৩৭০ ধারা বাতিলের সমর্থনের পিছনে লুকিয়ে থাকা মানসিকতা

0
8

৩৭০ ধারা খারিজ হওয়ায় অাজ দেশের নাগরিকদের অনেকের মত এারাজ্যের মধ্য ও উচ্চবিত্ত বাঙ্গালিদের একটা বড় অংশের খুব অানন্দের দিন। চারপাশে কান পাতলেই এর সত্যতা বোঝা যায় । এই বাঙালিদের কেউ কেউ কম পয়সা বাড়িতে বাংলাদেশী মুসলীম গৃহপরিচারিকা রাখেন অার বলেন দেশ থেকে মুসলীম অনুপ্রবেশকারীদের হঠাতে হবে। এদের অনেকে নিজেকে প্রগতিশীল বলেন অথচ মুসলীমদের বাড়ি ভাড়া দেননা, ‘ওদের বড় বাড়বেড়েছে ‘ বলে মনে করেন, মুসলীম পরিবারে কোন ছেলে বা মেয়ের সঙ্গে নিজের সন্তানের বিয়ে মেনে নিতে রাজি নন এরা কেউ ,ইত্যাদি ইত্যাদি। এরা অাজ অানন্দিত। কারণ দেশের ঐতিহাসিক ভুলকে শুধরে নেওয়া হয়েছে। বিজেপিকে দু হাত তুলে এরা সমর্থন করছেন।দলমত নির্বিশেষে।

এদের অনেকেই হয়তো জানেন বা জানেন না ত্রিপুরায় রাজ্য সরকারী কর্মীদের পেনশন তুলে দিয়েছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। ২০১৮ সালের ১ জুলাইয়ের পর যারা সরকারি কাজে যোগ দিয়েছেন তাদের অার রাজ্য সরকার পেনশন দেবে না। অনেকেই গত পঞ্চায়েতে পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ শতাংশ অাসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূল জেতার বিষয় জানেন । ত্রিপুরায় সম্প্রতি হয়ে যায় পঞ্চায়েত ৮৬ শতাংশ অাসনেই শাসকদল বিজেপি অন্য কোন দলের প্রার্থীকে ভোটে দাঁড়াতে দেয়নি। ক্ষমতায় না থাকলে বিজেপি গণতন্ত্রের কথা বলে ক্ষমতা গেলেই গণতন্ত্রের কন্ঠরোধ করতে দ্বিধা করে না। সম্প্রতি ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবাদী তকমা দেওয়ার অধিকারে সংসদের সিলমোহর লাগিয়ে নিয়েছে শাসকদল।এখন থেকে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই অাপনি হয়ে যেতে পারেন সন্ত্রাসবাদী। যুক্তরাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে খর্ব করার মাধ্যমে রাজ্যের উপর নানা বিষয় চাপিয়ে দিতে শুরু করেছে বিজেপি। হিন্দি হিন্দু হিন্দুস্তানে দর্শনে বিশ্বাসীরা কখনও হিন্দি ভাষাকে রাজ্যগুলির উপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। কখনও জয়শ্রীরাম না বললে পিটিয়ে বা জ্বালিয়ে মেরে দেওয়া হচ্ছে। অনেকে এসব বিষয় উদাসীন থাকছেন। কিন্তু যদি কখনও রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন কমিয়ে দেওয়া হয় তখন সমাজের অন্য অংশ বলবে না তো ভালই হয়েছে? কারণ তা করার পিছনে জনকল্যাণের দোহাই নিশ্চয় দেবে সরকার। ধাপে ধাপে রেলের বেসরকারিকরণ হবে। প্রথমে অনেকেই বলবেন ভালই হয়েছে। কিন্তু পড়ে মনে হবে ভাড়াটা বড় বেশি লাগছে। সইতে পারবেনা তো।বিএসএনএল ছিল তার কদর বুঝি নি অামরা, এখন জিওকে গাল দেননা এমন গ্রাহক পাওয়া কঠিন।

অাজ অাক্রমণের টার্গেট ধর্মী সংখ্যালঘুরা অাগামী দিনে তার শিকার হবেন সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ। মহিলাদের পোশাক নিয়ে জারি হবে ফতোয়া। ইতিমধ্যেই তার বহিঃপ্রকাশ লক্ষ করা যাচ্ছে। মানুষের জীবনযাপনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে অারএসএসের ভারতীয়তাকে। অার এসবের সঙ্গে অনেক মিল অাছে ফ্যাসিবাদের। তাই যারা অাজ ৩৭০ ধারা বাতিল সমর্থন করছেন তারাও যে এদের শিকার হবেন না তা জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না। একবার ভাবুন তো একটা রাজ্য হঠাত্ করে সব কিছু হারাল। কার্যত গোটা রাজ্য এখন কারাগারে পরিণত। দেকানপাঠ স্কল কলেজ, টিভি, ইন্টারনেট সবকিছু বন্ধ। সরকার বাধ্য করতে চাইছে বশ্যতা শিকার করতে। এটা কি যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ?