মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর পুলিশি জুলুমের অভিযোগ

বৃহস্পতিবার থেকেই বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পথে নেমেছেন রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রায় হাজারখানেক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী।ওয়েস্ট বেঙ্গল মাল্টিপারপাস ফিমেল হেলথ্ ওয়ার্কাররা বৃহস্পতিবার থেকেই তাদের বেতন বৃদ্ধির দাবি নিয়ে কলকাতার রাস্তায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে।প্রথমে স্বাস্থ্যভবনের সামনে উপস্থিত হলেও তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ।এরপর রানি রাসমণি রোডে তারা অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন।অভিযোগ রাতে সেখান থেকেও মহিলা পুলিশ দিয়ে জোর করে তাদের শিয়ালদায় নিয়ে আসা হয়।পুলিশি জুলুমে মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা।শুক্রবার সকালে প্রতিবাদী মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরা আবার স্বাস্থ্যভবনের সামনে জড়ো হলে তাঁদের জোর করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।বেশকিছু মহিলাকে বিধাননগর থানায় নিয়ে গেলে প্রতিবাদীদের একটা বড় অংশই থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।এরপর পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তিও শুরু হয়।মহিলা স্বাস্থ্য কর্মী করবী মিত্র ও মিতা দাশগুপ্তের অভিযোগ তাদের এক সহকর্মী থানায় এসে কারোর সঙ্গে ফোনে কথা বলতে শুরু করলে বিধাননগর থানার পুলিশ তাঁর ফোন কেড়ে নেয়,ফোন ছাড়াতে গিয়েই পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়,তবে এই ঘটনাকে পুলিশ তাদের উপর বিক্ষোভকারীদের আক্রমণ বলে কেস দেওয়ার হুমকি দিতে শুরু করে।বিক্ষোভকারী স্বাস্থ্যকর্মীরা এরপর সবাই থানার মধ্যেই বসে পড়ে।

বিক্ষোভকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ বহস্পতিবারই পুলিশি জুলুমে আহত হয়ে তাদের এক সহকর্মী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন,পুলিশই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় কিন্তু সে বিষয় পুলিশ তাদের কোন খবর দিতে চাইছে না।বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য তাঁরা স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনে গ্রামীন স্বাস্থ্য ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে কাজ করেন দীর্ঘদিন দিন তাদের বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে না,গ্রেড টু স্কেলে বেতন পাচ্ছেন তারা,দাবি গ্রেড সি স্কেলে বেতন।দাবি না মিটলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানাচ্ছেন গ্রামীন স্বাস্থ্য কর্মীরা।বিক্ষোভকারীরা স্বাস্থ্য অধিকর্তার প্রতিশ্রুতি দাবি করছেন,তবে স্বাস্থ্যভবনের তরফে তাদের জানানো হয়েছে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় অর্থ বিভাগ তাই তাদের বিষয়টা অর্থ বিভাগকে জানানো হয়েছে। বিক্ষোভকারী মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরা সে কথায় অবশ্য আস্বস্ত হতে পারছেন না।তবে বিক্ষোভ ভাঙতে কেন এত প্রশাসনিক তত্পড়তা তার কোন পরিষ্কার জবাব মেলেনি প্রশাসনের তরফে।