জোর করে চেয়ার ধরে রাখার জন্য বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যানকে তিরস্কার হাইকোর্টের

বনগাঁ পুরসভা দখলে রাখা নিয়ে আদালতে গিয়ে বিচারপতির তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়লেন বনগাঁ পুরসভার তৃণমূলের চেয়ারম্যান সহ কাউন্সিলাররা।শুক্রবার হাইকোর্টে বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়ের কাছে বনগাঁ পরসভার দায়িত্ব বর্তমান চেয়ামম্যানের উপরই দেওয়ার আবেদন করে রাজ্যের আ্যাটভোকেট জেলারেল বনগাঁ পুরসভার সংখ্যাগরিষ্ট কাউন্সিলারদের একটি তালিকা বিচারপতির কাছে জমা দিতেই তীব্র কটাক্ষ করে বিচারপতি সমাপ্তিদেবী জানতে চান এইসব কাউন্সিলারদের যে ভয় দেখিয়ে সই করানো হয় নি তার প্রমাণ কোথায়?এর পরেই আর তীব্রভাবে কটাক্ষ করে বিচারপতিকে পুরসভার চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়,’আপনি এত নির্লজ্জ কেন?কেন ক্ষমতা ভোগের এত লোভ আপনার?মানুষ আপনাদের ভোট দিয়ে পরিষেবা দেওয়ার জন্য নির্বাচিত করেছেন,আর আপনারা গায়ের জোরে চেয়ার দখলে রাখতে ব্যস্ত।এর নাম গণতন্ত্র?লজ্জা করে না আপনাদের,সংখ্যা গরিষ্ঠতা হারিয়েও চেয়ার আঁকড়ে বসে আছেন,গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করতে চান।’বিচারপতির তীব্র ভর্তসনায় একেবারে হকচকিয়ে যান রাজ্যের এজি।এর পরেই বিচারপতি জানিয়ে দেন তাঁর পর্যবেক্ষন হচ্ছে পুরসভায় আবার আস্থা ভোটের ব্যবস্থা করা হোক,দরকার হলে ডিএম বা এসডিপিও অফিসে আস্থা ভোটের ব্যবস্থা হোক।জেলার এসপি উপস্থিত থেকে গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া যাতে শান্তিপূর্ণ হয় তার ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করুক।প্রসঙ্গত দিন কয়েক আগে বনগাঁ পুরসভায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন বিরোধীরা, অভিযোগ সেদিন পুরসভার গেট বন্ধ করে দিয়ে,বিরোধীদের ভোট দিতে না দিয়ে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোটাভুটি বন্ধ করে দেয় শাসক তৃমমূল।এর পরেই বিরোধী পক্ষ কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়।বিচারপতির কটাক্ষে মুখ পুড়ল শাসক দলের,একই সঙ্গে ক্ষমতার লালসায় অন্ধ হয়ে যাওয়া রাজনীতিকদেরও বোধহয় বড় একটা ধাক্কা দিলেন বিচারপতি।