অনেক সাংবাদিক চিটফান্ডের টাকা নিয়েও সাধু সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছেঃঅভিযোগ কুণাল ঘোষের

0
175

সারদা তদন্তে তাঁকে এখনও সিবিআইয়ের দপ্তরে নিয়মিত হাজিরা দিতে হয়,সারদা মামলাতেও তিনি এখনও ছাড়া পান নি, জামিন পেয়েছেন মাত্র।সেই কুণাল ঘোষ এবার সরাসরি একাধিক সাংবাদিক ও মিডিয়ার বিরুদ্ধে চিটফান্ডের ‘টাকা খাওয়ার’ অভিযোগ তুললেন। এর আগেও তিনি বার বার বলেছেন তিনি দোষী হলে,সাংবাদ মহলের আর অনেকেই দোষী,তাঁরা সাধু হলে তিনিও দোষী হতে পারেন না। তবে এর আগে কুণাল ঘোষ এসব অভিযোগ করেছিলেন মূলত আদালতে দাঁড়িয়ে,কিংবা সিবাআইয়ের জেরা মোকাবিলা করতে যাওয়ার সময় অথবা জেরার মোকাবিলা করে বেড়িয়ে আসার পর।এবার একেবারে সরাসরি কলকাতা প্রেসক্লাবের বার্ষিক সম্মেলনে এসে সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে কুণাল ঘোষ অভিযোগ করলেন,তাঁর পরিণতি দেখে যারা মজা পাচ্ছেন সেই সব সাংবাদিকদের অনেকেই চিটফান্ডের টাকায় নিজেদের আঁখের গুছিয়ে এখন সাধু সেজে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।চিটফান্ডের টাকায় বেশ কিছু মিডিয়া হাউসও যে নিজেদের ব্যবসা সমৃদ্ধ করেছেন সে অভিযোগ তুলে কুণাল দাবি করেন প্রেসক্লাব নিজের উদ্যোগে একটা তদন্ত কমিশন তৈরি করুক,কুণাল তাতে সাক্ষী দিতে চান বলে জানান।

কুণাল ঘোষের স্পষ্ট দাবি শুধুমাত্র তাঁকে বলির পাঠা না করে সত্য সামনে আনার উদ্যোগ নিক প্রেসক্বাব,তাতে তিনি সহযোগিতা করতে চান বলে জানান কুণাল ঘোষ।কুণাল ঘোষ কোন সাংবাদিকের নাম না করলেও কলকাতার অনেক সাংবাদিকই যে চিটফান্ডের টাকা গায়েব করেছেন বা চিটফান্ডের দৌলতেই মোটা অংকের মাসোয়ারা হাতিয়েছেন সেই ইঙ্গিত করেছেন সরাসরি।কুণালের বিষ্ফোরক অভিযোগ নিজেদের গায়ের গন্ধ ঢেকে রেখে যারা তাঁর দিকে কালি ছিঁটিয়ে আসছেন তাঁদের চরিত্র ও মুখোশ খুলে দিতে তিনি যতদুর যেতে হয় যাবেন।সরকারি প্রভাব ও রাজনৈতিক সখ্য দিয়ে অনেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতে ব্যস্ত তিনি কিছুতেই তাঁদের স্বস্তি দেবেন না বলে দাবি করেন কুণাল ঘোষ।প্রসঙ্গত সারদা মিডিয়া নিয়ে তদন্ত শুরু করে এরাজ্যের প্রশাসনই কুণাল ঘোষকে প্রথমে গ্রেপ্তার করে,দীর্ঘ দিন জেলে থাকতে হয় তাঁকে,তাঁর জামিনের আবেদন বার বার খারিজ হয়ে যেতে থাকে সে সময়।এরপর সারদা তদন্তের ভার সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে সিবিআইয়ের হাতে গেলে জামিন পান কুণাল ঘোষ।এখনও তিনি জামিনেই মুক্ত রয়েছেন।

প্রেসক্লাবের বার্ষিক সভায় কলকাতার একশ্রেণীর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আর একটি বিষ্ফোরক অভিযোগও তোলেন কুণাল ঘোষ।কিছু সাংবাদিক লবির জোড়ে কিছু আইনজীবীকে প্রেসক্লাবের সদস্যপদ পাইয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করে কুণাল বলেন,এরা এইসব আইনজীবীদের কাছ থেকে নানা সুবিধা নেয়।অথচ এই আইনজীবীদের কেউ কেউ সাংবাদিকদের মাসোয়ারা প্রাপ্তির মামলায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মালিকপক্ষের হয়ে লড়াই করেন।কুণালের অভিযোগ যিনি সাংবাদিক ক্লাবের সদস্য তিনিই আবার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা লড়বেন কেন?এইসব আইনজীবীর সাংবাদিক ক্লাবের সদস্যপদ অবিলম্বে খারিজ করে দেওয়ার দাবি তোলেন কুণাল ঘোষ। প্রেসক্লাবের বর্তমান সভাপতি ও সম্পাদক অবশ্য কুণাল ঘোষের অভিযোগ ও দাবি নিয়ে কোন মন্তব্য করেন নি।