অভিনয় করলেও অন্যের অভিনয় ধরতে পারেন নি,আক্ষেপ প্রসেনজিতের

0
3

নিজে দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় করলেও তাঁর কাছের মানুষজন যে তাঁর সামনে অভিনয় করে যাচ্ছেন তা তিনি ধরতে পারেন না বলে আক্ষেপ করছেন টালিগঞ্জের এই সময়ের অন্যতম প্রধান তারকা প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়।সম্প্রতি কলকাতা চলচ্চিত্র উত্সবের চেয়ারম্যানের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে রাজ্য তথ্য দপ্তর দায়িত্ব দিয়েছে পরিচালক রাজ চক্রবর্তীকে,এই প্রসঙ্গে স্পষ্টতই অভিমানি নায়ক প্রসেনজিত,তাঁর কথায়,’আমি নিজের ব্যস্ততার কারণে নিজেই আর ঐ দায়িত্বে থাকতে চাইছিলোম না,কিন্তু আমাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেবার আগে জানানো উচিত ছিল’রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত যে তাঁকে আহত করেছে তা অস্বীকার করছেন না প্রসেনজিত।

টলিপাড়ায় গুঞ্জন কিছুদিন আগে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে তাঁর একান্ত বৈঠকের খবর পেয়েই রাজ্যের শাসক দল তাঁর উপর আস্থা হারিয়েছে।এ বিষয়ে প্রসেনজিতের বক্তব্য কোন একান্ত বৈঠক তিনি কোন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গেই করেন নি,ঘটনাচক্রে একই বিমানে যাওয়ার সময় মুকুল রায়ের সঙ্গে তাঁর দেখা হয় তিনি তাঁর সঙ্গে বেশ কিছু সময় সৌজন্যমূলক কথাবার্তা বলেছিলেন।মিডিয়ার প্রচারে এটাই একান্ত বৈঠক বলে সামনে আনা হয়েছে।প্রসেনজিতের আর বক্তব্য প্রত্যক্ষ রাজনীতি করার ইচ্ছে তাঁর কোনদিন ছিল না,তাই বিজেপি বা তৃণমূল কোন দলেই তিনি সদস্য হতে চান না,তিনি তাঁর শিল্পী সত্তা নিয়েই কাজ করে যেতে চান।তবে তিনি দাবি করেন শিল্পীদের নানা সমস্যা নিয়ে তিনি সরকারের সঙ্গে কথা বলেছেন ও বলেন।যে কোন সমস্যায় মধ্যস্থতা করতে তাঁর কখোন কোন কুন্ঠা হয় নি।শিল্পী হিসেবে তাঁর ভূমিকাকে যদি কেউ বা কোন দল রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন সেটা খুবই দুর্ভা্গ্যজনক ব্যপার বলেই মনে করছেন প্রসেনজিত।

সরকারের সঙ্গে তাঁর এই সাম্প্রতিক দুরত্ব তৈরি হওয়ায় ইন্ডাস্ট্রিরই কেউ জড়িত বলে ইঙ্গিত করে প্রসেনজিত জানান,তিনি নিজে দীর্ঘদিন অভিনয় করলেও কাছের লোকের অভিনয়টা ধরতে পারেন না।এটা তাঁর দূর্বলতার লক্ষণ বলেই মেনে নেন টালিগঞ্জের এই তারকা।তবে রাজের সঙ্গে যে তাঁর কোন দুরত্ব নেই তা জানিয়ে প্রসেনজিত রাজের সাফল্য কামনা করেছেন।তবে রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সখ্য তৈরি হলে যে কখোন কখোন তার মাশুল দিতে হয় তা মানেন প্রসেনজিত।এ প্রসঙ্গে তিনি মিঠুন চক্রবর্তীর নাম উল্লেখ করে বলেন,রাজনীতিতে নামার মাশুল দিয়ে সরে গেছেন মিঠুন,তাঁর অভিমানটা নিশ্চয়ই অত সহজে কমবে না,এখন তিনি বুঝতে পারছেন বলে জানান প্রসেনজিত।তবে কি নায়ক প্রসেনজিতও তীব্র অভিমানে রাজনীতি থেকে চিরদিনের মত দুরে থাকারই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন?এর উত্তরে প্রসেনজিত জানিয়ে দেন তিনি কোন দিন রাজনীতিতে ছিলেনই না তাই সরে যাওয়ার প্রশ্নই নেই।তবে রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত যে সখ্য এবার কি তাতেও ইতি পড়তে চলেছে?প্রসেনজিতের জবাব,’না কোন মানুষের সঙ্গেই সৌজন্য প্রকাশে কোন ঘাটতি আমার দিক থেকে হবে না.তা সে রাজনীতির মানুষ হলেও না।’