মমতা তাঁর পারিবারিক পরিসরেও হস্তক্ষেপ করতেন অভিযোগ শোভনের

0
4

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সহকর্মীদের ব্যক্তিগত পরিসরেও স্বাধীন থাকতে দিতে চান না।তৃণমূলকর্মীদের যাবতীয় স্বাধীনতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সমর্পন করতে বাধ্য হতে হয়।তৃণমূল ছেড়ে সদ্য বিজেপিতে যোগ দিয়ে ‘দিদি’র বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তাঁর একদা বিশ্বস্ত সৈনিক কাকন।বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথম দেওয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাতকারে শোভন চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেন তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে বার বার তিনি দল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অপদস্ত হয়েছেন।শোভনের অভিযোগ পার্টির মিটিং চালাকালীনও সম্পূর্ন অপ্রাসঙ্গিকভাবে তাঁর ব্যক্তিগ সম্পর্ক নিয়ে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল নেত্রী।শোভন জানান তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে সমস্যার কথা তিনি প্রথম তাঁর দলনেত্রীকেই বলেছিলেন,তখন মমতাই তাঁকে রত্নাকে ডিভোর্স দিয়ে দেওয়ার পরামর্শ শোভনকে দিয়েছিলেন বলে শোভনের দাবি।যে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে মমতা এখন বলছেন যে দল তাঁর পাশে থাকবে সেই দলের পক্ষ থেকে মমতাই যে শোভনকে বাবাহ বিচ্ছেদের পরামর্শ দিয়েছিলেন তা উল্লেখ করে শোভন কার্যত মমতার দ্বিচারিতাকে প্রকাশ্যে আনতে চাইলেন বলে অনেকের মত।

ব্যক্তিগত পরিসরে কারোর হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করতে পারেন না বলে দাবি করে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র জানান পদে পদে অপমানিত হয়ে আর তৃণমূলে থাকতে পারছিলাম না তাই শেষ সিদ্ধান্তটা নিতেই হল।তিনি একই সঙ্গে দাবি করেন তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তিনি বৈশাখীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে দলের কাছে সময় দিচ্ছিলেন না তা সম্পূর্ন অস্বীকার করে শোভনবাবু বলেন দলের কাজ ও ব্যক্তিগত সম্পর্ককে তিনি সবসময় আলাদা করে দেখে এসেছেন।তাঁর বিরুদ্ধে কাজে সময় না দেওয়ার অভিযোগকে তিনি যুক্তি দিয়ে বার বার খন্ডনও করেছেন।বার বার জানতে চেয়েছেন যে কোথায় আমি সময় দিচ্ছি না প্রমাণ করতে পারলে নিশ্চয়ই মেনে নেবেন,কিন্তু দল প্রমাণ সহ দেখাতে না পেরে তাঁর বিরুদ্ধে বার বার ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়ে গেছে।এতে তাঁর সম্মান হানি হয়েছে বলেও প্রাক্তন মেয়র অভিযোগ করেন।

মুকুল রায় তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় কলকাতা পুরসভা জয় বিজেপির পক্ষে অনেক সহজ হয়ে গেল বলে দাবি করেছেন এর পরিপ্রেক্ষিতে শোভনবাবুর প্রতিক্রিয়া,তিনি বিজেপিতে এসে মন দিয়ে রাজনীতিটা করতে চান তাঁর বিশ্বাস রাজনীতিতে তার এখনও অনেককিছু দেওয়ার আছে।এ রাজ্যে গণতন্ত্র নেই বলে অভিযোগ করে শোভনবাবু বলেন এ রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরাতে বিজেপির কর্মী হিসেবে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন।আগামী কলকাতা পুরসভায় তিনিই বিজেপির সম্ভাব্য মেয়র পদের মুখ হিসেবে সামনে হিেসবে সামনে আসবেন কিনা,এ প্রশ্ন করা হলে শোভনবাবু জানিয়ে দেন দল যা স্থির করবে তাই হবে,এ বিষেয়ে কোন ব্যক্তির ইচ্ছে বা অনিচ্ছার কোন দাম নেই।এক ব্যক্তি নির্ভর দলের প্রতি তাঁর যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল এই উত্তরে তারই বহিপ্রকাশ হয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন।কলকাতার বর্তমান মেয়রের কাজ নিয়েও কটাক্ষ করেন প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন,কলকাতা এখন চলেছে নড়িতে নড়িতে।বোঝাই যাচ্ছে একদা মমতার বিশ্বস্ত সৈনিক কাকন এবার নতুন যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি তৈরি হচ্ছেন।