কোটিপতি চালকরা কেন বার বার ঘাতক হয়ে ওঠে

0
3

বিড়িয়ানি ব্যবসায়ী আরসালানের পুত্র তাঁর বিলাসবহুল গাড়ির গতিকে নিয়ন্ত্রন করতে না পেরে দুজন পথচারীকে পিষে দিয়েছে।শনিবারের এই ঘটনার পর নিশ্চয়ই অনেকেরই মনে পড়ছে বেশ কয়েক বছর আগে রেড রোডে একই রকমভাবে ব্যবসায়ী সাম্বিয়ার পুত্রের গাড়িতে পিষে মৃত্যু হয়েছিল সেনাবাহিনীর এক কর্মীর।কোটিপতি ঘরের লোকজনদের এভাবে গাড়িতে সাধারণ মানুষজনদের পিষে দেবার উদাহরণের কোন ঘাটতি হতে দেখা যায় না এ দেশে।এখান থেকেই তাই একটা প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই ওঠে,তাহলে কি এই ব্যাপারটাকে অভ্যেসে রপ্ত করে ফেলেছেন এদেশের কোটিপতি ঘরের দুলালরা।কেন তাদের দামি বিলাসবহুল গাড়িতে বার বার সাধারণ মানুষের প্রাণ যাবে?আইন কি যথেষ্ট কড়া হাতে এই সব ঘাতকদের বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রন করে না?বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে এই সংশয়কে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আমরা দেখিছি সিনেমার সেলিব্রিটি সলমন খানের বিরুদ্ধে তাঁর গাড়িতে কাউকে পিষে দেবার অভিযোগ ওঠার পর কীভাবে সেই মামলা দীর্ঘায়িত হয়েছে,কীভাবে প্রত্যক্ষদর্শী আচমকা উধাও হয়ে গেছিলেন।সলমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করাই সম্ভব হয় নি।ক্ষমতা আর প্রভাবের কাছে আইন বার বার নতজানু হয় সবাই জানে।সাম্বিয়ার পুত্র শেষ পর্যন্ত জামিন পেয়েছেন,তাঁর বিলাসবহুল গাড়িতে পৃষ্ট হয়ে ভারতীয় সেনা জাওয়ানের একজন চিরতরে জীবন থেকে হারিয়ে গেলেও কড়া হাতে শবক শেখাবার জন্য ধনির পুত্রকে ধরতে কোন দেশপ্রেমীর গলার আওয়াজ শোনা যায় নি।যেমন অনেকে বলেন এদেশের এক প্রধানধনির পুত্র মুম্বাইয়ের ফুটপাতে গাড়ির তলায় কয়েকজন মানুষকে পিষে দেওয়ার পরেও আইন তাকে ছুঁতে পারেনি ক্ষমতা আর অর্থের জোর সব কিছু চাপা দিয়ে দিয়েছে।আর এই তো রুপা গাঙ্গুলির পুত্র গতি বাড়িয়ে দুর্ঘটনা ঘটিয়েও একদিনের মধ্যে জামিন পেয়ে গেলেন।তিনি কাউকে পিষে দেননি ঠিকই কিন্তু কেন গতি বাড়িয়ে তাঁরা গাড়িকে নিয়ন্ত্রনহীন অবস্থায় নিয়ে যান?হয়তো অবচেতনে কাজ করে কিছু হবে না ,তারা পার পেয়ে যাবেন,আইন আদালত সবইতো অর্থ আর ক্ষমতার বশ এরকমই ভাবেন হয়তো তারা।

চোখের সামনে তেমন উদাহরণ তো নেই যে গাড়িতে নিরীহ মানুষকে চাপা দেবার পর কড়া শাস্তি হয়েছে কোন প্রভাবশালী ব্যক্তির,সেই জন্যই হয়তো এরা এত মরিয়া।এ দুর্বলতা আমাদের আইনের,আমাদের বিচার বিভাগের।কোটিপতি প্রভাবশালীদের জন্য আইন একইভাবে প্রযুক্ত হবে শুধু মাত্র আইনের পাতায় সাবার জন্য সমান েখা থাকলে হবে না ,বাস্তবে তার প্রয়োগ থাকা চাই তা না হলে কোটিপতি ঘরের দুলালদের এই ঘাতক হয়ে ওঠা আটকানো এককথায় অসম্ভব।