২১জুলাইয়ের উচ্ছ্বাসে কি টান পড়ছে!

0
8

রবিবার তৃণমূল কংগ্রেসের একুশে জুলাই শহিদ স্মরণ সভায় যথারীতি দলনেত্রী মমতা বল্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ সময় ধরে বক্তব্য রেখেছেন।এবার নতুন করে তাঁর দলের কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দীপ্ত হবার আহ্বানও রেখেছেন।বার বার বলেছেন রাজ্যে বিজেপি কয়েকটা আসন বেশী পেয়ে অশান্তি তৈরি করতে চাইছে।তাদের রুখে দিতে হবে,প্রমাণ করতে হবে বাংলাই পারে গোটা দেশকে পথ দেখাতে।তৃণমূল সুপ্রিমো তাঁর দলের জন্য কার্যক্রমও বেঁধে দিয়েছেন।আয়োজনে কোন ঘাটতি রাখে নি রাজ্যের শাসক দল,টলিপাড়ার সেলিব্রেটি থেকে তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সবাইকে মঞ্চে হাজির করা হয়েছে।সবার হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে গিফট প্যাকেট।অনুগত গায়কদের দিয়ে মঞ্চে গানও গাওয়ানো হয়েছে।তবু এবারের একুশে জুলাইয়ের সভায় যেন সেই উদ্দীপনা,সেই উচ্ছ্বাস কোথায় উধাও।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য চলাকালীনই সভাস্থল ফাঁকা হয়ে যায়।মাইকে সভার প্রথম থেকে বার বার ঘোষণা করতে হয় চিড়িয়াখানা বা ভিক্টোরিয়ার দিকে কেউ চলে যাবেন না,আজ রবিবার ২টোর আগে ঐ জায়গাগুলো খুলবে না।সেই আগের ঝাঁঝ যেন কোথায় উধাও হয়ে গেছে।সভায় লোকসমাগম নিয়েও অনেক দ্মত,কেউ বলছেন তিন লাখ কেউ বলছেন পাঁচ লাখ কেউ বলছেন মেরেকেটে লাখখানেক।সত্য যাই হোক দেখা গেল একটার পরপরই ধর্মতলা চত্তর ফাঁকা হতে শুরু করেছে।মমতা যখন বক্তব্য শেষ করলেন তখন তাঁর সামনের দিক ছাড়া আর লোকই নেই।এখনও তৃণমূল ক্ষমতায় এখও তারা রাজ্য প্রশাসনের নিয়ন্ত্রক তবু এমন উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনাহীন ২১ উদযাপন বড় চোখে লাগল।এদিনের সভাতেও পেছনের সারিতেই ছিলেন শহিদ পরিপারের কিছু মানুষজন।তবে ২১ জুলাইয়ের ঘটনা নিয়ে যে কমিশন তৃণমূল সরকার তৈরি করেছিল তার রিপোর্ট নিয়ে এদিনও কোন বাক্যব্যয় করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।যা নিয়ে পরে কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়।মমতা বললেন যে কয়েকটা মাত্র আসন বেশী পেযেছে বিজেপি,তাতে ঘাবরাবার কিছু নেই,তাঁরা নাকি লড়াই করে আবার এরাজ্যে তৃণমূলকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলবেন,কিন্তু তাঁর কর্মী সমর্থকরা তাতে উদ্দীপ্ত হলেন কি?তাদের শারীরিক ভাষায় কিন্তু তার কোন ইঙ্গিত মিলল না।রেল আটকে নাকি ২১র সভায় লোক আসতে দেয়নি বিজেপি এমন অভিযোগও শোনা গেল মমতার গলায়। মমতা বিজেপিকে সরিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবি তুললেন কিন্তু মাত্র একদিন আগে তাঁর দলেরই এক পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে হাইকোর্টর বিচারপতি যে ভাবে গণতন্ত্র হরণের অভিযোগ তুলেছেন তার পর তার দলকে গণতন্ত্রের প্রহরি বলে মানুষ বিশ্বাস করবে সে সম্ভাবনা কতটুকু তা নিয়েও তো সন্দেহ থাকছে।সব মিলিয়ে এবারের ২১জুলাই কিন্তু সেই চেনা ছবির অনেকটা বাইরেই থাকল। বলাই যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য যা কিছুটা ভীতিপ্রদই।