প্রতিবাদের মশাল জ্বালিয়ে রাখার জন্য যাদবপুরকে অভিবাদন গানওয়ালার

0
1062

“আমরা পারি নি ওরা পেরেছে।ওরা পেরেছে বাছবিচারহীন ভাবে অসংখ্য মানুষকে বেনাগরিক করে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ধ্বণিত করতে।ওরা পেরেছে কাশ্মীরের মানুষকে মাসের পর মাস অবরুদ্ধ করে রাখার আয়োজনের যারা হোতা তাদেরই এক সহযোগীকে কয়েক ঘন্টা অবরোধ করে রাখতে।ওরা বুঝিয়ে দিতে পেরেছে একতরফা সবকিছু হবে না,পাল্টা প্রতিরোধের জায়গাও তৈরি হচ্ছে।তাই ওদের আমি অভিবাদন জানাই।”যাদবপুরের ছাত্রদের প্রতিবাদকে এই ভাষাতেই সমর্থন করলেন গানওয়ালা কবীর সুমন।বললেন, কেউ কেউ অতি সাবধানি হতে চাইছেন তাই হয়তো কারোর কারোর মনে হচ্ছে এভাবে প্রতিবাদ না করলেই হত।তবে পরিস্থিতি বলছে এখন সাবধানি হবার সময় নয় সাহস দেখানোর সময়।সাহস বুড়ো হাবড়াদের থাকে না,থাকে নবীনদের তাই ওরা যা করেছে ঠিক করেছে।কবীর সুমনের মতে বাবুল সুপ্রিয় যে অসভ্যতা ও কদর্য ব্যবহার যাদবপুরের ছাত্রদের সঙ্গে করেছে তাতে তাঁদের সময়কার যাদবপুর হলে তাঁর ওই ক্যাম্পাস থেকে বেড়িয়ে আসা দুষ্কর হত।এখনকার ছাত্ররা ভাল বলতে হবে যে তাঁকে অল্পতে রেহাই দিয়েছে বলে মনে করেন কবীর সুমন।

এদিন সাতদিনডটইনকে কবীর সুমন বলেন,অনেকদিন ধরেই মনে হচ্ছিল চারপাশে কতকিছু ঘটছে অথচ কোখাও কোন প্রতিবাদ নেই।কেন্দ্রের শাসক দল যেন দেশটাকে ওদের খাসতালুক ভেবে নিয়ে যা খুশি তাই করে যাচ্ছে।একে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিচ্ছে,ওকে দেশদ্রোহী বানাচ্ছে,আইন পাল্টে যা খুশি তাই করে যাচ্ছে।মনে হচ্ছিল যেন দেশ প্রতিবাদ ভুলে গেছে,প্রতিরোধ ভুলে গেছে।যাদবপুর দেখিয়ে দিল প্রতিবাদ আছে,প্রতিরোধ আছে নবীনদের মধ্যে।যারা ওদের বাচ্চা বলছেন তাদের তিনি করুণা করেন বলে জানিয়ে কবীর সুমন বলেন নবীনরাই পথ দেখায়,ওদের পথেই সবাইকে চলতে হবে।নিজেকে বিজেপি বিরোধী বলে ঘোষণা করে কবীর সুমন বলেন জনপ্রতিনিধিত্ব করা মানে কোন দলের পক্ষে থাকা নয়।তিনি যখন সাংসদ ছিলেন তখন দলীয় পতাকা বাদ দিয়েই এলাকার উন্নয়নে এগিয়ে যেতেন।বাবুল সুপ্রিয় যে ভাবে যাদবপুরে ছাত্রদের দ্বারা ঘেরাও হয়ে বার বার নিজেকে মিনিস্টার বলে দাবি করছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল যেন তিনি কোন রাজা-উজির,তিনি ধরা ছোঁয়ার বাইরে।আদপে বিষয়টা হল মন্ত্রীও একজন জনপ্রতিনিধি,তিনিও সাধারণ মানুষের কথা তাদের ক্ষোভ শুনতে বাধ্য।বাবুল যে ভঙ্গি ও ভাষায় কথা বলছিল তাতে ছাত্ররা ওর সঙ্গে একেবারে ঠিক ব্যবহার করেছে।যার যা প্রাপ্য তাঁকে তাই দেওয়া উচিত।কবীর সুমন বলেন কোন রুচিতে একজন জনপ্রতিনিধি একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে জল নিয়ে আসার নির্দেশ দিতে পারেন!যিনি শিক্ষা দিক্ষায় এতটা নিম্ন তাঁকে কী সম্মান দেবে যাদবপুরের ছাত্ররা?

কবীর সুমনের অভিযোগ বাবুলের সঙ্গে তাঁর কোন ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই।তিনি প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়াবার সময় তাঁর সঙ্গে কিছু তৃণমূলের কর্মী খারাপ ব্যবহার করেন,কবীর সুমনের দাবি তিনি তার প্রতিবাদ করেছিলেন।কিন্তু পরের দিকে যাবতীয় সৌজন্য ও ভদ্রতা ত্যাগ করে বাবুল তাঁর নাম নিয়েও বিদ্রুপ করতে থাকেন।তাঁর মতে মুসলিম বিদ্বেষ এঁদের মজ্জাগত,সেই সূত্রেই এঁরা অমানবিক ও সংবেদনশূণ্য।এঁদের অমানবিকতা ও সংবেদনহীনতার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে যাদবপুর,প্রতিবাদের মশাল জ্বালিয়ে রেখেছে যাদবপুর তাই অভিবাদন তাঁদের প্রাপ্য।যাদবপুর প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের বার্তা দিল এখন সেই বার্তাকে দিকে দিকে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান দিচ্ছেন নাগরিক কবিয়াল।তার জন্য যদি তাঁকে জেলে যেতে হয় তাতেও পরোয়া নেই বলে জানাচ্ছেন সত্তর পেরিয়ে যাওয়া ‘রাগী যুবক’।