নতুন করে পড়া-স্বাধীনতার বর্ণপরিচয়

0
37

স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন রাষ্ট্রপতি যথারীতি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন।দেশের গৌরব,দেশের এগিয়ে চলা নিয়ে নানাবিধ প্রবোধ বাক্যও যথারীতি উচ্চারণ করেছেন তিনি।স্বাধীনতা দিবসের দিন প্রধানমন্ত্রীও লালকেল্লা থেকে নিয়মমাফিক গর্বিত ভারতীয় হওয়ার প্রেরণা দিতে কসুর করেন নি।সমস্যা হল দিন পালনের এই অভ্যেসে সত্য স্বীকারের কোন দায় নিতে চান না আমাদের দেশের নেতা নেত্রীরা।তা না হলে তো স্বাধীনতা প্রাপ্তির এই দিনটিতেই রাষ্ট্রকর্তাদের সবচেয়ে বেশী করে বলা উচিত যে তাঁরা লজ্জিত স্বাধীনতার ৭২ বছর পড়েও এদেশের অসংখ্য মানুষ একবেলা না খেয়ে ঘুমোতে যান।দারিদ্রের তাড়নায় আত্মহত্যা করেন অসংখ্য কৃষক।দেশের সংখ্যা গরিষ্ট প্রান্তিক মানুষ এখনও বেঁচে থাকার ন্যুনতম সামগ্রী জোগাড়ে অক্ষম।বেকারিত্বের গ্লানি যুব সম্প্রদায়ের ভূবন জুড়ে।

এর সঙ্গেই দিনের পর দিন বাড়ছে জাত পাত বর্ণ ধর্ম নিয়ে হানাহানি-সংঘর্ষ।দেশের অর্থনীতি নিয়ে গর্বের কোন অবকাশ যুক্তি বুদ্ধিতে ধরা পড়ে না। তবুও গর্বিত ভারতীয়ত্ব নিয়ে বুকের ছাতি ফোলাতে কুন্ঠা হয় না আমাদের প্রধানমন্ত্রীর।নানা প্রোবধ বাক্যে সাধারণ মানুষকে সত্য থেকে,বাস্তব থেকে দুরে রাখেন আমাদের রাষ্ট্রনায়করা।দেশের মধ্যেকার বিবিধ যন্ত্রনা হাহাকারের কাহিনিকে আড়াল করতে যুদ্ধের জিগির তোলেন। সীমান্ত রক্ষা নিয়ে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করেন। প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্থানকে শবক শেখাবার হুঙ্কার ধ্বিণিত হয় প্রতিদিন দেশের প্রতিটি প্রান্তে।আর এসবের মধ্যে বিলকুল চাপা পড়ে য়ায়,এদেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাপনের জলন্ত সব সমস্যা।কেন এদেশের কৃষক এখনও তাদের ন্যুনতম দাবি আদায় করতে মাইলের পর মাইল প্রতিবাদ মিছিলে হেঁটে পা রক্তাক্ত করবেন। কেন সরকার তাদের সমস্যা সমাধানে স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরেও কোন দীর্ঘস্থায়ী উদ্যোগ নিয়ে উঠতে পারল না? কেন স্বাস্থ্য পরিষেবা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে দিনের পর দিন?কাদের মদতে,কাদের সহযোগে স্বাস্থ্য পরিষেবা লাভজনক পণ্য হয়ে উঠেছে আজ? শিক্ষা নিয়েও একই কথা বলা যায়,অথচ জনকল্যাণ মূলক রাষ্ট্রের ধারনা দিয়েই আমাদের দেশকে চিনতে শেখানো হয়েছে,শিক্ষা স্বাস্থ্য,বাসস্থান আর কর্মের অধিকার নাকি এদেেশের সংবিধানে বিশেষ অধিকার বলে স্বীকৃত কিন্তু বাস্তব চিত্রটা একেবারে আলাদা।

একবেলা না খেয়ে যে ভারতীয় রোজ ঘুমোতে যান,তারা দুবেলা পেট ভরে খেতে পাবার স্বাধীনতা পাবেন কবে?প্রান্তিক এলাকা যেখানে দুর দুরান্তে কোথাও স্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই,যেখানকার মানুষ বেঁচে আছেন স্রেফ ভাগ্যকে ভর করে সেই সব মানুষ তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বাধীনতা পাবেন কবে?যুব সম্প্রদায়ের ভূবন জুড়ে যে বেকারিত্বের পরাধীনতা তার অবসান হবে কবে?কবে দুর হবে লিঙ্গ বৈষম্য থেকে জাত পাত বর্ণ ধর্ম নিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষ?আমাদের রাষ্ট্র নেতারা ভেবে দেখুন এসব প্রশ্নের সমাধান না করে সত্যিই কি স্বাধীনতার গর্ব মানায়?

গর্বিত ভারতীয়ত্বের স্লোগান সত্য হয়ে উঠতে পারে কি?মনে করে দেখুন,আজ থেকে ৭২ বছর আগে এক মাঝ রাতে এদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষকে ঘুম থেকে তুলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন,’গোটা পৃথিবী যখন ঘুমে মগ্ন ভারত তখন যাত্রা শুরু করল এক নতুন অগ্রগতি ও উন্নয়নের দিকে।’৭২ বছর পরেও যদি সেই অগ্রগতি ও উন্নয়নের কোন চিহ্ন দেশের সংখ্যা গরিষ্ট মানুষের চেহারায় ধারা না দেয় তবে তা নিয়ে কি লজ্জিত হওয়াই উচিত নয়?আমাদের রাষ্টনায়করা এবার বরং চিরাচরিত অভ্যেসের বাইরে সত্যের মুখোমুখি হয়ে নতুন করে পড়তে চেষ্টা করুন স্বাধীনতার বর্ণপরিচয়।