এ পুলিশ কেমন পুলিশ!অন্ধকারে শিক্ষক পেটায়

0
11

এ রাজ্যের পুলিশ তাঁদের কর্মকান্ডের দৌলতে বার বার আলোচনার শিরোনামে এসেছে,কখোন থানায় শাসক দলের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীদের আক্রমনের হাত থেকে বাঁচতে টেবিলের নীচে লুকিয়ে থেকে,কখোন আবার থানার মধ্যে দুষ্কৃতী তান্ডবের আশঙ্কায় বাচ্চাদের মত হাউ-হাউ করে কাঁদতে থাকার দৃশ্য উপহার দিয়ে।কোন কোন হতভাগ্য পুলিশ অফিসার আবার শাসক মদতে পুষ্ট দুষ্কৃতীদের গুলিতে,বোমায় প্রাণ দিয়েও আলোচনার শিরোনামে উঠে এসেছেন।একদিকে এ রাজ্যের পুলিশ বাহিনীর একাংশ যখন শাসক দলের নিয়ন্ত্রনের কাছে শর্তহীন আনুগত্য প্রদর্শন করতে গিয়ে নিজেদের সম্মান আত্মমর্যাদা একেবারে খুইয়ে বসেছে,অন্যদিকে আবার সেই পুলিশই নিরীহ যে কোন রকম প্রতিবাদী মানুষজনদের উপর নিজেদের ‘বিরত্ব’ফলাতে ব্যস্ত হয়ে উঠতে সময় খরচ করছে না।

শনিবার কল্যানীতে একদল পার্শ্বশিক্ষকদের প্রতিবাদী অবস্থানকে বানচাল করে দিতে যে ভাবে রাতের অন্ধকারে লাইট নিভিয়ে দিয়ে মঞ্চে উঠে পুলিশ লাঠিপেটা করল একদল শিক্ষককে তাতে এদের সম্পর্কে একটা শব্দই প্রয়োগ করা যায়,’মাতৃ গর্ভের লজ্জা’হাঁ- এরা এদের মাতৃগর্ভকে লজ্জিত করেছে,লজ্জিত করেছে বাংলা কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে।অন্ধকারে মহিলা পার্শ্বশিক্ষকদের শুধু লাঠিপোটা করেই ক্ষান্ত হয় নি এরা মহিলা শিক্ষকদের শাড়ি-ব্লাউজ ধরে টেনে ছিঁঁড়েও দিয়েছে।পরিষ্কার ছবিতে তা দেখা গেছে।এর পরেও কোন মুখে এ রাজ্যের প্রশাসন বাংলা কৃষ্টি-সংস্কৃতি নিয়ে বড়াই করে,কোন মুখে মুখ্যমন্ত্রী মা-মাটি-মানুষ নিয়ে স্লোগান দেন?শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর পুলিশ বাংলার সংস্কৃতিতে যে কলঙ্ক লেপে দিল,সেই কলঙ্ক মুছতে কেন প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী?পুলিশই যেখানে নারীর আব্রু হরণে ব্যস্ত হয়ে ওঠে,সেখানে নারীর সুরক্ষা রক্ষার দায়িত্ব নেবে কে?

এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী,তাঁর দল গণতন্ত্রের কথা বলেন,কোন গণতন্ত্রের পাঠ দিচ্ছেন তাঁরা এ রাজ্যে?কেন এক একটা নিরীহ-নিরস্ত্র প্রতিবাদ আন্দোলন দমন করতে তারা এতটা মরিয়া-উগ্র হয়ে ওঠেন?কিসের ভয়,একদিকে মুখে মা-মাটি মানুষ আর অন্য দিকে মানুষের প্রতিবাদ ধ্বণিত হলেই তার টুটি চেপে ধরতে এত আগ্রহ!প্রতিবাদ-প্রতিরোধকে যদি এতই ভয় তবে গণতন্ত্রের চেয়ারে বসা কেন?ক্ষমতার চেয়ার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভুলিয়ে দিয়েছে তাঁর অতীত,ভুলে গেছেন তিনি বিরোধী নেত্রী থাকাকালীন থানায় ঢুকে পুলিশ অফিসারকে ধমকেছেন,বিধানসভায় নির্বিচার ভাঙচুড় করেছেন,জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বসেছিলেন দিনের পর দিন আর আজ পার্শ্বশিক্ষকদের দাবিদাওয়ার আন্দোলন হলেই পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে,মহিলাদের শাড়ি ব্লাউজ ছিঁড়ে তাঁদের অবস্থান থেকে তুলে দিতে বাধ্য করতে হবে,আর তারপর মঞ্চে মঞ্চে গিয়ে কন্যাশ্রী আর রূপশ্রি নিয়ে বক্তিমা চলবে,শাবাস সততার প্রতীক শাবাস!শাবাসি দিতে হয় এ রাজ্যের ‘বীর’পুলিশবাহিনীকেও এরা থানায় দুষ্কৃতী তান্ডব হলে চেয়ারের নীচে লুকিয়ে পড়বেন,কাঁদবেন,টালিগঞ্জে থানার দোতলায় উঠে স্থানীয় গুন্ডারা পুলিশকে বেধরক পেটানোর পড়েও ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যাবে,পুলিশের শীর্ষ কর্তারা কোন বার্তা না দিলে কোন ব্যস্থা হবে না,কিন্তু কোন চাকরিপ্রার্থী কিংবা পার্শ্বশিক্ষকরা যদি প্রতিবাদ আন্দোলন করে তা ভাঙতে এই পুলিশের রীরত্বের কোন ঘাটতি পড়ে না,একেবারে সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে জব্দ করে দেন লাঠির ঘায়ে।শাসকদলের প্রতি আনুগত্য দেথাতে মহিলাদের শাড়ি ব্লাউজ ছিঁড়ে দিতেও এদের উত্সাহের কোন অভাব পড়ে না ,সেটাই শনিবার এরা প্রমাণ করলেন।পরিশেষে একটা কথাই বলার মুখ্যমন্ত্রী বার বার অভিযোগ করেন তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধীরা একযোগে চক্রান্ত করছে,আমরা বলি,আপনার সহায়ক শক্তি হিসেবে পুলিশ প্রশাসনের এরকম ভূমিকা থাকলে বিরোধীদের চক্রান্তের কোন দরকার হবে না এই পুলিশ বাহিনীই আপনার ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়াটা অবধারিত করে তুলবে।মামনীয় মুখ্যমন্ত্রী আপনার পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে যদি কথা বলেন সেও একই কথা বলবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।