তারুণ্যের স্পর্ধা চেনালেন গ্রেটা থুনবার্গ

0
22

বয়স মাত্র ১৬,কিন্তু কথার ঝাঁঝে সে কাপিয়ে দিয়েছে তাবড় সব রাষ্ট্র নায়কদের।আধুনিক বিশ্বের মাহাক্রমশালী সব রাষ্ট্রনায়কদের চোখে চোখ রেখে সে বলতে পেরেছে,”আপনাদের জন্যই গোটা বিশ্বের পরিবেশ এমন ভয়াবহ বিষ ছড়াচ্ছে।আপনাদের আর্থিক লালসা,আপনাদের শক্তি বাড়ানোর উদগ্র প্রতিযোগিতাই আমাদের শৈশবের সুস্থ সুন্দর পরিবেশকে ধ্বংস করছে।আপনাদের জন্যই আমাদের তরুণ প্রজন্মকে প্রতিদিন বাতাস থেকে নিশ্বাসের সঙ্গে বিষ নিতে হয়।আপনারাই আমাদের সুস্থ-সুন্দর শৈশব কৈশর তারুণ্য চুরি করছেন।আপনাদের জন্য মানুষ ভুগছে করছে,মানুষ মরছে।”হাঁ-এই ভাষাতেই  রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিবেশ সম্মেলনে ভাষণ দিয়ে বিশ্বের তাবড় রাষ্ট্রনায়কদের অপরাধের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল ১৬ বছরের সুডিশ কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গ।গ্রেটা এখন গোটা বিশ্বে পরিবেশ আন্দোলনের প্রধান মুখ হিসেবে চিহ্নিত।গত একবছর ধরে নিজের স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে সে পরিবেশ সচেতনতার আন্দোলন করে চলেছে।পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে ওঠার সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক যে কতটা অমোঘ সে সম্পর্কে গ্রেটার ভাষণ শুনে চমকে গেছে গোটা বিশ্ব।কাউকে রেয়াত করে নি গ্রেটা,সপাটে বলেছেন রাজনীতিকদের মিথ্যাচার পরিবেশকে দূর্বিষহ করে তুলেছে।রাজনীতিকরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেন,কিন্তু তা তারা রক্ষা করেন না।মুথে পরিবেশ রক্ষার নানা পরিকল্পনা আর কার্যত অর্থনৈতিক গ্রোথের জন্য এমন এমন কাজ প্রতিনিয়ত করে যাওয়া হয় যা পরিবেশকে তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলতে বাধ্য করে।গ্রেটা সমস্ত রাষ্টনায়কদের সামনে উদ্ধত স্বরে উচ্চারণ করতে পেরেছেন,”এনাফ ইজ এনাফ!এবার বন্ধ করুণ এই দ্বিচারিতা।মানুষকে বাঁচতে দিন,আমাদের শৈশবকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বেড়ে উঠতে দিন।আমরা যুদ্ধ চাই না,ক্ষমতা চাইনা আমরা শুধু সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ চাই।সুন্দর একটা পরিবেশে জীবনকে উপভোগ করতে চাই।”পরিশেষে গ্রেটা সমস্ত রাষ্ট্রনায়কদের কাছে আবেদন রেখেছেন তারা যেন তাঁদের আর্থিক লালসা আর ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা থেকে সাধারণ মানুষকে অব্যাহতি দেন।গ্রেটা থুনবার্গের তারুণ্যের স্পর্ধাজনিত বাক্যবাণে স্তব্ধ হয়ে যায় রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিবেশ সম্মেনলে উপস্থিত হওয়া সমস্ত দর্শককূল।কথা হারিয়ে ফেলেন মহাপরাক্রমি সব রাষ্ট্রনায়করাও।

আনুগত্যহীনতা ও সত্য উচ্চারণের স্পর্ধাই তারুণ্যের প্রাণভোমরা।তাই তো সে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে পারে,তাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।গ্রেটা থুনবার্গ বোধহয় সেটাই আবার মনে করিয়ে দিল।তারুণ্যের উচ্ছলতা,তার আনুগত্যহীনতাকে যাঁরা বেয়াদব আচরণ বলে গণ্য করে জ্যাঠামি দেখান,সেই বুড়ো হাবড়ার দল বরং গ্রেটা থুনবার্গের স্পর্ধাকে একবার স্পর্শ করার চেষ্টা করে দেখতে পারেন,দেখবেন ন্যূজ্ব হয়ে আসা,বেঁকে যাওয়া মেরুদন্ডটা হয়তো একটু জোর পাবে।মেরুদন্ডে জোর আসলে হয়তো এদেশেও যাদবপুর বা জেএনইউতে  কেউ ক্ষমতার চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করলে তাদের পাশে দাঁড়াবার তাদিগ অনুভূত হবে।ক্ষমতা হয়তো তখন একতরফা ছোড়ি ঘোরাতে থমকে দাঁড়াবে।সেই প্রত্যাশা থেকেই আমরা গ্রাটার স্পর্ধাকে,তাঁর সাহসকে ছুঁতে চাই।তাঁর অনুভূতির রঙে নিজেদের হৃহয়কে রাঙিয়ে নিতে চাই।আমাদের প্রতিদিন মেনে নেওয়া,মানিয়ে নেওয়া আর আপসি জীবনের ঠিক উন্টো দিকে দাঁড়িয়ে গ্রেটা থুনবার্গ নামের এক তারুণ্যের স্পর্ধা।চলুন ছুঁই,দেখি শরীরে শিহরণ আসে কীনা!!