সাংবাদিকদের পেনশন,সাধু উদ্যোগ তবে কিছু ধোঁয়াশা

0
17

কলকাতা প্রেস ক্লাবের ৭৫ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে হাজির থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন,সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে সরকার ভাববে,এদিন মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের পেনশন চালু হওয়ার ঘোষণা করেন।অবসর প্রাপ্ত সাংবাদিকরা মসিক ২৫০০ টাকা করে পেনশন পাবেন বলে জানিয়ে দেন মুখ্যমত্রী।সাংবাদিকদের পেনশন চালু করা নিয়ে মূলত দায়িত্ব পালন করেছে প্রেস ক্লাব। সরকারের নির্দেশে প্রেস ক্লাবের নির্ধারিত কমিটি দশ বছর ধরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে কাজ করে অবসর নেওয়া সাংবাদিকদের চিহ্নিত করে তাদের যাবতীয় নথি পরীক্ষা করে সরকারকে প্রথম পর্যায় ১০০ জন সাংবাদিক ও চিত্রগ্রাহককে পেনশন দেওয়ার সুপারিশ করে। সরকার সেই সুপারিশ মেনে পেনশন চালু করার ঘোষণা করল। প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা এর পর পর্যায় ক্রমিকভাবে আর অবসর প্রাপ্ত সাংবাদিকদের আবেদন গ্রহণ করবে ও তা স্ক্রুটিনি করে নবান্নে পাঠাবে,যাতে করে আর সাংবাদিকদের পেনশন চালু হয়। প্রেস ক্লাবের এই উদ্যোগ অবশ্যই সাধুবাদ যোগ্য।সাংবাদিকদের এমনিতেই সবসময় চাকরির নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়, এমতবস্থায় তাঁরা যদি পেনশন পাওয়ার আশ্বাসটুকু পায় তবে হয়তো মানসিক বল সঞ্চয় করতে পারবেন।তবে পেনশন পাওয়ার প্রক্রিয়াতে কিছু ধোঁয়াশা দুর হওয়া দরকার,যেমন জানা দরকার ১০ বছর কাজ করলেই যে কেউই এ বিষয়ে আবেদনের যোগ্য কিনা,দশ বছর কাজ করার প্রমাণ হিসেবে কি কি দিতে হবে?সরকারি এ্যাক্রিডিডেশন কার্ড ছাড়াই যারা কাজ করে যাচ্ছে তারাও আবেদন করতে পারবেন কিনা?জেলার সাংবাদিকরাও এর আওতায়য় পড়ছেন কিনা?বার্ষিক কোন আয়ের ব্যবস্থা থাকলেও এই আবেদন গ্রাহ্য হবে কিনা?সংবাদ ডেস্কে কাজ করেও আবেদন করা যাবে কিনা?এই বিষয়গুলো পরিষ্কার হলে সুবিধা হবে সবার।প্রেস ক্লাব অবশ্য বলছে তাদের দপ্তরে যোগাযোগ করলেই তারা সব জানিয়ে দেবে।তবে মাত্র ২৫০০ টাকা কিন্তু আজকের সময়ের নিরিখে খুবই কম,এই পরিমাণ অর্থকে আর যাই হোক পেনশন বলা যায় কিনা তা নিয়েও ভাবার অনুরোধ রইলো। তবে একদম কিছু না হওয়ার চেয়ে কিছু হওয়া তো ভাল,প্রত্যাশা করা যায় এই অর্থের পরিমাণও ভবিষ্যতে বাড়বে।