিয়ে লিখিয়ে নেওয়া হয়নি?’হালিসহর নিয়েও কটাক্ষ করেন মাননীয়ী বিচারপতি সমাপ্তিদেবী,তিনি অভিযোগ করেন আদালতের রায়কেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।আদালতের পর্যবেক্ষনে পরিষ্কার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে তারাই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।এদেশের সংসদীয় দলগুলির হাতেই গণতন্ত্র সবচেয়ে বেশী বিপন্ন,আদালতের এই পর্যবেক্ষণের তাত্পর্য অনুধাবনের সময় এসেছে দেশের সাধারণ মানুষের।