দশ বছর বিনা অপরাধে কারাজীবন টলাতে পারেনি ‘রাজার’ বিশ্বাস

0
58

আদালত জানিয়ে দিয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে আনা রাষ্ট্রের সব অভিযোগ মিথ্যা,নির্দেশ দিয়েছে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে,তবে ইতিমধ্যেই জেলের চারদেওয়াল কেড়ে নিয়েছে তাঁর জীবনের দশদশটা বছর,তবু তাঁর বিশ্বাস টলেনি,তাঁর অঙ্গিকারের দৃঢ়তা নমনীয় হয়নি এতটুকুও।সময় তাঁর শরীরে আঁচড় কেটেছে,চুল দাড়ি সব সাদা হয়ে গেছে,তবু মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির যে স্বপ্ন তিনি দেখতেন চেতনায় সেই স্বপ্ন আজও সজীব।তাই তো কোন অপরাধ না করেও জীবনের অমূল্য দশটা বছর বন্দি দশায় কাটিয়ে দিয়েও তিনি অবলিলায় বলতে পারেন,মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই থেকে দূরে থাকবেন না,আবার মিছিলে হাঁটবেন,সাধারণ মানুষের উপর হওয়া যে কোন অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে আবার প্রতিবাদ করবেন,প্রতিরোধ গড়বেন।মানুষটির নাম রাজা সরখেল,সেই ২০০৯ সালে তাঁকে ও তাঁর সঙ্গী প্রসূন চট্টোপাধ্যায়কে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে তখনকার বাম সরকারের প্রশাসন,এঁদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।জঙ্গলমোহলে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলনে,পুলিশি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সেখানকার মানুষের সঙ্গে এঁরাও আওয়াজ তুলেছিলেন,তাই সেদিন এঁরা রাষ্ট্রদ্রোহী বলে অভিযুক্ত হন।সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এঁদের আন্দোলনকে সমর্থন করলেও ক্ষমতায় এসে ২০১৫ সালে এঁদের সাজার ব্যবস্থা পাকা করেন।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর দিন কয়েক আগে আদালত জানিয়ে দেয় এঁদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের প্রমাণ নেই।এঁদের বেকসুর খালাস করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।রবিবার বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে প্রথমবার সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজা সারখেল যখন বলছিলেন,যে এর পর শান্ত হয়ে সব ভুল করেছি বলে ঘরে বসে সময় কাটাবেন না,বরং আর বেশী করে মানুষের কাছে যাবেন তাঁদের লড়াই ও প্রতিবাদের শরিক হবেন,তখন নিশ্চয়ই সুখি মধ্যবিত্ত ও পেশাদার জ্ঞানদাতা তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় এই মানুষটির ‘বোকামিকে’মনে মনে দুয়ো দিচ্ছিলেন।এঁরা তো ভাবতেই পারেন না এখনও এদেশে এমন মানুষ থাকেন যাঁরা বাঁচেন অন্যের জন্য।

ছত্রধর মাহাতোর সমসাময়িক সময়তেই রাজা সরখেল ও প্রসূন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করা হয়,রাজা সরখেল মুক্তি পাবার পর জঙ্গলমোহলের মানুষের বঞ্চিত হওয়া,তাদের প্রতারণা করার অভিযোগ করেছেন.অথচ যে ছত্রধর মাহাতো জঙ্গলমোহলের প্রতিনিধি বলে নিজেকে দাবি করেন তিনি বলছেন এই আমলে নাকি ‘দিদি’ জঙ্গলমোহলে উন্নয়নের বাণ নিয়ে এসেছেন,কার টিঁকি যে কোথায় বাঁধা বুঝতে অসুবিধা হয় না।সেই জন্যই হয়তো রাজা সরখেল ছত্রধর সম্পর্কে বললেন এই ছত্রধরকে তাঁরা চেনেন না,না চেনারই তো কথা রাজা সরখেলরা তো সেই মানুষ যারা সমাজের নাড়ী ধরে বসে থাকেন সমাজ অসুস্থ হলে সবার আগে টের পান,তখন বেরিয়ে পড়েন সমাজের শুশ্রুসায়,তাই তিনি তো সবার আগে বুঝতে পারবেন দুষিত সমাজের প্রকোপে কে বা কারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।হয়তো ‘অসুস্থ’ ছত্রধরও আবার একদিন রাজা সরখেলদের মত মানুষের পরশ পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠবেন,আমরা প্রত্যাশায় থাকবো।