কাশ্মীরি মহিলাদের নিয়ে বিজেপি বিধায়কের মন্তব্য ‘দেশপ্রেমের’ অাসল পরিচয়

0
34

গোটা দেশে যখন কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিল নিয়ে বিতর্ক,কাশ্মীর উপত্যকার ভাগ্য নিয়ে আলোচনার তুফান, সেই পরিসরেও কাশ্মীরের নারীরা আলোচনায় এল শুধুমাত্র ভোগ্যপন্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েই।উত্তরপ্রদেশের খাতৌলির বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সিং সাইনি এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন,কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা উঠে যাওয়ায় দেশের সমস্ত মুসলিম অবিবাহিত পুরুষদের আনন্দ করা উচিত কারণ এখন থেকে আর কাশ্মীরে গিয়ে সেখানকার ফর্সা সুন্দরী মেয়েদের বিয়ে করার কোন বাঁধা রইল না।বটেই তো, সুন্দরী অতী গোরা রঙের কাশ্মীরি নারীকে যৌনসঙ্গী হিসেবে পাওয়াটাই তো পুরুষের একমাত্র আকাঙ্খা।৩৭০ ও ৩৫ক ধারা বাতিল হওয়ায় দেশের সমস্ত পুরুষ সেই আকাঙ্খা পুরণে এবার একাগ্র চিত্তে ঝাপিয়ে পড়তে পারবেন,উত্তরপ্রদেশের বিজেপি বিধায়ক হয়তো সে কাজে পুরুষদের উত্সাহিতও করবেন।শুধু বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সাইনি একা নন,৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ার পর কাশ্মীরি নারীদের খোঁজে গুগুল সার্চ হয়ে চলেছে অবিরাম,অন্তত গুগুলের সাম্প্রতিক সার্চ ট্রেন্ড তো সেরকমই তথ্য দিচ্ছে। কাশ্মীরের ভাগ্য কী হতে চলেছে তা নিয়ে না ভাবলেও সেখানকার নারীদের ভাগ্যনির্ধারণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন অনেক পুরুষই। প্রসঙ্গত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন,কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা সেখানকার মহিলাদের পক্ষেও সম্মানের ছিল না,কারণ ঐ আইনের জন্যই সেখানকার মহিলারা কাশ্মীরের বাইরের কাউকে বিয়ে করলে তাদের কাশ্মীর রাজ্য থেকে বিতারিত হতে হত ও নিজের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হতে হত,এবার সেরকম হওয়ার আর কোন পরিস্থিতি নেই।এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে সোশ্যাল মিডিয়াতে কেউ কেউ মন্তব্য করছেন এবার কাশ্মীরের নারীকে বিয়ে করা মানে শুধু ফর্সা-সুন্দরি যৌনসঙ্গীই নয়,কাশ্মীরের সম্পত্তির মালিক হওয়ার রাস্তাও খুলে গেল।অর্থাত্ ৩৭০ ধারার বিতর্কেও নারী আসলে ‘লাভের গুড়’।জাতীয়তাবাদ,দেশপ্রেম নিয়ে কত কথা হয়,কত আলোচনা হয় অথচ নারীকে মানুষ ভাবা নিয়ে কোন কথা হয় না,আলোচনা হয় না।কাশ্মীরের নারী শুধু ভোগ্য নয়, কাশ্মীরের নারী আসলে কাশ্মীরবাসী নাগরিকও কবে ভাবতে শিখবে এদেশের পুরুষদের একটা বড় অংশ।