দেবাঞ্জনের ক্ষমা চাওয়ার মিথ্যা খবর রটাচ্ছে মিডিয়া -USDF

0
57

যাদবপুরে বাবুল সপ্রিয়কে ঘিরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ করার জন্য দেবাঞ্জন বল্লভ তাঁর ফেসবুক পেজে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বলে শনিবার থেকে একাধিক সংবাদমাধ্যমে যে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে তাকে  ভিত্তিহীন ও ফেক নিউজ বলে দাবি করল দেবাঞ্জন যে ছাত্র সংগঠন করে সেই ইউএসডিএফ।শনিবারই এক প্রেস বিবৃতি দিয়ে ইউএসডিএফ জানিয়ে দেয়,নিরাপত্তার কারণে দেবাঞ্জনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এখন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।নানাভাবে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ভয় দেখানো হচ্ছে।দেবাঞ্জন কোন ভাবেই ক্ষমা চেয়ে কোন বিবৃতি দেয় নি।বরং তাঁর নামে একটা ফেক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে তাঁর ক্ষমা চাওয়ার কথা চারদিকে চাওয়র করা হচ্ছে।সংবাদ মাধ্যমের একটা অংশ এর সঙ্গে জড়িত বলে ছাত্র সংগঠন ইউএসডিএফের অভিযোগ।

গতকালই দেবাঞ্জনের মায়ের একটা ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল করা হয়,তাতে দেখা যায় দেবাঞ্জনের অসুস্থ মা তাঁর ছেলের কোন ক্ষতি না করার জন্য বাবুল সুপ্রিয়কে কাতর অনুরোধ করছেন।নিজের সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এক মায়ের ভীতিকে যেভাবে একটা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে তা নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।যাদবপুর ছাত্রদের অনেকের অভিযোগ দেবাঞ্জনের মাকে ভয় দেখিয়ে,তাঁর বাবার চাকরি কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে দেবাঞ্জনের মায়ের বয়ান ভিডিও করে তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।এর পরেই আবার  দেবাঞ্জনের ফেক ফেসবুক একাউন্ট তৈরি করে তার ক্ষমা চাওয়ার প্রচার চলে।এর কিছু সময়ের মধ্যেই যাদবপুরের ঘটনা নিয়ে যিনি বিতর্কের কেন্দ্রে সেই বাবুল সুপ্রিয় ট্যুইট করে দেবাঞ্জনের মাকে জানান তিনি দেবাঞ্জনকে ক্ষমা করে দিচ্ছেন,তার নামে কোন এফআইআর তিনি করবেন না।বয়স কম বলে দেবাঞ্জনরা এরকম ভুল করেছে বলেও বাবুল তাঁর ট্যুইটে মন্তব্য করেন।তবে বাবুল এও বলেন দেবাঞ্জনদের এই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।গোটা বিষয়টা এমন করে সামনে আনা হয় যেন ঘটনার জন্য ছাত্ররাই দায়ী,এবং দেবাঞ্জনের ক্ষমা চাওয়ার পর ছাত্রদের দোষ প্রমাণ হয়ে যায়।

রবিবার এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে ইউএসডিএফ এর এক সদস্য জানান দেবাঞ্জনের মায়ের আবেদন করা ভিডিওটি ভাল করে শুনলে বোঝা যাবে যিনি দেবাঞ্জনের মায়ের প্রতিক্রিয়া নিচ্ছিলেন তিনি বার বার কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বাবুলের প্রশংসা করে বলছিলেন কতভাবে তিনি ছাত্রদের বোঝাতে চেযেছিলেন,ছাত্ররা কত উদ্ধ্যত,কটুভাষি।একেবারে বাবুলের পক্ষ নিয়েই যে ভিডিওটি করা হয়েছে তা পুরো ভিডিওটি শুনলে যে কেউই বুঝতে পারবেন।মিডিয়ার একটা অংশ এভাবেই দালালিতে নেমেছে বলে অভিযোগ ইউএসডিএফের।যাদবপুরের ছাত্ররা জানতে চাইছেন মিডিয়া কেন প্রশ্ন তুলছে না,ক্যাম্পাসের মধ্যে কারা ঢুকে মেয়েদের মারধোর করল,কারা ইউনিয়ন রুমে আগুন দিল?একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যে ভাবে য়াদবপুরের মত একটা ঐতিহ্যশালী প্রতিষ্ঠানের উপাচার্যকে জল আনার নির্দেশ দিল,হুমকি দিল তা নিয়ে মিডিয়ার প্রশ্ন কোথায়?ফেক নিউজ ও দালালি করার জন্য এ রাজ্যের অধিকাংশ বড় মিডিয়াকে ধিক্কার জানাচ্ছে যাদবপুরের অধিকাংশ প্রতিবাদী ছাত্র।যাদবপুরের ঘটনায় মিডিয়া যেভাবে পক্ষপাতিত্ব করছে ও রাজ্যের শাসকদলের নেতা বা মন্ত্রীরা  যেভাবে ABVP এর তান্ডব নিয়ে নীরবতা পালন করার ব্রত নিয়েছে তাতে শাসকদলের বিজেপি বিরোধিতার আন্তরিকতা নিয়ে সব মহলেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।