প্রসঙ্গ প্রশান্তঃ ‘দিদি’ জানতে বড় ইচ্ছে হয়!

0
52

‘দিদিকে বলো’,রাজ্যের শাসক দলের নতুন জনসংযোগ কর্মসূচি নিয়ে রাজ্যজুড়ে এখন সাজ সাজ রব।এই কর্মসূচির স্লোগান দেওয়া হোর্ডিং এ ছেয়ে গেছে গোটা রাজ্য।বিধানসভা এলাকা ধরে ধরে পৌঁছে যাচ্ছে টুপি,টিশার্ট সহ নানা উপকরণ।মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশে নিজেদের বিধানসভার প্রত্যন্ত এলাকাতে ছুটে যাচ্ছেন সব বিধায়করা।কেউ কেউ আবার আদিবাসী মানুষজনদের বাড়িতে পাত পেড়ে খেতে বসে যাচ্ছেন।ছবিটা খুব চেনা, আমরা দেখেছি এর আগেও এই ছবি, বিজেপির কর্মসূচি হিসেবে।যিনি এই কর্মসূচির নির্মাতা সেই প্রশান্ত কিশোর এর আগে একই কর্মসূচি নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন বিজেপির জন্য।এখন তিনি সেই কর্মসূচিই পালন করতে পরামর্শ দিচ্ছেন এ রাজ্যে বিজেপির প্রবলতম প্রতিপক্ষ তৃণমূলকে।সবটাই পেশাদারিত্ব।কর্পোরেট পেশাদারিত্বে এখন নিয়ন্ত্রিত হয় গণতন্ত্র।ঝা চকচকে একদল আধুনিক যুবক-যুবতী নিঁখুত দক্ষতায় কম্পিউটারের বোতাম টিপে মানুষের কাছে নিয়ে যাবেন যে কোন রাজনৈতিক দলের সাফল্যের খতিয়ান।রাজনৈতিক দলের নেতা নেত্রীরা তাদের পরামর্শ অনুযায়ী রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধির অংক কষবেন।বিনিময়ে পেশাদার কর্পোরেট সংস্থা রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে পাবেন মোটা অংকের পারিশ্রমিক।সেই লক্ষ্যেই এ রাজ্যে শুরু হয়েছে তৃণমূলের নতুন কর্মসূচি।যে নম্বর দিয়ে বলা হয়েছে কথা বলুন সরাসরি দিদির সঙ্গে,সেই নম্বরে সরাসরি দিদির সঙ্গে কথা বলা যাচ্ছে না,সেটা সম্ভব নয় সবাই জানেন,তবু প্রচার হবে,বলা হবে।হাজার সমস্যায় জর্জরিত মানুষ চেষ্টা করতেই থাকবেন যদি কখোন মিলে যায় সর্বশক্তিমান দিদিকে।যে পরিবারগুলোতে অনিশ্চিত রোজগাড়,যে পরিবার জুড়ে সমস্যার ঘনঘটা তাদের সবার সামনে প্রত্যাশার নতুন হাতছানি ‘দিদিকে বলো’।প্রত্যাশা পুরণের নিশ্চয়তা নেই,কিন্তু প্রত্যাশা তৈরির নিশ্চিত সম্ভাবনা,এভাবেই সাজানো হয়েছে নির্বাচনি সাফল্যের কৌশল।

আর এখানেই দিদিকে না বলা কথাগুলো বলে ফেলতে ইচ্ছে হয়,বলুন তো এই কদিনে কত টাকা খরচ হল এই প্রচার অভিযানে,আর কত টাকা খরচ হবে?এই অর্থের যোগান দেবে কে বা কারা?প্রশান্ত কিশোরের সংস্থাকে কত টাকা দেওয়া হচ্ছে? দ্য হিন্দ্যু পত্রিকায় প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে ২০২১ এর নির্বাচন পর্যন্ত পরামর্শ দিতে ২৫০ জন পার্টটাইমার নিয়োগ করেছে প্রশান্তের সংস্থা IPAC( Indian political action committee)। জগনমোহন রেড্ডির প্রচারের সময় ৭০০ কর্মী নিয়োগ করেছিল IPAC। রিপোর্টে বলা হয়েছে মমতার জন্য ১০০০ পর্যন্ত কর্মী নিয়োগ করতে পারে IPAC। মুখ্যমন্ত্রী এ প্রশ্নের উত্তরে পরিষ্কার কিছু না বলে জানিযেছেন সবাই টাকা নিয়ে সব কিছু করে না। তার মানে কি প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা তৃণমূলের কাছ থেকে কোন অর্থ নিচ্ছে না? তাহলেও তো প্রশ্ন উঠবে মমতার বিজেপি বিরোধিতা নিয়েও। কারণ প্রশান্ত কিশোর বিজেপির মোদির ২০১৪ নির্বাচন সামলে এখন এনডিএ সরকারের শরিক jdu এর বড় নেতা। তারই সংস্থা কোন যুক্তিতে তৃণমূলকে রাজনৈতিক সাফল্য দিতে এতটা তত্পর? সর্বপরি কয়েকশ কর্মীর বছর দুয়ের বেতন প্রশান্ত কিশোর কি নিজের পকেট থেকে দেবেন? প্রচারের খরচ কে দেবে? অন্য রাজ্যে কে দিয়েছেন। এই যেমন এখন শিবসেনার জন্য কনসালটেন্সি দিচ্ছেন সেটা কি বিনা পয়সা। মনে করার কোন কারণ নেই। রাজনীতির অনেক গোপন অংক থাকে কিন্তু সেই গোপনীয়তায় যদি গণতন্ত্র বিভ্রান্ত হয়,যদি কর্পোরেট পেশাদিত্বের কৌশল মানুষকে প্রতারিত করতে সচেষ্ট হয়ে ওঠে তবে না বলা কথাগুলো তো আমরা তুলে ধরবো,হাঁ ধরবোই। নির্বাচনে বিজেপির খরচ নিয়ে মমতা খোঁচা দেন। সঠিকই করেন। তবে দিদিকে বলো র প্রচারের এত টাকা অাসছে কোথা থেকে। দিচ্ছে কে?