১১ ঘন্টার শেষে ফের কংগ্রেসের সভানেত্রী সনিয়াই

অাপাতত সনিয়া গান্ধীকেই কংগ্রেস সভানেত্রী করার সিদ্ধান্ত নিল দলের ওয়ার্কিং কমিটি। শনিবার ১১ ঘন্টার বৈঠকে স্থির হয় এবছরের শেষে দলের প্লেনারি অধিবেশন থেকে নির্বাচিত হবেন নতুন সভাপতি। ততদিন দলের সভানেত্রীর পদ সামলাবেন সনিয়া। গত লোকসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন রাহুল। বারংবার তাঁকে ইস্তফা প্রত্যাহারের জন্য দলের তরফে অনুরোধ জানান হলেও তিনি সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। নতুন সভাপতি নির্বাচনের দিন কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে পুরো সময়ের জন্য অংশগ্রহণ পর্যন্ত করেননি। তা সত্ত্বেও গান্ধী পরিবারের বেড়া টপকাতে পারল না কংগ্রেস। হয়তো সম্ভব ছিল না ।

বিরোধীরা বিশেষ করে বিজেপি কংগ্রেসকে গান্ধী পরিবারের জমিদারি বলে কটাক্ষ করে থাকে। কংগ্রেস যে গান্ধী পরিবার থেকে বেরোতে পারছে না তা এদিনই স্পষ্ট। একথাও সত্যি দলে সভাপতির পদে গ্রহণযোগ্য কোন ব্যক্তি অাছেন কিনা তা নিয়েও বিতর্ক চলতে পারে। তবে যারা কংগ্রেসে পরিবারতন্ত্র নিয়ে খোঁচা দিচ্ছে তাদের দলও কি পরিবারতন্ত্র থেকে মুক্ত। এদেশের কোনদলই কি পরিবারতন্ত্র থেকে মুক্ত। তাছাড়া বিষয়টা পরিবারের প্রাধন্য না দলীয় গণতন্ত ? কোনটা বেশি জরুরি। এদেশে ২জন মিলে সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে অভিযোগ উঠছে তা কি গণতন্ত্রের পরিপন্থী নয়। বিজেপিতেই বা দলের অন্যদের কথার গুরুত্ব কতখানি তা সবারই জানা। এদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের জামা পরে অাসলে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থাটাই কিছুটা রঙ‌‌ঢঙ বদলে অামাদের সামনে হাজির। তাই কংগ্রেসে সভাপতির পদে গান্ধী পরিবারের বাইরে থেকে কেউ এলে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা কঠীন। অার তাই কংগ্রেসে গান্ধী পরিবারের খোঁচা বিজেপি বারবার দেয়। এটা কোন গণতন্ত্রের জন্য নয়, কংগ্রেসকে ভাঙার বিজেপির কৌশল মাত্র। অন্তত এমনটাই মত রাজৈনিতক বিশ্লেষকদের একাংশের।