উর্মিমালাকে নোংরা আক্রমণ করেই তবে শুরু গেরুয়া বাহিনীর দেবীপক্ষের আরাধণা

0
71

আর কয়েকদিন পর দেবীপক্ষের সূচনা হতে যাচ্ছে।দেবী বন্দনায় আবেগঘন বক্তব্য রাখার লোকের অভাব নেই এ রাজ্যে।সেই আবেগের অনুসঙ্গেই তো মহালয়ার সকালে মহিষাশুরমর্দিনী শোনার প্রবল্য এখনও আপমর বাঙালিকে মাতিয়ে রাখে। যে বাঙালি দেবী বন্দনায় এতটা দড় সেই বাঙালিই আবার আশ্চর্য নীরবতার চাদরে নিজেদের মুড়ে রাখে কোন মহিলার সম্মানহানির ঘটনায়।তা যদি না হোত তাহলে এতদিনে তো জাত ধর্ম নারী পুরুষ দল নির্বিশেষে সব বাঙালিরই প্রতিবাদে গর্জে ওঠার কথা ছিল।যেভাবে উর্মিমালা বসু নামের এক পরিচিত বাচিক শিল্পীকে ‘যৌনদাসী’বলে অপমান করল গেরুয়া বাহিনীর সমর্থকরা,তাতে নারীকে মাতৃরূপে দেখা বাঙালির কি একটু ক্রোধের প্রকাশ দেখানোর প্রয়োজন ছিল না?নাকি বাঙালির সবটাই ভড়ং।নারীকে মাতৃরূপে বন্দনার পাশাপাশি নারীকে অসম্মান ও নির্যাতন করাটাও বাঙালির অভ্যেশের একেবারে গভীরে গ্রোথিত।

তাই যাদবপুরের একজন প্রাক্তনী হিসেবে উর্মিমালা বসু যখন তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত অভিমত জানিয়ে বলেন,”যাদবপুরের ছাত্ররা একটা কঠিন সময়ে প্রতিবাদের মেজাজ ধরে রেখেছে তাই তাঁদের অভিনন্দন।যাদবপুরের ছাত্র-ছাত্ত্রীদের প্রতিবাদকে আমি সমর্থন করি।যাদবপুরের একজন প্রাক্তনী হিসেবে এই প্রতিক্তিয়া জানাবার এক্তিয়ার আমার আছে বলেই মনে করি।”তখন তাঁর সেই সাধারণ  প্রতিক্রিয়াতেও রোষে ফুঁসে উঠে দুবেলা ভারতমাতার জয়ধ্বনি দেওয়া,ভারতমাতার ‘সভ্য’সন্তানরা তাঁকে চিহ্নিত করলেন ‘বামেদের যৌনদাসী’ বলে।নিশ্চিত করেই বলা যায় যারা একজন মহিলাকে নির্দ্ধিধায় যৌনদাসী বলতে লজ্জা পায় না,দেবী বন্দনার আরাধণায় তাদের অনেকেই থাকবেন সামনের সারিতে।তারাই হয়তো এদেশে নারী শক্তির মহিমা বর্ণনা করবেন।যেমন আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও স্লোগান দেন কিন্তু তাঁর দলের সাংসদ মন্ত্রীরা একের পর এক নারী নিগ্রহে অভিযুক্ত হলেও তা নিয়ে রা কাড়েন না।

আর ভদ্র নির্বিরোধী সাথেপাছে না থাকা বাঙালি, যাঁরা মনে করছেন উর্মিমালা তো বাচিক শিল্পী,কবিতা-টবিতা পড়েন,শ্রুতি নাটক করেন তা নিয়েই তো থাকতে  পারেন কী দরকার ওসব রাজনীতি-টাজনীতি নিয়ে কথা বলার।তাদের জন্য বলা যায় আপনারা ভাবতেই পারেন যে শিল্পীরা সমাজের ঘাত-প্রতিঘাতের বাইরে থেকে গজদন্তমিনারে বসে শাহাজাহান স্টাইলে শুধু গোলাপ শুঁকবেন,কিন্তু মনে রাখবেন একজন পৌঢা় মহিলাকে যাদের যৌনদাসী বলতে বাঁধে না তারা কিন্তু আপনার ঘরের ছোট্ট মেয়েটিকেও সম্মানের চোখে দেখে না।তার দিকেও ধেয়ে আসতে পারে নারী নিগ্রহের কালো হাত।ভারতমাতার জয়ধ্বণি দেয় যারা তারা অধিকাংশই তা অভ্যেশের বসে বলে,মা শব্দের মানে বা তাত্পর্য তারা জানে না,জানলে কোন মহিলাকে এত অনায়াসে যৌনদাসী বলা যায় না।উর্মিমালা বসুকে যারা অপমান করেছে তারা এ্যন্টি সংস্কৃতির বাহক,সংস্কৃতি দিয়েই তাকে প্রতিহত করতে হবে।যদি না করা যায় তবে শুধু উর্মিমালা বসু নয় সমস্ত মহিলাদের জন্যই বিপদ।তাই দেবীপক্ষের সূচনায় দেবীবন্দনার হুজুক চর্চিত অভ্যেশ ত্যাগ করে বাঙালি বরং চেতনায় শান দিক।