গণতন্ত্রের দোলনা দুলেই চলেছে

0
11

এ রাজ্যে আমরা দেখেছি গণতন্ত্রের দোলনা কীভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিদের সকালে বিরোধীপক্ষ থেকে বিকেলেই শাসক পক্ষে নিয়ে আসে।আমাদের খুবই মনে আছে একদা কংগ্রেসের বিধায়ক মানস ভুঁইয়াকে,মনে আছে রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কেও এঁরা সব কংগ্রেসে থাকাকালীন খুনের মামলায় জড়িয়ে যাবার পর গণতন্ত্রের দোলনায় চড়ে শাসক দলে ভিড়ে সবাই কেমন ‘নির্দোষ-কলঙ্কমুক্ত’ হয়ে গেছিলেন।গণতন্ত্রের দোলুনিতেই তো এ রাজ্যে বনগাঁ,রামপুরহাট,কাঁচড়াপাড়া পুরসভাগুলো কখোন শাসক পক্ষে,আবার পরক্ষণেই বিরোধীপক্ষে ঢলে পড়ে।কখন যে কার পক্ষে কে থাকছেন কিছুই বোঝা যায় না।এ দেশের গণতন্ত্রের এই দোদুল্যমানতায়,ক্ষমতা ও আর কিছু প্রাপ্তি হয় নিশ্চয়ই গণতন্ত্রের ধারক বাহক সব রঙের গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিদের।শুধু জানা যায় না এই গণতান্ত্রিক দোলদুলুনিতে সাধারণ জনগণের প্রাপ্তি কী?সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার তাগিদ কখোন কেউ অনুভব করেছেন বলেও শোনা যায় না।

গণতান্ত্রিক এই রঙ বদলের চিত্র শুধু এ রাজ্য নয় ছড়িয়ে রয়েছে গোটা দেশ জুড়ে।কিছুদিন আগে যে কর্ণাটকে কংগ্রেস ও জেডিএসের সরকার ছিল,গণতান্ত্রিক দোলনার দোলায় সেই সরকারই এখন গেরুয়া সরকারের রূপ নিয়েছে।যাদের কিছুদিন আগে নির্বাচনে মানুষ প্রত্যাখান করেছিলেন তাঁরাই আবার ক্ষমতার অলিন্দে ঢুকে পড়ল,গণতন্ত্রের দোলনায় চড়ে।আর মজার ঘটনা ঘটল সম্প্রতি সিকিমে,সেখানে গত এপ্রিলে হয়ে যাওয়া ভোটে রাজ্য বিধানসভায় এক শতাংশের একটু বেশী ভোট পাওয়া বিজেপি এখন গণতন্ত্রের দোলনায় সব উল্টে দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তৈরি।সিকিমে গত বিধানসভা নির্বাচনে স্থানীয় দল এসডিএফ পায় ১৫টি অাসন। বিজেপি সেখানে একটা আসনও জিততে পারেনি।অথচ গণতন্ত্রের দোললা এমন ঝাঁকুনি দিয়েছে যে এসডিএফের ১০জন বিধায়কই এখন বিজেপিতে ভিড়ে গেছে।সিকিমে তাই বিজেপির ক্ষমতা পাওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।রাজ্যের মানুষ যাদের এক শতাংশ মাত্র ভোট দিয়ে প্রত্যাখান করল তারাই এবার গণতান্ত্রিক দোলনায় চেপে রাজ্য শাসনের দোড়গোড়ায়।

জনপ্রিয় একটি বাংলা গান আছে,সেই গানের কয়েকটা লাইন আমাদের এই গণতন্ত্রের দোলনার সঙ্গে ভারি মানান সই,লাইনগুলি হল এরকম,-‘এই লেগেছে পাক,এই দুনিয়া ঘোরে বন বন বন ছন্দে ছন্দে কত রঙ বদলায়।’আমাদের গণতন্ত্রের রঙ যে ভাবে বদলায় তাতে কোন ছন্দ না থাকলেও রঙ্গ যে বিস্তর আছে তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।সেই রঙ্গে মেতে আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিরা রঙ বদলান আবার সঙও সাজেন।এই গণতান্ত্রিক রঙ বদলে ও সঙ সাজায় তাঁদের বৈষয়িক বুদ্ধি কাজ করে বলে অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অভিমত,তবে তাঁরা নিজেরা বলেন সবই জনগণের স্বার্থে,জনসেবা করতেই নাকি তাদের এই ঘন ঘন গণতন্ত্রের দোলনায় চেপে বসতে হয়।তবে একটা বিষয় পরিষ্কার এদেশের গণতন্ত্রে এই দোলনাই এখন সবচেয়ে বড় সত্য তাহার উপরে কিছু নাই….