৩৭০ ধারার বাতিল এক বিপজ্জনক পদক্ষেপ-সুজাত ভদ্র

0
20

যেভাবে সবাইকে অন্ধকারে রেখে এবং কার্যত গোটা কাশ্মীরকে অবরুদ্ধ করে রাষ্ট্রপতির অাদেশের মাধ্যমে কাশ্মীরের জন্য নির্ধারিত ৩৭০ ধারা বাতিলের ঘোষণা করল বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার,তা আমার মতে এক অভুতপূর্ব ঘটনা ও একই সঙ্গে অশ্রুতপূর্ব ঘটনাও বটে।আমি মনে করি এটা অন্যায় ও দেশের গণতন্ত্রের পক্ষে এক বিপজ্জনক পদক্ষেপ।এই অগণতান্তিক পদক্ষেপ নিতে কিছু অসত্য প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান কেন্দ্রীয় শাসক দল,যেমন বলা হচ্ছে ৩৭০ ধারা একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে কার্যকর ছিল। আদপে বিষয়টা একেবারেই সেরকম নয় বরং দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের দু’দুবারের নির্দেশকে যদি মান্যতা দেওয়া হয় তবে মানতে হবে ধারাবাহিকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসার ফলে ৩৭০ ধারা একটি স্থায়ী আইন হিসেবেই গ্রাহ্য হবার যোগ্য। স্থায়ী আইন বদলের যে সাংবিধানিক রীতি মানার কথা এক্ষেত্রে তা মানা হল না।এর মানে দাঁড়ায় সরকার নিজেই সংবিধানকে উপেক্ষা করার সাহস দেখাতে শুরু করল।

বলা হচ্ছে হিংসা দূর করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু করতেই কাশ্মীরে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ দরকার।গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হবে অথচ রাজ্যের স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়া হল। এ কেমন যুক্তি?বিশেষ পরিচিতি জ্ঞাপনের প্রয়োজনিয়তা কাশ্মীর থেকে তুলে দিতে সরকার ব্যস্ত হয়ে উঠেছে,এথচ একই ব্যবস্থা উত্তর পূর্বাঞ্চলের কিছু রাজ্যের ক্ষেত্রে চালু থাকলেও তা নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই-এসব অসংগতি প্রমাণ করে কাশ্মীরে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার এক প্রকার কেন্দ্রীয় আগ্রাসন নামিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। যার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।কাশ্মীরের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে বুঝতে অসুবিধা হবার নয় যে দীর্ঘ দিনের অভ্যাসে কাশ্মীরের মানুষ ভারতীয় অনুশাসনের সঙ্গে অনেকটাই মানিয়ে নিতে শুরু করেছিলেন।পুরনো চুক্তির কথা ভুলে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর পদ লুপ্ত হয়েছে,সেখানে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার তৈরি হত,সেখান থেকে সংসদে প্রতিনিধি আসত।আর একটু আলাপ ও বোঝাপড়া করলে সমাধান একেবারে শান্তি-পূর্ণ পথে আসার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু এখন যা হল তা একধরনের গা জোয়ারিপনা,জোর করে চাপিয়ে দেওয়া।গণতন্ত্র উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়.গায়ের জোরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না,তাই যা হল তা কাশ্মীরের সমস্যাকে আর জটিল করে তুলবে বলেই আমার আশঙ্কা।কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগ থেকে পরিষ্কার তারা কাশ্মীর উপত্যকায় কড়া কেন্দ্রীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়,সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করতে চায় কাশ্মীরকে,কিন্তু তাতে হিতে বিপরীত হবার সম্ভাবনা প্রবল।গান্ধীজিকে হত্যার পর যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছিল আরএসএস সমর্থকদের মধ্যে আজও সেইরকম উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনা দেখতে পাচ্ছি চারপাশে।খুব-খুবই আতঙ্কিত ও আশঙ্কা বোধ হচ্ছে। ———————————————– ————————————————————-

(টেলিফোনে দেওয়া প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে লেখা–সজাত ভদ্র মানবাধিকার আন্দোলনের কর্মী)