সাবধান গণতন্ত্রের কাপড় খুলে পড়ছে!

0
18

দৃশ্যগুলো ক্রমেই চোখ সওয়া হয়ে যাচ্ছে আমজনতার। এই যেমন কিছুদিন আগে কাচরাপাড়ার বেশ কয়েকজন কাউন্সিলার তৃণমূল ছেড়ে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন তারা মোদীজির জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন,সেই তারাই আবার দিন কয়েক আগে রাজ্যের এক মন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভালবাসার টানে তারা আবার তৃণমূলে ফিরে এসেছেন।রাজ্যজুড়েই চলছে এই যাওয়া আসার পালা।সকালে যে বিজেপি, বিকেলেই সে আবার তৃণমূলে।রাজ্যের শাসক দল বলছে ভয় দেখিয়ে যাদের বিজেপিতে নেওয়া হয়েছিল,তারা আবার তৃণমূলে ফিরে আসছে।ওদিকে বিজেপি নেতা মকুল রায় সাংবাদিক সম্মেলন করে বলছেন তাঁর কাছে নাকি ১০৭ জন তৃণমূল সহ বিরোধী বিধায়কদের নাম আছে যারা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত,তবে তারা এখনই প্রকাশ্যে আসতে চাইছেন না,শাসক দলের ভয়।কে যে কাকে ভয় দেখাচ্ছে বোঝার উপায় নেই।এরই মধ্যে মঙ্গলবার বনগাঁ পুরসভায় দেখা গেল আজব চিত্র,সেখানে বিজেপির দিকে চলে যাওয়া কাউন্সিলারদের ভোট দিতে ঢুকতেই দেওয়া হল না,বিদ্রোহী কাউন্সিলারদের ভোট দিতে না দিয়ে শাসক দলের পুরসভার চেয়ারম্যান জানাচ্ছেন পুরবোর্ড তাদের দখলে আছে।আবার বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে ১১জন কাউন্সিলার সঙ্গে থাকায় পুরবোর্ড তাদের দখলে।রাজ্য জুড়ে পুরবোর্ডগুলি যে এখন কার দখলে বোঝা দায়,কারণ কে যে কখন কার দলে ভিড়ে যাচ্ছেন আবার ফিরে আসছেন তার কোন ঠিক নেই।এসব দেখতে দেখতে একটা প্রশ্ন জাগে,এর নাম কি গণতন্ত্র?গণতন্ত্রে তো বলা হয় সাধারণ মানুষই সমস্ত ক্ষমতার মূলে,তা এই যে এদল-ওদল করা,এই যে আজ মোদীর ভালবাসায় আপ্লুত হওয়া তো কাল মমতার ডাকে ফিরে আসা,এসবের মধ্যে সাধারণ মানুষের ভূমিকা কোথায়?যিনি তৃণমূলের টিকিটে জিতে অন্যদলে চলে যাচ্ছেন বা যিনি অন্য দলের টিকিটে জিতে তৃমমূলে গেছেন তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন তো,তবে!কে না জানেন এই দল বদলের পেছনে সবারই ব্যক্তিগত লাভ লোকসানের হিসেব আছে,মানুষের স্বার্থ,জনসেবার কোন ভূমিকাই নেই এখানে তবে কেন গণতন্ত্রের নামে এই নির্লজ্জ ধান্দাবাজির খেলা চলতে দেওয়া হবে?শুধু তো এ রাজ্য নয় দলবদলের এই খেলা চলছে গোটা দেশজুড়ে,কর্ণাটকে যে নাটক চলছে কোন বিচারে তাকে শুদ্ধ গণতন্ত্রের প্রকাশ বলে মেনে নেওয়া যাবে!কে না বোঝেন যে আর পেছনে মোটা টাকার খেলা চলছে।

গণতন্ত্র নাকি জনক্ষমতার উন্মেষের কথা বলে,গণতন্ত্র নাকি মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলে,গণতান্ত্রীক ব্যবস্থায় নাকি সকলের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার পরিসর তৈরি হয়,গণতন্ত্রে নাকি তৈরি হয় অহিংসার বাতাবরণ।এদেশের গণতান্ত্রীক ব্যবস্থার পর্যালোচনা করলে এর কোনটারই প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় কি?হিংসা খুন লুটতরাজ এসব অভিযোগ তো এই ব্যবস্থার বিরোধী কেউ নয়,এই ব্যবস্থাপনার মধ্যে থাকা রাজনৈতিক দলগুলিই পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে তুলেছে ,তাহলে?আসলে এদেশের রাজনৈতিক নেতারা বুঝতে পারছেন না,তাদের দুর্নীতি,লোভ ক্ষমতার লালসা গণতন্ত্রের কাপড় খুলে নিচ্ছে ,বেআব্রু হয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্র।যা এই সব নেতাদেরও বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে,তবে লোভে কেউ যখন অন্ধ হয়ে যায় তখন সে নিজের বিপদও দেখতে পায় না।