আবার উত্তপ্ত নৈহাটি

0
2

তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের দ্বন্দ্বে আবার উত্তপ্ত হল নৈহাটি এলাকা। শুক্রবার থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে থাকে।অভিযোগ মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দিন কয়েক আগে নৈহাটি এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ হয়,সেই ঘটনার জেরে নৈহাটি থানার পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করে।অন্যদিকে সেই ঘটনায় আহত কয়েকজন বিজেপি কর্মী হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের দেখতে হাসপাতালে যান বিজেপির এক কাউন্সিলার।তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ ঐ কাউন্সিলারই দিন কয়েক আগের সংঘর্ষের ঘটনার মূল হোতা।তৃণমূল কর্মীদের এই অভিযোগের ভত্তিতে হাসপাতালে অসুস্থ বিজেপি কর্মীদের দেখতে যাওয়া ঐ কাউন্সিলার শঙ্কর দাসকে গ্রেপ্তার করে নৈহাটি থানার পুলিশ।অভিযোগ এর পরেই পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠতে শুরু করে।

পুলিশ একেবারে তৃণমূলের নির্দেশ মেনে কাজ করছে এই অভিযোগে এলাকায় অবরোধ শুরু করে বিজেপি কর্মীরা।শুক্রবার অনেক রাত পর্যন্ত নৈহাটি থানা অবরোধ করে রাখে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা।রাতে সেখানে উপস্থিত হন সাংসদ অর্জুন সিং,বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি পুলিশকে হুমকি দেন বলেও অভিযোগ।শনিবার সকাল থেকে নৈহাটি এলাকা আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।থানায় জড় হতে থাকেন বিজেপির কর্মী ও সমর্থকরা।বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ শুরু হয়।প্রশাসনের তরফে অবরোধ তোলার চেষ্টা হলে বিক্ষোভকারীরা পান্টা স্লোগান ও অবস্থান শুরু করে।এলাকা জুড়ে আবার আতঙ্কের পরিবেশ ফিরে আসে।সাংসদ অর্জুন সিং ঘোষণা করেছেন তাঁদের কাউন্সিলারকে মুক্তি দেওয়া না হলে এলাকা জুড়ে বড় আন্দোলন শুরু হবে।

শনিবার সকাল থেকে নৈহাটি এলাকায় স্বাভাবিক জীবন-যাপন অনেকটাই ব্যহত হয়েছে।পুলিশ এলাকায় টহল দিলেও তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারেন নি বলে খবর।এদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে বিজেপি ও তার কর্মী সমর্থকরা এলাকার দখল নিতে চেষ্টা করছে।অর্জুন সিংকেই এই ঘটনার জন্য মূল দায়ী বলে জানাচ্ছেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব।তবে বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা অভিয়োগ করে বলা হয়েছে,পুলিশ তৃণমূলের কথায় শুধুমাত্র বিজেপি কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে ও নানা মামলায় তাদের জড়িয়ে দিচ্ছে,এই বিক্ষোভ প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষজনের স্বঃতস্ফুর্ত প্রতিবাদের বহিপ্রকাশ।এই অভিযোগ আর পান্টা অভিযোগের চাপানউতরে যে প্রশ্নটা চাপা পড়া যাচ্ছে তা হল প্রশাসন কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এতটা ব্যর্থ হচ্ছে,কেন তারা রাজনৈতিক রঙ না দেখে দুষ্কৃতীদের দমন করার সর্বাত্মক ভূমিকা নিতে পারছে না?তবে কি রাজনৈতিক আনুগত্যই পুলিশের কাজের দক্ষতাকে শেষ করে দিয়েছে?স্থানীয় মানুষজনের মনে সে সংশয়ও রয়েছে,তা বলাই বাহুল্য।