ভোট বড় বালাই!তাই কি ৩৭০ধারা বাতিল নিয়ে এতটা সাবধানী মমতা?

0
19

বলা হয় বিজেপির যে কোন কর্মকান্ড নিয়ে তিনিই সবচেয়ে আগে সরব হন।গোটা দেশে বিজেপি বিরোধিতার প্রধান মুখ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে চেষ্টার কোন খামতি রাখেন না তিনি,তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।বিজেপির এনআরসি নীতির বিরোধিতায় যাঁর আওয়াজ সবসময় সপ্তমে চড়ে থাকে সেই তিনিই সোমবার সারাদিন ধরে বিজেপির ঐতিহাসিক ৩৭০ধারা বাতিল নিয়ে কার্যত নীরবতা পালন করলেন।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিক্রিয়া দেওয়া তো দুরের কথা,সোমবার একবারের জন্যও পাওয়া যায়নি তাঁর কোন ট্যুইট বার্তাও।রাজ্যসভায় তাঁর দলের সাংসদরা রাজ্য পুনর্গঠন বিলের বিরোধিতা করলেও ভোটাভুটির সময় ওয়াকআউট করেন।যা কার্যত বিজেপির সুবিধা করে দেওয়ারই সামিল।এতকিছুর পর মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এ বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করলেন বোঝা গেল তিনি খুব সাবধানী ও রক্ষণাত্মক।পরিষ্কার বললেন,৩৭০ ধারা বাতিল করা নিয়ে তিনি কোন মতামত দিচ্ছেন না,তবে যে পদ্ধতিতে এটা বাতিল করা হল তা নিয়ে তাঁর আপত্তি আছে।যে ভাবে কাশ্মীরের নেতাদের বন্দি করা হয়েছে তাঁরও বিরোধিতা করেন মুখ্যমন্ত্রী।আলাপ আলোচনা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমেই গোটা বিষয়টা হলে ভাল হত বলে মত দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এদিনের প্রতিক্রিয়ায় আগাগোড়া মুখ্যমন্ত্রীর ‘পলিটিক্যালি কারেক্ট’থাকার প্রয়াস সকলেরই নজর কেড়েছে।প্রতিক্রিয়ায় সেই মমতা সুলভ আক্রমণ নেই,ঝাঁঝও নেই।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে,৩৭০ ধারা বাতিলের পক্ষে একটা জাতীয়তাবাদী সমর্থনের ক্ষেত্র বিজেপি তৈরি করে নিতে পেরেছে, সেটা বুঝতে পারাতেই মমতা তাঁর চেনা স্বভাবে হাজির হওয়া থেকে বিরত থাকলেন।কাশ্মীরের মানুষজনকে কার্ষত অবরুদ্ধ করে রেখে,গোটা উপত্যকাকে সেনা বাহিনির রাইফেলের সামনে দাঁড় করিয়ে কাশ্মীরকে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার আওতায় নিয়ে আসার যে প্রয়াস,তা যে কাশ্মীরবাসীর স্বাধীন নাগরিক পরিসরে রাষ্ট্রের অযৌক্তি্ক ঢুকে পড়ারই নামান্তর সেকথা উচ্চারণ করা কোন ভোটসর্বস্ব রাজনৈতিক দলের পক্ষেই হয়তো সম্ভব নয়।তাই ভোটের কথা মাথায় রেখেই মমতাদের কখোন গরম আবার কখোন নরম পথে হাঁটতে হয়।ক্ষমতার আধিপত্য গণতন্ত্র নিয়ে আজব আজব গল্প তৈরি করে সময়ে সময়ে।এই যেমন এখন বলা হচ্ছে কাশ্মীরকে ভারতীয় গণতন্ত্রের মূল স্রোতে নিয়ে আসার প্রয়াস শুরু হল,আর তার জন্য গোটা কাশ্মীর জুড়ে হাজার হাজার সেনার টহল,রাজ্যের স্বীকৃতি বাতিল,রাজ্যজুড়ে কারফিউ,ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ,বন্ধ দুরদর্শন সম্প্রচার,সব নাকি গণতন্ত্রের স্বার্থে।এর কোনটা গণতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য পূর্ণ?প্রশ্ন চলবে না,ক্ষমতা যাকে গণতন্ত্র বলে চেনাবে তাকেই গণতন্ত্র বলে মেনে নিতে হবে।আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রাও এই ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত তাই তো ক্ষমতার অনুসঙ্গ মেনেই তিনি কখোন গরম কখোন নরম।দিনের শেষে ভোটটাই সব,ভোট বড় বালাই! তাই সাবধানী মমতা।