লিটল ম্যাগাজিনের লেখক চন্দন ঘোষ স্মরণে

তিনি ছিলেন লিটল মাগ্যাজিনের লেখক-সম্পাদক,ছিলেন প্রগতি আন্দোলনের পুরোধা কর্মী।বিশ্বাস করতেন একদিন সমাজে সাম্য আসবে,আর সেই লক্ষ্যে দায়বদ্ধ থাকা জরুরি লেখক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কর্মীদের।আজীবন সেই দায়বদ্ধতা পালন করে গেছেন চেতনা পত্রিকার সম্পাদক চন্দন ঘোষ।একাধিক ছোট পত্রিকা সম্পাদনা করে চন্দন ঘোষ যেমন তাঁর পরিচিতদের সমীহ আদায় করে নিয়েছিলেন,তেমনি গল্পকার হিসেবেও নিজের একটা স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছিলেন সাহিত্য জগতে।তবে লেখক সত্তাকে সামাজিক দায়বদ্ধতার উপরে জায়গা দিতে রাজি ছিলেন না চন্দন ঘোষ।হয়তো সেই কারণেই বানিজ্যিক পত্র-পত্রিকার সামাদর পান নি তিনি,তিনি নিজেও সেরকম সমাদর পেতে আগ্রহী ছিলেন না।১৯৯৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মুষ্টিমেয় কিছু বন্ধুদের সহযোগিতায় তিনি চেতনা পত্রিকা প্রকাশ করে গেছেন,একেবারে বানিজ্যিক ধারার বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়েই।গতবছর তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে চেতনা পত্রিকার একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের উদ্যোগ নেন চন্দন ঘোষের অভিন্ন হৃদয় বন্ধু লেখক-অধ্যাপক নিত্যানন্দ ঘোষ।সম্প্রতি কফিহাউসের বই ও চিত্র সভাঘরে এক অনুষ্ঠানে চেতনা পত্রিকার সেই বিশেষ সংখ্যার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হল।চন্দন ঘোষ স্মরণে তাঁর বন্ধু ও পাঠকরা উপস্থিত হন।এই অনুষ্ঠানে সাহিত্যিক কিন্নর রায়,সাধন চট্টোপাধ্যায়,রাখালরাজ চট্টোপাধ্যায়রা চন্দন ঘোষের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।সকলের আলোচনায় বার বার ফিরে ফিরে আসে চন্দন ঘোষের আপোষ হীন সাংস্কৃতিক চেতনার কথা,সাম্য সমাজ নিয়ে তাঁর আকাঙ্খার কথা।এই অনুষ্ঠানের যিনি মুখ্য উদ্যোক্তা সেই নিত্যানন্দ ঘোষই ছিলেন এদিনের অনুষ্ঠানের সঞ্চালক।চেতনা পত্রিকার এই বিশেষ সংখ্যায় লেখক চন্দন ঘোষকে যেমন জানা যাবে,তেমনি জানা যাবে এই ধান্দাবাজীর যুগেও চন্দন ঘোষের মত মানুষরা কীভাবে স্বপ্নের বীজ বুনে দেন অনেকের মধ্যে,কীভাবে মধ্যবিত্তের আত্মসর্বস্বতার দেওয়ালে সিঁধ কেটে ঢুকে পড়ে-ছড়িয়ে দেন হাতে হাত রেখে ,বেঁধে বেঁধে থাকার উত্তাপ।চন্দন ঘোষ যখন একটা চেতনার নাম তখন সে অমর-অমলিন সেই নির্যাসই বেরিয়ে এল চন্দন ঘোষের স্মরণে তাঁর প্রিয়জনদের আলাপচারিতায়।চেতনা পত্রিকার এই বিশেষ সংখ্যায় তুলে ধরা হয়েছে চন্দন ঘোষের সামগ্রীক সাহিত্য-সৃষ্টির তথ্যও।লিটল ম্যাগাজিনের কর্মী ও সাহিত্যিকদের অনুপ্রেরণা দিতে সাহায়ক হবে বলেই মনে হয়,চন্দন ঘোষকে নিয়ে চেতনার এই বিশেষ সংখ্যাটি।