নিজেকে উজার করে দিয়ে কতজন নৌসাদ হতে পারি অামরা!

তিনি্ হকারি । বাজারে ছোট জামাকাপড়ের ব্যবসা তাঁর। তবু মহানুভবতায় তিনি আজকের পৃথিবীর সব সংকীর্ণতা,সব আত্মসর্বস্বতাকে অতীক্রম করে এক নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করে ফেলেন। যার প্রেরণায় ফিরে আসতে থাকে মানুষের প্রতি মানুষের হারিয়ে যেতে থাকা বিশ্বাস। হাঁ কেরালার কোচি শহরের এক বস্ত্র ব্যবসায়ী নৌসাদ এমনই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গোটা কেরালা জুড়ে যখন ভয়াবহ বন্যার প্রকোপে সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। ঘরবাড়ি হারিয়ে তাদের অনিশ্চিত জীবনের দিকে চলে যেতে হচ্ছে ঠিক তখনই বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আর্ত-পীড়িত মানুষের জন্য ত্রাণ সংগ্রহের উদ্যোগ শুরু হয়েছে।অনেকেই সাহায্য করছেন,কেউ কেউ পুরনো জামাকাপড় দিয়ে দিচ্ছেন, কেউ বা যতটুকু পারছেন অর্থ দিচ্ছেন বন্যাপীড়িত মানুষের জন্য। এই উদ্যোগে সামিল হয়েই এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন নৌসাদ।

নৌসাদ তাঁর ব্যবসার জন্য কেনা প্রায় সমস্থ নতুন জামাকাপড়ই বন্যা-পীড়িতদের জন্য দান করে দিয়েছেন। বিক্রির জন্য অাপাতত তাঁর স্টকে অার নেই কোন জামাকাপড়ই। ইদে বিক্রির জন্য তোলা ১০ বস্তা নতুন জামাকাপড় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দান করেই তিনি ক্ষান্ত থাকেননি তনি। ত্রাণ সংগ্রকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সেই ১০ বস্তা জামাকাপড়ের একটা বড় অংশ নিজে মাথায় করে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে তুলেও দিয়েছেন তিনি। ত্রাণ সংগ্রহকারীরা নৌসাদের এই সর্বস্ব উজাড় করে দান করা দেখে বিস্মিত হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছেন,এভাবে সব ব্যবসার সামগ্রী দান করে দিলে তাঁর ব্যবসায় যে ক্ষতি হবে তা তিনি সামাল দেবেন কী ভাবে?তখন বাজারে কাপড় বিক্রি করা এক সাধারণ ব্যবসায়ী নৌসাদ অনায়াস ভঙ্গিতে উচ্চারণ করেন এক অসাধারণ দার্শনিক উক্তি,’জীবন শুরু হয় শূণ্য থেকে,শেষও হয় শূণ্যতেই,তাই লাভ ক্ষতির হিসেব থেকেঅনেক বেশি জরুরি এখন বন্যর্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান।

নৌসাদের এই গল্প হলেও সত্যি কাহিনী মজেছে সেলিব্রিটি থেকে তামাম নেট দুনিয়া। শুভেচ্ছে অাসতে শুরু করেছে সব জায়গা থেকে। তাতে অবশ্য নৌসাদের মত মানুষের বোধ হয় অাপ্লুত করে না, কারণ তারা জীবনকে অন্যভাবে দেখেন, বাঁচেনও। অামরা সবাই বেঁচে থাকার লড়াই করি, নৌসাদ হতে পারি কজন!

ছবি timesnow.com এর সৌজন্যে

,