রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উদ্বৃত্ত থেকে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকা ‘অাদায়’ কেন্দ্রের

0
11

কেন্দ্রকে ১লক্ষ ৭৬ হাজার ৫১ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত সোমবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বোর্ড নিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ -১৯ সালের লভ্যাংশ( উদ্বৃত্ত) থেকে ১২৩৪১৪ কোটি টাকা ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঞ্চিত তহবিল থেকে ৫২৬৩৭ কোটি টাকা দেওয়া হবে। কোন একবছরে এত টাকা কেন্দ্রকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দেয়নি। ২০১৭-১৮ অার্থিক বছরে কেন্দ্রকে ৫০ হাজার কোটি টাকা লভ্যাংশ থেকে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।তারঅাগে বছর কেন্দ্রকে ৩০৬৫৯ কোটি টাকা লভ্যাংশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। যদিও ওই বছর নোট বাতিলের জেরে নতুন নোট ছাপার জন্য রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনেক টাকা খরচ হওয়ায় কেন্দ্রকে কম লভ্যাংশ দিতে পেরেছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঞ্চিত তহবিলের উপর কেন্দ্রের নজর অাগেই পড়েছিল। এই নিয়ে বেশ কিছু কাল টানাপোড়েন চলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সঙ্গে সরকার। তার পর গত বছর ঠিক হয় একরফা সূত্র। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক রাজি হয় তাদের সঞ্চয়ের একটা অংশ সরকারকে দেওয়ার। এবিষয় গঠিত হয় বিমল জালান কমিটি । সেই কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঞ্চিত তহবিল থেকে সরকারকে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার। সূত্রের খবর উর্জিত প্যাটেল গভর্নর থাকাকালীন সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মধ্যেকার টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সঞ্চয়ের দিকে কেন্দ্র সরকারের নজর। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সরকারের দাবি মেনে নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই উর্জিত প্যাটেল ইস্তফা দেন।

শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক , একটি সবল অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। অার তাই জরুরি তার মোটা তহবিল। কিন্তু সরকার সেই তহবিলের টাকা ভেঙে নিজের খরচ চালানোর চেষ্টা করা অর্থনীতির দিক থেকেও সুখকর নয়। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্বায়ত্তার দিক থেকেও স্বাস্থ্যকর নয়। কেন্দ্র সরকার বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ সরকার সাংবিধানিক সমস্ত প্রতিষ্ঠানের উপরই নিজের খবরদারি ফলাচ্ছে, তাদের নিরপেক্ষতা নষ্ট করছে। নোটবন্দির সময় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর। তাই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে এক ধাক্কায় ১লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রের অাদায় করে নেওয়া যথেষ্ট তাত্পর্যপূর্ণ ও চিন্তারও বটে।